মোকতার হোসেন মন্ডল, টিডিএন বাংলা : এই মাসে আপনার দায়িত্ব কী ? এই রোজা সম্পর্কে হিন্দু, মতুয়া, আদিবাসী, খ্রিস্টান, বৌদ্ধ সহ সকল অমুসলিম ভাই বোনদের  জানানো আপনার দায়িত্ব। আসলে ইসলাম নিয়ে তাঁরাই ভুল বকেন যাঁরা গোটা কুরআন ও হাদিস এবং এর আধুনিক ব্যাখ্যা পড়েননি। তাঁরা হয়তো কোনো পত্রিকা, কোনো ব্লগ বা কারো মুখ থেকে ইসলামের কিছু শুনে ভাবছেন-ইসলাম খুব জটিল বিষয়। যে কোনো পন্ডিত এবং সচেতন মানুষ মাত্রই জানেন, ব্রিটেন ও আমেরিকার মানুষ পৃথিবীর মধ্যে সব চেয়ে বেশি ইসলাম সম্পর্কে জানতে আগ্রহী। কিন্তু আমাদের ভারত সহ দক্ষিণ এশিয়ার মানুষ ইসলাম নিয়ে পড়তে চায়না অথচ ইসলামের বিরোধীতা করে। আসলে পবিত্র কুরআন মুসলিদের ধর্ম গ্রন্থ নয়। ইসলাম ও পবিত্র কুরআন সবার জন্য স্রষ্টার পাঠানো জীবন বিধান। এই রোজায় মুসলিদের দায়িত্ব হল হিন্দু ভাই বোনেদের সাথে সুসম্পর্ক মজবুত করা। কাছাকাছি বসে ভুল গুলি শুধরে দেওয়া। কাউকে অপমান করার উদ্দেশ্য নিয়ে চললে সে মুসলিম হতে পারবেনা। একে অপরকে জানতে হিন্দু ভাইদের নিয়ে ঈদ প্রীতি করুন। রমজানের উপবাস, এর গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করুন। আধুনিক প্রাঞ্জল ভাষায় লিখিত বাংলা ইসলামী বই দিন।মসজিদ, নামাজ, আজান, ঈদ, জাকাত নিয়ে সহজ ভাষায় কথা বলুন। দেশীয় ঐক্য, সংহতি, মানুষের সুখ দুঃখ, সমাজ, সরকার নিয়ে ভাবুন ও ভাবতে বলুন। একজন মুসলিমকে অবশ্যই হিন্দু ভাই বোনের সাথে মিত্রতা গড়ে তুলতে হবে। মনে রাখতে হবে, রক্তের সম্পর্কে আমরা সবাই ভাই বোন। আমাদের দায়িত্ব তাঁদের পাশে থাকা। এক মাস রোজা করবেন, নামাজ পড়বেন, ঈদ করবেন আর পাশের হিন্দু, খ্রিস্টান ভাইটি কিছুই জানবেননা-এটা চরম স্বার্থপরতা।
যে রাসুল (সা)নিজের খাবারকে তুলে দিতেন অভূক্তের হাতে, নিজে থাকতেন অভুক্ত! তাঁর উম্মত হয়েও কেন আমাদের নিজেদের ভূরিভোজনের সময় পাড়া পড়শী (অনেকের তো আবার নিজের বাবা-মা, ভাই-বোন পর্যন্ত!) অভূক্ত থাকে, তারও জবাব দিতে হবে বৈকি।
দিতে হবে, কারণ, রোজা ও ঈদ এসেছিল এইসব অসঙ্গতিকে দুর করতে। আজ যখন আমরা ঘটা করে ইফতার করি, সাড়ম্বরে ঈদ পালনে ব্যস্ত, তখন সেই রোজার, ঈদের আর্থসামাজিক, মনস্তাত্বিক, নৈতিক ও আদর্শিক শিক্ষা কেন সমাজে প্রতিফলিত হলো না? তার জবাব দেবার দায়ও আমাদেরই। এ থেকে কোনমতেই নিস্তার নেই।⁠⁠⁠⁠