তিয়াষা গুপ্ত, টিডিএন বাংলা : কুম্ভমেলায় গিয়ে সাফাই কর্মীদের পা ধুয়ে দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ট্যুইটারে এএনআই প্রকাশিত ভিডিও-য় দেখা যাচ্ছে সার দিয়ে চেয়ারে বসে আছেন সাফাই কর্মীরা। মোদী নিচে বসে সযন্তে তাঁদের পা ধুয়ে দিচ্ছেন। এবার কুম্ভের ক্যাচ লাইন – `স্বচ্ছ কুম্ভ, সুরক্ষিত কুম্ভ’। ফলে স্বচ্ছতার বার্তা দিতেই কি মোদীর এই পদক্ষেপ? প্রশ্ন উঠছে, এ নিছক চমক নয় তো? একইসঙ্গে এদিন সাফাই কর্মীদের সম্বর্ধনাও দেওয়া হল। আগে রাফালে থেকে কৃষক সমস্যা নিয়ে বেশ ল্যাজে গোবরে হয়েছেন মোদী। তার ওপর আবার খাঁড়ার ওপর মরার ঘা-`সন্ত্রাসবাদ’। ফলে এই বাতাবরণে এটা কি মোদীর আরো একটি চমকের নমুনা? কারণ সোশ্যাল মিডিয়ায় এছবি যে ভাইরাল হবে, তা মোদী ভালোই জানেন।

সংবাদ সংস্থা এএনআই জানাচ্ছে, মোদী গোরক্ষপুরে কিষাণ প্রকল্পের সূচনা করার পর কুম্ভমেলায় যান। সেখানে গিয়ে তিনি সাফাই কর্মীদের নিপুণ সেবায় পা ধুয়ে দেন। তারপর প্রয়াগে পুণ্যডুবস্নান। সেই ছবিও ট্যুইটারের মাধ্যমে সামনে এসেছে।

সাধু-সন্ত, পুণ্য এসব তো বিজেপির অনুসঙ্গ। কুম্ভের ডুবস্নান হাতিয়ার করে বিজেপি যে মুক্তির পথ খুঁজবে সেটা স্বাভাবিক। পরের পর রাজনৈতিক নেতারা মত-পথ ভেদে কুম্ভে ডুব দিচ্ছেন। ফলে মোদীর এই পুণ্য ডুবস্নান বিচিত্র নয়। কিন্তু তিনি আসবেন আর চমক থাকবে না, তা হয় নাকি! তাই সাফাই কর্মীদের পা ধুয়ে তিনি যে বার্তাই দিতে চান না কেন, চমকের রসদ এত ভরপুর আছে। এখন প্রশ্ন হল, ২০১৯-এর লক্ষ্যে কুম্ভেই কি মুক্তির পথ খুঁজছে ভারত বিধাতা? রাজনীতি, কূটনীতি-এসব কি এখন কুম্ভের জলে সমর্পিত হল?

হিন্দুত্ব, সাধু-সন্ত, রথ, খোল-করতাল এসবই কি  এখন রাজনৈতিক নেতাদের পরিত্রাণের পথ? কিন্তু এ কোনোদিনই সনাতন ভারতের চিরায়ত ঐতিহ্য নয়। কুম্ভ মেলাকে ঘিরে যে ছবি সারা বিশ্বের সামনে স্পষ্ট হচ্ছে, তা কখনই সনাতন ভারতের একমাত্র ঐতিহ্য নয়। এটা ভারতের কেবল একটা দিক হতে পারে, সামগ্রিক ছবিটা অনেক ব্যাপ্ত।

এদেশ হিন্দু রাষ্ট্র নয়। বহুত্ববাদ ভারতের রন্ধ্রে রন্ধ্রে। সনাতন ভারতের অন্তরাত্মায় নিহিত আছে সমন্বয়বাদের আদর্শ। হিন্দুত্বের পাশাপাশি এদেশে অন্যান্য ধর্মের সমান অধিকার। এই ঐতিহ্যই ভারত চিরকাল বয়ে নিয়ে বেড়াচ্ছে। এখন এর ব্যতিক্রম হবে কেন?