সুরাইয়া খাতুন

সুরাইয়া খাতুন, টিডিএন বাংলা : নোবেল হল বিশ্বের সবচেয়ে সম্মানজনক পুরস্কার। সুইডেনের বিজ্ঞানী আলফ্রেড নোবেলের স্মরণে প্রতিবছর পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, চিকিৎসা শাস্ত্র, অর্থনীতি, সাহিত্য ও শান্তিতে এই পুরষ্কার দেওয়া হয়।

আলফ্রেড নোবেল সর্বপ্রথম বিস্ফোরক ডিনামাইট আবিষ্কার করেন। ডিনামাইট বিক্রি করে তিনি প্রচুর অর্থ-সম্পদের মালিক হন। কিন্তু ডিনামাইট যুদ্ধে ব্যবহৃত হচ্ছে এবং এর ভয়াবহতা দেখে তিনি শঙ্কিত হন। বিজ্ঞানের আবিষ্কার যাতে মানুষের কল্যাণে ব্যবহৃত হয়, সে লক্ষ্যে বিজ্ঞানীদের উদ্বুদ্ধ করতে তিনি পুরস্কার প্রদানের কথা চিন্তা করেন। তাই তিনি তাঁর সম্পদের ৯৪% এই কাজের জন্য উইল করে যান।

১৯০১ খ্রিস্টাব্দে নোবেল পুরস্কার প্রবর্তিত হয়। সারা পৃথিবী থেকে ৩ হাজার বিশেষ ব্যক্তি নোবেল পুরস্কারের জন্য আবেদন করতে পারেন। সেখান থেকে নোবেল কমিটি ৩০০ জনকে নির্বাচন করে এবং ভোটের মাধ্যমে বিজয়ীকে পুরস্কারের জন্য নির্বাচিত করা হয়।

তামিলনাড়ুর বিজেপি সভানেত্রী তামিলসাই সৌন্দরাজন নোবেল (শান্তি) পুরষ্কারের জন্য মনোনীত করেছেন নরেন্দ্র মোদীকে। সৌন্দার্যানের মতে, ‘আয়ুষ্মান ভারত’ বা ‘প্রধানমন্ত্রী আরোগ্য যোজনা’র জন্য নরেন্দ্র মোদীর নোবেল পুরস্কার পাওয়া উচিত।

কিন্তু আমরা জানি, ২০১৮ সালে ভারতে দলিত ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপরে সরকারি মদতে বিভিন্নভাবে অত্যাচার চলছে। একের পর এক দলিত ও সংখ্যালঘু নিধন, মুক্তমণা বুদ্ধিজীবী হত্যা, ব্যাঙ্ক লুঠ সহ একাধিক ভয়াবহ পরিস্থিতি। এসব বন্ধ করতে ব্যর্থ হয়েছে মোদী সরকার। আর তার মাঝে শুধুমাত্র স্বাস্থ্য সুরক্ষা প্রকল্পের সূচনা করার জন্য তাঁকে নোবেল পুরস্কারের জন্য মনোনীত প্রার্থী করা, ঠিক হজম করতে পারছে না জনতা। তাই তামিলসাইয়ের কীর্তিতে দেশজুড়ে উঠছে হাসির রোল উঠেছে। যাকে চাটুকারীতা বলেই মনে করছেন দেশের শুভ বুদ্ধিসম্পন্ন নাগরিকরা। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, ভারত থেকে রাধাকৃষ্ণান ১৮ বার, গান্ধিজী ১৩ বার, সত্যেন্দ্রনাথ বসু ৫ বার, হোমিও ভাবা ৪ বার, ২০১৬ সাল পর্যন্ত ১৮৬ জন মনোনীত ব্যক্তি নোবেল পাননি। প্রধানমন্ত্রীর এই মনোনয়ন গৃহীত হয় কিনা এখন সেটাই দেখার।

Advertisement
mamunschool