MD Nuruddin
মুহাম্মদ নুরুদ্দীন

মুহাম্মদ নূরুদ্দীন, টিডিএন বাংলা: হায় পেহলু খান , তোমাকে তো কেউ মারেনি,তুমি শুধু শুধু কেনো মরতে গেলে।তুমি এতই হিংসুটে, এমন দেশদ্রোহী দেশের বদনাম করতে গিয়ে নিজের প্রাণ পর্যন্ত বিসর্জন দিয়ে দিলে? তোমরা সত্যিই বিপজ্জনক। দেশকে তোমরা একটুও ভালোবাসনা। মিছি মিছি বিদেশের সামনে দেশের মাথা নিচু করতে গিয়ে তোমরা কী না করে বস। গণপিটুনিতে তোমার মৃত্যু হয়েছে এই বদনামটা না দিলে কী তোমার চলতনা? তোমরা সত্যিই অদ্ভুত।

আমাদের রামরাজ প্রতিষ্ঠার রথ যেভাবে গড় গড়িয়ে এগিয়ে যাচ্ছে তাতে তোমাদের সহ্য হচ্ছেনা না? তোমরা মোদী ভাইয়ের সাদা মুখে কালির ছিটা দিতে চাও।নিজের নাক কেটে অপরের যাত্রা ভঙ্গ করতে তোমরা ওস্তাদ। গরু আমাদের মাতা । তোমাকে গরুর পিছে পিছে চলতে দেখে আমাদের ছেলেদের একটু সন্দেহ হয়েছিল । তুমি যে গরুকে এত ভালবাস, গরুকে সন্তান সম লালন কর, গরুর দুধ বিক্রি করে তোমার সংসার চলে এত কিছু কী আর ওরা জানত? ওরা নাহয় রাগের মাথায় তোমাকে একটু চড় থাপ্পড় দিতে চেয়ে ছিল। চ্যাংড়া ছেলে পিলের দল উত্তেজনার মাথায় হয়ত একটু বেশি আঘাত করে ফেলেছে। আজকাল ছোঁড়া রা তো সব ড্রিংক করে থাকে ।একটু ডোজ টা বেশিই দিয়ে ফেলেছে।কিন্তু তাতেই যে তোমার মৃত্যু হয়েছে তার তো কোন প্রমাণ নেই । তোমার মৃত্যু তো হয়েছে হাসপাতালে। তুমি শুধু শুধু দেশের বদনাম করছ। আমাদের সোনার ছেলেদের গায়ে কালির ছিটা দিছছ। মিথ্যা গণ পিটুনির মামলা করতে চাও। এত সহজ নয় বন্ধু অত সহজ নয়। যতই কালি ছিটাও আমাদের গায়ে তা লাগতেই পারবেনা। এই দেখছো না সরকার পাল্টালো আদালতে মামলা দায়ের করা হল। কিন্তু আমাদের গায়ে কেউ আঁচড় লাগাতে পারলোনা। দু চার দিন আমাদের কে আটক করা হয়েছে ঠিকই কিন্তু আমরা সেই আদালতের নির্দেশে কেমন ড্যাং ড্যাং করে বেরিয়ে এলাম। তোমরা কোন অপরাধ না করলেও একুশ বছর জেলের ঘানি টানার পর আদালত তোমাদের বেকসুর খালাস ঘোষণা করে।আর আমরা খুন ,রাহাজানি,গুন্ডামী যাই করি না কেন আমাদের টিকি ছোঁয়ার ক্ষমতা কারো নেই। বলছিলাম না রাম রাজত্বের কথা। হনুমান বাহিনীর গায়ে হাত দিলে কি আর রাম রাজত্ব কোন দিন কায়েম হবে। তাই মিথ্যা রোদন করিওনা ভাই, কেউ তোমাকে মারেইনি। অবশ্য আকাশ থেকে কোন অশরীরী আত্মা নেমে এলে কিই বা বলার আছে। হয়তো তারাই তোমাকে মেরে যেতে পারে।

তোমার ছেলে ইরশাদ! সেতো এক আস্ত বোকা। মিছা মিছি আমাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে। দেখছোনা পুলিশের চার্জশিট কার বিরুদ্ধে গেল? আহারে, তুমিই মরলে আর তোমাকেই না আসামির কাঠ গোড়ায় দাঁড় করিয়ে দিয়ে চার্জশিট দিল পুলিশ।এর জন্য তো ওই ই দায়ী। এতো কথার কী আছে। বাপ মরে গেছে কবর দাও। ঝামেলা মিটে যাবে। নাহ, আবার মামলা করছে, সাংবাদিক ডাকছে , টিভির সামনে বয়ান দিচ্ছে। এত কিছু না করলে কী আর তোমাদের বিরুদ্ধে চার্জশিট যেত ? বেচারির বুদ্ধি না থাক, বাপের প্রতি একটুও মায়া তো থাকতে হয়? মরা বাপটাকে নিয়েও টানা টানি। কেনরে বাবা, হায়াৎ মৌতের মালিক তো আল্লাহ। আল্লার প্রতি তোদের একটুও বিশ্বাস নেই। তুই মামলা মোকদ্দমা করলে কী তোর মরা বাপ ফিরে আসবে? তাহলে কেন এসব নিয়ে টানাটানি?

আর ওই এরশাদের মা জেবুন। বেচারি স্বামী হারিয়ে এমনিতেই দিশা হারা। তার উপর মৃত স্বামী আর ছেলেদের নামে মামলা। রাজনীতির লোকরা তাঁকে নিয়ে রাজনীতি করতে একটুও ছাড়ছেনা। আরে কেউ কী তোমার পাশে দাঁড়াবে? রাজনীতির ফায়দা হাসিল করে সবাই কেটে পড়বে। মামলা মোকদ্দমা করতে যেওনা। এতে কোন ফায়দা নেই। রাম নাম কর আর নিয়তির লিখন মেনে নাও। এর থেকে ভাল আর কিছুই হতে পারেনা।

আরে কংগ্রেস এর মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেহলট এখন হুমকী দিচ্ছে, তারা নাকী তদন্ত করবে। এতদিন কোথায় ছিলে বাপু? যে ঘটনার লোম হর্ষক ভিডিও গোটা বিশ্বকে কাঁপিয়ে দিয়েছে। আদালতে রিপোর্ট পেশ করার সময় পুলিশ সে রেকর্ড পেশ করছেন কী না আগে ভাগে তা দেখার দায়িত্ব কী পরিবর্তিত সরকারের উপর বর্তায়না? আলওয়ার জেলার বেহরুর থানার পুলিশ অফিসার পেহলু খান হত্যার জ্বলন্ত প্রমান স্বরূপ পাওয়া ভিডিও টির আইনি প্রামাণ্য পেতে তার ফরেনসিক পরীক্ষা টুকুও করেনি।এমনকি মৃত্যুর আগে পুলিশ তোমার কাছ থেকে যে বয়ান নিয়েছিল তাও সরকারি খাতায় রেজিস্ট্রেশন হয়ে ছিল ১৬ ঘন্টা পর। পুলিশ অপরাধীদের সন্ধান পেয়েছে,লোকদেখাতে তাদেরকে গ্রেফতারও করেছে কিন্তু তাদের ফোন ডিটেলস নেওয়ার চেষ্টা করেনি, তাদের সেই সময়ে ব্যবহৃত সিম কার্ড হেফাজতে নেওয়ার চেষ্টা করেনি ডাক্তারদের কোন বয়ান রেকর্ড করা হয়নি।

আচ্ছা পেহলু, তুমিই বল, মরে যখন গিয়েইছ তখন এসব নিয়ে টানাটানি করে কী লাভ? পুলিশ যদি অপরাধীদের অপরাধ প্রমান করার পরিবর্তে তাদের অপরাধের চিহ্নগুলি মুছে দিতে মরিয়া চেষ্টা চালায় তাহলে মামলা লড়াই করা যায়? তোমরা আজও বোকা থেকে গেলে। মোরেও তোমাদের বুদ্ধি খুলল না। তা ছাড়া ওই যে বলছিলাম তোমাদের দেশপ্রেমের কথা। সত্যিই তোমরা নিমক হারাম। দেশের খাও আর বিদেশের গুন গাও। তোমরা সত্যিই যদি দেশ প্রেমিক হতে তাহলে তোমার মৃত্যুর এই সামান্য ঘটনা নিয়ে এই ভাবে দেশ বিদেশে আলোচনা হত। এখনো সময় আছে পেহলু এখনো সময় আছে চেপে যাও। পারলে তোমার পরিবারের লোকদের ডেকে বলে দাও তুমি কত ভালো আছ। আরে তোমরা তো আবার মার খেয়ে মরলে শহীদ হয়ে যাও। তাহলে গো সন্তানরা তো তোমাদের উপকার করছে বলো। হয়তো বেচারীরা শহীদের মর্যাদা কী বোঝেনা তাই এমন করছে। তাই বলছিলাম চেপে যাও। মার খাও আর মর, টু শব্দটিও করোনা। জয় গো মাতার জয়। রাম রাজত্ব অমর রহে।