courtesy: the Indian Express
MD Nuruddin
মুহাম্মদ নুরুদ্দীন

মুহাম্মদ নূরুদ্দীন, টিডিএন বাংলা: আবার কলকাতায় এসে হাওয়া গরম করে গেলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ । স্বভাব সুলভ ভঙ্গিতে তিনি আবারও বললেন, যেসকল শরণার্থী ভাই এদেশে আশ্রয় নিয়েছে তাদের কোন চিন্তা নেই। আমরা খুঁজে খুঁজে এক এক করে সব অনুপ্রবেশকারীকে বের করব আর তাদেরকে এখান থেকে তাড়াবো। তিনি দাবী করলেন, অন্যান্য রানৈতিক দল গুলি সংকীর্ণ রাজনীতি করছে, তারা মানুষকে ভুল বোঝাচ্ছে। আমি আপনাদের আশ্বাস দিতে এসেছি, অন্য দেশ থেকে আসা শরণার্থীদের কোন ভয় নেই। হিন্দু ,বৌদ্ধ, শিখ , খ্রিস্টান ,জৈন সকলের জন্য এদেশের দরজা খোলা, ঠাঁই হবেনা শুধু ঘুসপেটিয়াদের।
তিনি সিপিএম তৃণমূল উভয়কে সমালোচনা করে বলেন, অনুপ্রবেশ কারীরা যখন সিপিএমকে ভোট দিত তখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পার্লামেন্টে এনআরসি নিয়ে সরব ছিলেন। তিনি এন আর সি চালু করার জোরালো দাবী তোলেন। আজ যখন সেই ভোটাররা তৃণমূল কংগ্রেসকে ভোট দিচ্ছে তখন দিদি এন আর সির বিরোধিতা করছে।

অমিত শাহর এই বক্তব্য গুলি হয়তো সাধারণ মানুষকে মোহিত করবে। কিন্তু একটু চোখ কান খোলা রাখলে বোঝা যাবে আসলে সাম্প্রদায়িকতার টনিক খাইয়ে তিনি কীভাবে মানুষকে ধোকা দিচ্ছেন। বাস্তব অভিজ্ঞতার নিরিখে সবাই জানে পাকিস্তান বা বাংলাদেশ থেকে দলে দলে মুসলমানরা ভারতে আসেনি, এসেছে হিন্দু ভাইয়েরা। তাহলে অমিত শাহ তাড়াবেন কাদের? তিনি আইনের ভাষায় বলে দিচ্ছেন শরণার্থীরা থাকবে তাদের কোন ভয় নেই। কিন্তু কে শরণার্থী আর কে নয় সেটাই বা ঠিক হবে কোন নিরিখে? আইন বলে, তারাই শরণার্থী যারা এদেশে থাকার জন্য আইনানুগ আবেদন করে ছিলেন। ভারতে এ রকম শরণার্থীর সংখ্যা নাকি প্রায় একত্রিশ হাজারের মত আছে।তার মধ্যে বাঙালি নেই বললেই চলে।

শুধু মুসলমান নয়, মুসলমানদের পাশাপাশি দলিত ,আদিবাসী,মতুয়া, ও গরীব সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষদেরকে দেশ ছাড়া করার টার্গেট করেছে বা কমপক্ষে তাদেরকে দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক হিসেবে রেখে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। অমিত শাহের ঝুলির বিড়াল বের হয়ে গিয়েছে তার বক্তব্যের দ্বিতীয় অংশে। তিনি হয়ত ভোট ব্যাংকের কথা বলে সিপিএম , তৃণমূলকে চাপে রাখতে চেয়েছিলেন। ভেবে ছিলেন এভাবে তিনি সহানুভূতি কুড়াবেন কিন্তু তাঁর এই কথা তাদের জন্য বুমেরাং হতে পারে। সকলেই জানে, যে ভোট ব্যাংকের ইঙ্গিত অমিত শাহ করেছেন তারা কারা? কোটি কোটি রিফিউজি ভোটারদের মধ্যে চিরুনি তল্যাসি করেওকি দু এক জন মুসলমান খুঁজে পাওয়া যাবে? তাহলে কারা টার্গেট তা সহজেই অনুমেয়।
হ্যাঁ, মায়ানমার এর সাম্প্রতিক সংকটের কারণে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের মতো কিছু রোহিঙ্গা শরণার্থী এদেশে আছে। তাঁদের সংখ্যাতো তেমন উল্লেখ যোগ্য নয়। আবার তাদের কাছে জাতিসংঘের পরিচয় পত্র আছে। ভারত সরকার জানে এদেশে কত রোহিঙ্গা আছে। তারা এখানকার ভোটারও নয়, সে দাবীও তারা করেনা।
তাহলে বিজেপি কাকে টার্গেট করছে?বুঝতে কি অসুবিধা হচ্ছে? এর পরেও কী অমিত শাহের কথায় আস্থা রাখা যাবে?