তিয়াষা গুপ্ত, টিডিএন বাংলা : বারবনিতা পল্লির মাটি ছাড়া দুর্গাপুজো হয় না। অথচ দুর্গাপুজোয় বহুদিন ওরাই ছিল ব্রাত্য। শুধু তাই নয় ওরা ব্রাত্য থেকেছে সমাজের সর্বস্তরে। শিক্ষা থেকে সামাজিক কর্মকাণ্ড– সর্বত্র। গতবার পুজোয় অচলায়তন ভেঙে নতুন ট্রেন্ড সেট করেছে কলকাতার অন্যতম রেডলাইট এরিয়া সোনাগাছি। এরা পেরেছে। গতবারের দুর্গাপুজোয় মন্ত্রোচ্চারণ থেকে ঢাকের বোল-সব কাজ একা হাতে করেছেন শিউলি, সীমারা। নারী দিবসে এখান থেকে হবে না কেন নতুন দিনের সূর্যোদয়?
দুর্গাপুজোর নিয়ম কানুন-আচার অনুষ্ঠান এতো এক চেটিয়া পুরুষের অধিকার ছিল। চিরকালীন এই নিগড় ভেঙেছে সোনাগাছি। এদের পাশে থেকেছে দুর্বার মহিলা সমন্বয় কমিটি। আমরা মেয়েরা এগিয়ে চলেছি। তাহলে এখনো কেন মুখ লুকাতে হবে সীমা, শিউলিদের? কেন তাঁদের ঘরে শিক্ষার আলো পৌঁছাবে না?

আজ নিয়ম মতো আর একটা নারী দিবস এসে হাজির। ক্যালেন্ডার এমনটাই বলছে। ১৯ শতকে নারী মুক্তির কথা মানাত, আজ নিজেদের অধিকারের জন্য লড়াইয়ের দাবি অবান্তর। কারণ মেয়েদের অর্থনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সব পেশায় তাঁরা নিজেদের দক্ষতা প্রমাণ করেছেন। তাই নারী মুক্তি নিয়ে আজ আলোচনা করতে গেলে সেটা মেয়েদের পেছনে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টার শামিল হবে।

সোনাগাছির মহিলাদের হাত ধরে দুর্গাপুজো সর্বাঙ্গীন রূপ পেয়েছে। নারীর আরাধনায় নারীকে যে ব্রাত্য করে রাখা যাবে না, তা প্রমাণ করে দিয়েছেন এখানকরা মহিলারা। মা দুর্গার প্রতিমূর্তি এই সীমা, সিউলিরা যদি পুজোয় অচলায়তম ভাঙতে পারেন, তাহলে নারী দিবসে তাঁরাই কেন হয়ে উঠবেন না নতুন ট্রেন্ড সেটার। আশা করতে দোষ কোথায়? দিন বদলের আশায় তো বুক বাঁধতেই পারেন আজকের নারীরা।