আবু নছর আব্দুল হাই ছিদ্দেকী, টিডিএন বাংলা : নতুন ভারতের স্বপ্ন দেখতে দেখতে কেটে গেল মোদী জমনার তিন বছরের ও অধিক। ফের দরজার সামনে এসে গেছে পরবর্তী লোকসভা, মানে ২০১৯ ভোট। এই তিন বছরের বেশি রাজত্ব কালে অনেক কিছু শিখতে ও দেখতে পেয়েছেন ভারতবাসী। যেমন ২০১৪ ছিল মেইক ইন ইণ্ডিয়া এবং স্বচ্ছ ভারত, ২০১৫-তে ছিল স্টার্ট আপ ও স্ট্যান্ড আপ ইণ্ডিয়া, ২০১৬-তে ডিজিটাল ইণ্ডিয়া, ২০১৭- তে নোট বন্দি, তারপর সাম্প্রদায়িক হানাহানি আরো ওনেক কিছু। যাইহোক ২০১৪ সালে এক অদ্ভুত অনুকূল পরিস্থিতির জোয়ারে ভেসে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় এসেছিল। কারণ এর আগে টানা ১০ বছর ইউপিএ সরকার ছিল, তখনকার সরকারের অবাধ দূর্ণীতির ফলে তাদের বিরুদ্ধে ভারতবাসীর মন আলোড়িত ছিল।

 

সেই সময় দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা, মূল্যবৃদ্ধি, সীমাহীন বেকারত্ব ইত্যাদি বিভিন্ন কারণের জন্য শাসকদের বিরুদ্ধে ভারতবাসীর ক্ষোভের মাত্রাকে দ্রুত বাড়িয়ে ছিল। এমন এক পরিবেশের মধ্যে আবির্ভাব হয়েছিল নরেন্দ্র মোদী নামের এক ব্যাক্তির, আর সঙ্গে ছিল প্রচারের আলো ও তিন তিন বারের গুজরাতের মূখ্যমন্ত্রীত্ব। তাতে চোখ ধাঁধিয়ে গিয়েছিল আম-ভারতবাসীর, আছন্ন হয়ে গিয়েছিল তাদে মস্তিষ্ক, চমকিত হয়েছিল সত্ত্বা। ভারতবাসী ভেবে ছিল ভারতীয় রাজনীতিতে এমন পুরুষ বহুকাল দেখা হয়নি। মনে হয়েছিল জনগণের দূর্বিসহ বিদায় দিয়ে তাদের জীবনে এক নতুন আলোর সঞ্চার করবেন। আর তখন ভারতবাসীর চোখের সামনে রাখা হয়েছিল নানা ধরণের প্রতিশ্রুতির বন্যা, আর সহজ সরল ভারতবাসী স্বপ্ন দেখেছিল কালো টাকা বিদেশ থেকে ভারতে আসবে আর প্রত্যেক ভারতীয়দের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পৌছবে ১৫ লক্ষ টাকা, দ্রব্যমূল্য হ্রাস হবে, বছরে দু’ কোটি চাকুরী হবে যাহা উনারা বলেছিলেন, কিন্তু আজ এগুলো দিবাস্বপ্ন ছাড়া আর কিছু না।
নতুন ভারতের স্বপ্ন দেখেছিল আমার মত দেশের কোটি কোটি যুবা। কিন্তু নতুন ভারতের কি এই স্বপ্ন যে, ৬ আগষ্ট থেকে ১১ আগষ্টের মাঝে মানে পাচদিনে গোরক্ষপুরে ৬৪ জন শিশুর মৃত্যু? আমরা এটাই কি নতুন ভারতের স্বপ্ন দেখেছিলাম, আখলাখ, জুনাইদ মত আরো অনেককে মরতে দেখবো বলে? লক্ষ লক্ষ বেকারের সংখ্যা বাড়ছে তার বড় একটি কারণ নোটবন্দী। সেন্টার ফর মনিটরিং দ্য ইণ্ডিয়ান ইকোনমি সাম্প্রতিক গবেষনায় প্রকাশিত হয়েছে যে, ২০১৭ সালের প্রথম চারমাসের মধ্যে দেড় মিলিয়ন অর্থাৎ পনেরো লক্ষ মানুষ চাকুরী হারিয়েছেন, যার বড় একটি কারণ হচ্চে নোট বন্দী।

আমরা কি এই ভারত দেখতে চেয়েছিলাম যেখানে দেশপ্রেমের কাঠগড়ায় প্রত্যেয় দাড় করা হবে সংখালঘুদেরকে। ‘বন্দেমাতরম’ গাইতে না চাইলে সোজাসুজি এ্যান্টিন্যাশন্যাল উপাধি মাথার উপর লাগানো হচ্ছে। আপনারা দেশবাসীকে কথা দিয়েছিলেন দূর্ণিতি মুক্ত দেশ গঠন করবেন। কিন্তু  সত্যিটা এই যে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনেল করাপসন পারসেপসন ইনডেক্স এর বানানো সবচেয়ে কম দূর্নিতিগ্রস্ত দেশের যে তালিকা, তাতে ১৭৫ দেশের নাম আছে, সেই তালিকায় ভারত ৭৯ নম্বর। তারপর ও ভাবছেন দূর্নীতিমুক্ত দেশ গঠন করছেন। সত্যি হাস্যকর!

এক এক করে কেটে গেল তিন বছরের ও বেশী, কিন্তু আজও সব কিছু ধোয়াসা। খবরের কাগজের পাতায়, টেলিভিষনের পর্দায় ভারতের আমজনতা দেখল বড় বড় কথা গুলো, গর্বিত হল। কিন্তু সেইসব প্রতিশ্রুতি, সেইসব আকাশবানী আজ কি হল? আজও এক আধলাও কালো টাকা দেশে ফেরেনি? কারো অ্যাকাউন্টে ১৫ লক্ষ টাকা ঢোকেনি। বেকারদের চাকুরী হয় নি, জিনিষপত্রের দাম কমেনি। দেশে কৃষকদের আত্মহত্যা করতে হচ্ছে জলোচ্ছাসের মতো – তার কি কোন  উত্তর আছে? উদ্বেগ বেড়েছে দেশের সর্বত্র, জীবনের উদ্বেগ ও জীবিকার উদ্বেগ।

 

আজ গোটা দেশের সংখ্যালঘুদের মধ্যে একটা ভয় ঢুকে গিয়েছে কি জানি জুনাইদের মত পিটিয়ে হত্যা করা হবে? দেশের বেশিরভাগ জিনিষে জিএসটি দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। সিলিন্ডার থেকে শুরু করে সব যাবতীয় বস্তুর দাম আকাশ ছোয়া। কি হয়েছে গরীবের, কি উন্নতি হয়েছে কৃষকের?  তারপরও সরকার বলছে ‘আচ্ছে দিন’ এসেছে।

Advertisement
mamunschool