তিয়াষা গুপ্ত, টিডিএন বাংলা: লোকসভা ভোটের আগে কাশ্মীরে এসে দরাজ প্রধানমন্ত্রী মোদী। ঢালাও ঘোষণা, একের পর এক প্রকল্প উদ্বোধন। ভোটের আবহে এটাই তো দস্তুর। কিন্তু একইসঙ্গে কাশ্মীরি পণ্ডিতদের আবেগ ছোঁয়ার চেষ্টা করলেন মোদী। তাঁর কথায়, কাশ্মীরি পণ্ডিতদের অধিকার রক্ষা করতে তাঁর সরকার
প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। একইসঙ্গে বলেন, দেশ ভুলবে না, হিংসার আবর্তে তাঁরা নিজ ভূমে উচ্ছেদ হয়েছিলেন।

এখানে একটা বড় অংশ কাশ্মীরি পণ্ডিত। তাই তাঁদের উপেক্ষা করার সাহস দেখালেন না মোদী। বাজেটে কৃষকদের জন্য যে প্যাকেজ ঘোষণা হয়েছে, তাই নিয়েও এদিন সওয়াল করেন মোদী।

একইসঙ্গে বিরোধীদের আক্রমণ করে বলেন, ঠাণ্ডা ঘরে বসে এই টাকার মূল্য বোঝা সম্ভব নয়। এদিন উপত্যকায় দাঁড়িয়ে কার্তারপুর করিডরের প্রসঙ্গ টেনে আনলেন মোদী। তাঁর কথায়, আগের
সরকার এই আবেগের মূল্য দেয়নি। খুব বেশিদিন আগের ঘটনা নয়। নয়াদিল্লিতে এক অনুষ্ঠানে মনমোহন সিংয়ের সামনেই মোদী বলেন, কার্তারপুর করিডর ১৯৪৭ এর ভুলের প্রায়শ্চিত্ত। এরপর মোদী বলেন, ১৯৪৭ সালের আগস্টে একটা ভুল হয়ে গেছে। কার্তারপুর করিডর সেই ভুলের মাসুল। কিছু দূরেই আমাদের শিখ গুরুর সেই পবিত্র স্থান। এখন তা আর ভারতের মধ্যে ফিরে পাওয়া যাবে না। এই করিডর ড্যামেজ কন্ট্রোলের চেষ্টা মাত্র। তখন সামনে দর্শকাসনে মনমোহন সিং।

গত বছর ২২ নভেম্বর মোদীর নেতৃত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠকে করিডর তৈরির বিষয়টি অনুমোদন করা হয়। এরপর ২৬ নভেম্বর ভারতের দিকে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। এর ঠিক ২ দিন পর পাকিস্তানও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করে। উদ্দেশ্য ২ দেশের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্কের সেতুবন্ধন। কার্তারপুর করিডর কি বন্ধুত্বের সাঁকো হয়ে উঠতে পারবে? মোদী ভোটের আবহে সেই আবেগ ছুঁয়ে দেখার চেষ্টা করলেন। এর পেছনে রাজনৈতিক ইকুয়েশন কী আছে, তা নিয়ে জল্পনা চলতেই থাকবে, তবে সেতুবন্ধনে মোদী যে অগ্রণী ভূমিকা নিয়েছেন, তা বলাই যায়। মোদী এদিন একগুচ্ছ প্রকল্প উদ্বোধন করেন। সড়ক পরবহণ ও রাস্তাঘাটের উন্নয়নের জন্য কাশ্মীরে ৪০ হাজার কোটি টাকার প্যাকেজ ঘোষণা করলেন মোদী। বিজয়পুরে গিয়ে ডোগ্রি ভাষায় বক্তৃতা দেওয়া শুরু করেন মোদী। মানুষের মন পেতে এর চেয়ে ভালো কৌশল আর কী হতে পারে!

লোকসভা ভোটের আগে উপত্যকায় এসে মোদী যে ঝুলি উপচে দিলেন, তা বলাই যায়। রাজ্যে একইসঙ্গে তৈরি হচ্ছে ২টি এইমস। পাশাপাশি লাদাখে খুলছে একটি বিশ্ববিদ্যালয়। জম্মুতে রিমোট কন্ট্রোলের মাধ্যমে একাধিক প্রকল্পের উদ্বোধন করেন মোদী। শ্রীনগরের দাল লেকেও যান তিনি। মোদীর সফর ঘিরে কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল ইন্টারনেট ও মোবাইল পরিষেবা। বিচ্ছিন্নতাবাদীরা বনধ ডেকেছিল। যাতে কোনো বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি না হয়, তার জন্য সজাগ ছিল নিরাপত্তারক্ষীরা। মুফতি সরকারের ওপর থেকে বিজেপি সমর্থন তুলে নেওয়ার পর এই প্রথম ভূস্বর্গের মাটিতে পা রাখলেন মোদী। কাশ্মীরে এরপর রাজ্যপালের শাসন জারি হয়। পরে রাষ্ট্রপতির শাসন জারি হয়। বিজেপি সমর্থন তুলে নেওয়ার পর টালমাটাল
পরিস্থিতির তৈরি হয় উপত্যকায়। তাই ভোটের আবহে এখানে মোদীর আসা জরুরি মনে করেছিল বিজেপি। গতকাল বাংলায় এসেছিলেন মোদী। এই

বাংলা লোকসভায় বিজেপির কাছে পাখির চোখ। তবে কাশ্মীরও রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ, তাই ভোটের ঢাকে কাঠি পড়তেই উপত্যকায় পা রাখলেন মোদী।