টিডিএন বাংলা: বিজেপির সর্ব ভারতীয় সাধারণ সম্পাদক রাহুল সিনহা বাংলায় রাষ্ট্রপতি শাসন জারির কথা বলেছেন।


কিন্তু রাহুল বাবু, বাংলায় আন্দোলনের বহু আগে থেকে বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতেই আন্দোলন তীব্র হয়েছে কেন? সেখানে কার্ফু। বন্ধ নেট। মৃত্যু হয়েছে। আগুন আর বিজেপি নেতাদের বাড়িতে হামলা। বাতিল হচ্ছে পরীক্ষা। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজে যেতে পারছেন না। বিদেশি রাষ্ট্রের প্রতিনিধিরাও সফর বাতিল করেছে। বিজেপি শাসিত যোগী রাজ্যের দুই জেলায় নেট বন্ধ।


আর একটা কথা, কাশ্মীর সহ উত্তরপূর্বের সব রাজ্যে যদি রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হয়, তাহলে প্রধানমন্ত্রী কী জন্য? সব রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করলে নির্বাচিত সরকারের ব্যর্থতা যে প্রমাণিত হয় সেটা জানেন? এইভাবে পৃথিবীতে দেশের মান বাড়বে? এই যে আন্দোলন চলছে, দেশের ভঙ্গুর অর্থনৈতিক অবস্থায় এতে কি আরও অর্থনৈতিক সংকট তৈরি হবেনা? এখন মানুষ দেশের উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা ভুলে , নিজের কাগজ নিয়ে ভাবছে। এতে কি দেশের ক্ষতি হচ্ছে না? এইভাবে কোনও দিন ভারত পৃথিবী সেরা হবে? একে কি সত্যিই দেশপ্রেম বলে? বিবেক কি বলে? কী প্রয়োজন ছিল এই বিতর্কের? যদি সত্যিই আপনারা বাংলাদেশ থেকে আসা হিন্দুদের কল্যাণ চান তাহলে রিফিউজি শব্দ শব্দ ব্যবহার করলেন না কেন? কিংবা এতদিন যারা বসবাস করছে তাদের ভোটার কার্ড, রেশন কার্ড, আধার কার্ড, চাকরির বৈধতা দিয়ে নাগরিকত্বের স্বীকৃতি দিলেন না কেন? ধর্মনিরপেক্ষতার মধ্যে থেকে আম্বেদকরের নেতৃত্বে যেমন এসসি এসটিদের সংরক্ষণ দিয়েছে তৎকালীন কংগ্রেস সরকার, তেমনি আজও অন্য শব্দ ব্যবহার করে বাংলাদেশি উদ্বাস্তু হিন্দুদের নাগরিকত্ব দেওয়া যেত। নাগরিকত্ব মিলতো শ্রীলঙ্কা থেকে আসা হিন্দুদের। আসলে আপনারা নাগরিকত্ব দিতে চাননি, চেয়েছেন আরও জটিলতা ও মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোট নিতে। হ্যাঁ, জানি এতে হয়তো আপনার হাত নেই। কেননা, গোবলয়ের সংঘের উচ্চ কর্তারা যা বলেন আপনিও তাই বলছেন। কিন্তু একজন হিন্দু বাঙালি হিসেবে, আপনি বলুন তো, কোটি কোটি হিন্দু শরণার্থী এতে নিঃশর্ত নাগরিকত্ব পেলনা কেন? কেন এত বিতর্ক? মুসলিম নেতাদের কেউ তো এনআরসির বিরুদ্ধে এতদিন কথা বলেনি। কোনও মুসলিম নেতাতো হিন্দুদের নাগরিকত্ব দিতে নিষেধ করেনি। বরং হিন্দুদের নাগরিকত্বের জন্য সুপ্রিমকোর্টের মামলায় অর্থনৈতিক সাহায্য করেছে। তাহলে একটা আইন ধর্মীয় ভাবে এনে বিতর্ক বাড়ানোর দরকার কী ছিল? নাকি দেশের মানুষকে ধর্মের আফিম খাওয়াতে এইসব করছেন? এটা কি দেশের সরকারের কাজ? কবে চাকরি, শিল্প, কৃষি নিয়ে ভাববেন? কবে দেশ ধর্ষণ মুক্ত হবে? কবে ভারত ক্ষুধা ও দারিদ্র্য মুক্ত হবে? কবে দেশ সাম্প্রদায়িক রাজনীতি থেকে বাঁচবে? কবে সব মানুষ নিরাপত্তা পাবে? কবে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থান নিয়ে ভাববেন? শুধু বিল, বন্দি এইসব করার জন্য ক্ষমতায় এসেছেন? এটা আর যাই বলুক সরকার বলেনা। এইসব অতীতের কল্প কাহিনীর বীভৎসতা হতে পারে, আধুনিক পৃথিবীর সভ্য ভারতের ইতিহাস হতে পারেনা।