তিয়াষা গুপ্ত, টিডিএন বাংলা: প্রার্থী তালিকা থেকে প্রচার- সবেতেই এগিয়ে তৃণমূল। ইতিমধ্যে জেলায় জেলায় প্রচারে ঝড় তুলছেন তৃণমূল প্রার্থীরা। কলকাতাতেও একই ছবি। পিছিয়ে থেকে শুরু করেও আংশিক প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করে দিয়েছে বাম ও কংগ্রেস। বাম প্রার্থীরাও প্রচারে নেমে পড়েছেন। পশ্চিমবঙ্গে লড়াইটা ছিল দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানের জন্য। প্রথমে মনে করা গিয়েছিল, বাংলাকে পাখির চোখ করে এগোচ্ছেন মোদী-শাহরা। কিন্তু এখনও বিজেপি প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করতে পারল না। যতদূর শোনা যাচ্ছে, বঙ্গ বিজেপির সঙ্গে দিল্লির সহমত হচ্ছে না। এর ফলে আতান্তরে বঙ্গ বিজেপি। বারবার বৈঠক করেও জটলিতা কাটেনি। এর পরে শুরু করেও দ্বিতীয় স্থানে উঠে আসা কি সম্ভব হবে বিজেপির পক্ষে?

রাজ্য বিজেপির সভাপতি বলছেন, ওস্তাদের মার শেষ রাতে। চমক অপেক্ষা করছে। যতই চমক থাকুক, এখনো প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করতে না পারায় তাঁদের যে ভালোরকম সমস্যায় পড়তে হবে, তা ভালোই জানেন দিলীপরা।

কারণ, প্রথম দফায় বাংলার যে দুই আসনে ভোটগ্রহণ হবে, সেই আলিপুরদুয়ার এবং কোচবিহার কেন্দ্রের প্রার্থীদের হাতে মনোনয়ন জমা দেওয়ার বেশি সময় নেই। আজ অর্থাৎ বুধবার যদি ঘোষিত হত প্রার্থীদের নাম, তা হলে মনোনয়ন জমার কাজ কিছুটা অন্তত এগিয়ে রাখা যেত। সে কথা মাথায় রেখে এ দিন বিকেলের আগেই প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করার জন্য কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের উপরে চাপ বাড়িয়েছিলেন বঙ্গ বিজেপির নেতারা।

মঙ্গলবার রাতে দিল্লিতে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দীর্ঘ বৈঠক হয় বিজেপির নির্বাচন কমিটির। কিন্তু বাংলার নেতাদের সঙ্গে আলাদা করে বৈঠকে বসার সুযোগ কেন্দ্রীয় নেতারা পাননি। তাই বাংলার প্রার্থী তালিকার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো যায়নি। বুধবার আসরে নামেন অমিত শাহ। বিজেপি সূত্রের খবর, প্রথম তিনটি দফায় বাংলার যে ১০টি আসনে ভোটগ্রহণ হবে, এ দিন সেই আসনগুলি নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

প্রত্যেকটি আসনের জন্য ৪ জন করে প্রার্থীর নামের তালিকা তৈরি করে সর্বভারতীয় সভাপতির সামনে পেশ করেছে বঙ্গ বিজেপি। কেন ৪ জন? বিজেপি সূত্রের খবর, রাজ্য বিজেপির শীর্ষনেতাদের মধ্যে মতানৈক্য ছিল প্রার্থী বাছাই নিয়ে। রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ বা সঙ্ঘের পছন্দের প্রার্থীকে কোনও কোনও ক্ষেত্রে মেনে নিতে চাননি কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক কৈলাস বিজয়বর্গীয় বা রাজ্য বিজেপির নির্বাচন ব্যবস্থাপনা কমিটির আহ্বায়ক মুকুল রায়। কোনও কোনও ক্ষেত্রে আবার রাজ্য নেতৃত্বের পছন্দের সঙ্গে মেলেনি কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের মতামত। তাই চূড়ান্ত বৈঠকের আগে প্রত্যেক আসনের জন্য ৪ জন করে প্রার্থীর নামের তালিকা তৈরি করতে হয়েছে।

প্রথম দফায় ভোট হবে আলিপুরদুয়ার এবং কোচবিহার আসনে। তার পরের দফায় দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি এবং রায়গঞ্জে। আর তৃতীয় দফায় ভোট হবে বালুরঘাট, উত্তর মালদহ, দক্ষিণ মালদহ, জঙ্গিপুর ও মুর্শিদাবাদে। যত দ্রুত সম্ভব এই ১০ আসনের প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করার জন্য বিজেপি নেতৃত্ব তৎপর হয়েছেন বলে খবর। কিন্তু যতদূর জানা যাচ্ছে, এদিনও কোনো রফাসূত্র বেরোয়নি।

তাহলে প্রশ্ন হল মোদী-শাহরা বাংলাকে এত গুরুত্ব দিলেন, অথচ প্রস্তুতির এত অভাব! আগাম প্রস্তুতি ছাড়াই মাঠে নামার কথা বলছেন দিলীপ ঘোষ? এত দেরিতে শুরু করে বিজেপি দ্বিতীয় স্থানের লড়াইয়ে এঁটে উঠতে পারবে? কারণ বাম-কংগ্রেসও কিন্তু বসে নেই।