টিডিএন বাংলা: পুজোর আগেই মহালয়ার প্রাক সন্ধ্যাতেই রাজ্য অর্থ দফতর বহু প্রতীক্ষিত রিভিশন অব পে অ্যান্ড অ্যালাওয়েন্স (রোপা) ২০১৯-এর বিজ্ঞপ্তি জারি করল। রোপা ২০১৯-এর সুবিধা পাবে পশ্চিম বঙ্গ রাজ্য সরকারি কর্মচারী, সরকার অধীনস্থ সংস্থা, সরকারি এবং সরকার-পোষিত স্কুল-কলেজের শিক্ষক শিক্ষিকা ও অশিক্ষক কর্মচারী, ছাড়া ও পুরসভা-পঞ্চায়েত কর্মী।

নতুন বেতন কাঠামোয় পে ব্যান্ড ও গ্রেড পে আর থাকছে না, আসছে লেভেল। এর আগের বেতনক্রমে মোট পাঁচটি পে-ব্যান্ড ও পঞ্চাশটি গ্রেড পে ছিল। তার পরিবর্তে এ বার ২৪টি লেভেল তৈরি করা হয়েছে। লেভেল গুলি হল যথাক্রমে ১-২ (ডি গ্রুপ), ৩-৭ (সি গ্রুপ, ৮-১১ (গ্রুপ বি), ১২-২৪ ( গ্রুপ এ) এই বেতন কাঠামো ২০২০ সালের ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে। তবে রাজ্য সরকারি কমর্চারীদের 2০১৬ সাল থেকে ২০১৯ পর্যন্ত কোনও এরিয়ার পাবে না তা স্পষ্ট জানানো হয়েছে এই বিজ্ঞপ্তিতে।

লেভেল ও বেসিক পে কিভাবে নির্ধারণ হবে তা জানতে চোখ রাখুন। একনজরে রোপা ২০১৯

১। বেসিক পে:
২০১৬ সালের ১লা জানুয়ারি কোনও কর্মচারীর গ্রেড-পে ও ব্যান্ড-পে যোগকরে যে মূল বেতন ছিল, তার সঙ্গে ২.৫৭ গুণ করতে হবে। গুন করে যে অঙ্ক পাওয়া যাবে তা নতুন পে-ম্যাট্রিক্সের যে স্কেলে পড়বে, সেটাই হবে বেতন স্কেলের নতুন ‘লেভেল’। আর যদি ঐ গুনফল অঙ্কটি পে-ম্যাট্রিক্সে কোন স্কেলে সরাসরি না থাকে তো পরের উচ্চ স্কেলর অঙ্কটিই হবে নতুন বেসিক পে।

বর্তমান স্কেল ও গ্রেড পে হিসেবে যে নতুন লেভেল কত? তা জানতে ৷ রোপা 2019 বিজ্ঞপ্তিতে ১৫ নং পাতায় SCHEDULE III তে পাবেন। নিজ নিজ বর্তমান PB নং, স্কেল EXISTING GRADE PAY এবং তার পাশে নতুন লেভেল নং টি পাবেন ৷

২০১৬ সালের ১ জানুয়ারিতে নতুন যে বেসিক পে হবে তা ধরে নিয়ে জুলাই ২০১৬, ২০১৭, ২০১৮, ২০১৯ পরপর বার্ষিক চারটি নোশনাল ইনক্রিমেন্ট যোগ করে যে অঙ্ক দাঁড়াবে তাই হবে ২০২০ সালের ১ জানুয়ারি বেসিক পে। এই ইনক্রিমেন্ট ৩% হলেও তা সরাসরি ৩% নয়। পে ম্যাট্রিক্স এ চার্ট অনুযায়ী যেমন পর পর বেসিক উল্লেখ করা আছে সেটাই ইনক্ৰিমেন্ট এর পর বেসিক হবে। প্রতি বছর ১ লা জুলাই একটি দেওয়া হবে।

আর যেসমস্ত কর্মচারি ২০১৬ সালের ১ জানুয়ারির পর যোগদান, তাদের হিসেব হবে গ্রেড পে অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট লেভেল ধরে নতুন স্কেকের ইনিশিয়াল বেসিক পে। সেই বেসিক পে এর উপর যার যেমন। প্ৰতি বছরের জুলাই ইনক্রিমেন্ট যোগ করে ২০১৯ পর্যন্ত যে অঙ্ক দাঁড়াবে সেটাই ২০২০ সালের ১লা জানুয়ারী বেসিক পে।

উদাহরণ: ধরুন ২০১৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর কোন কর্মচারীর ৭১০০-৩৭৬০০/-স্কেলে এ ৪১00/- গ্রেড পে তে বেতন পেতেন৷ ১.১.২০১৬ সালে তার গ্রেড-পে ও ব্যান্ড-পে মিলে ১৩৫৪০ বেসিক ছিল । ওই ১৩৫৪০ বেসিক কে ২.৫৭ দিয়ে গুন (১৫৪০ × ২.৫৭= ) করে ৩৪৭৯৮/- পাওয়া যাবে। আর ওই স্কেল অনুযায়ী নতুন কাঠামোতে তার কত লেভেল হবে LEVEL 11 (সেটা পে ম্যাট্রিক্স এ চার্ট অনুযায়ী পাশেই লেখা আছে ) এবার লেভেল-১১ অনুযায়ী বেসিক পে কি রকম হবে সেটা বোঝার জন্য বিজ্ঞপ্তিতে ১২ নং পাতায় SCHEDULE I , ওখানে ৭১০০-৩৭৬০০/- এর ৪১০০ /- গ্রেডের নীচে বিভিন্ন লেভেল-১১ (৮, ৯, ১০, ১১ ) আছে ৷ ৩৪৭৯৮/- বেসিক খুজতে লেভেল ১১ এর নীচ বরাবর দেখলে কোথাও ৩৪৭৯৮/- নেই কিন্তু তার কাছাকাছি এবং বেশি উচ্চ বেসিক ৩৫৪০০ পাওয়া যাবে। এবং ৩৫৪০০/- সংখ্যাটি হবে তার রিভাইস বেসিক পে । এটিই ১.১.২০১৬ তে তার নির্ধারিত বেসিক। তারপর জুলাই ২০১৬, ২০১৭, ২০১৮, ২০১৯ নোশনাল ইনক্রিমেন্ট যথা ক্রমে
৩৫৪০০/-, ৩৬৫০০/-, ৩৭৬০০/-, ৩৮৭০০/-
পরপর বার্ষিক চারটি দেখে শেষ ও চতুর্থ তম যে অঙ্ক দাঁড়াবে তা ৩৮৭০০/-এটিই হবে ২০২০ সালের ১ জানুয়ারি বেসিক পে। ১.১.২০২০ তে ৩৮৭০০/- এই বেসিক এর উপর ডি এ , এইচ, আর, এ , এম এ ধরে তার গ্রস স্যালারি হবে। ১.১.২০১৬ পূর্বে যাদের যোগদান তাদের এই হিসেব।

উদাহরণ-২: ধরুন ২০১৬ সালের ৩১ জুলাই কোন কর্মচারীর ৭১০০-৩৭৬০০/-স্কেলে এ ৪১০০/- গ্রেড পে তে বেতন পেতেন৷ সে ক্ষেত্রে তার হিসেব ১.১.২০১৬ করার প্রশ্নই উঠে না।
৩১ .৭.২০১৬ তে তার নতুন বেসিক পে হবে (১২৭৫০ × ২.৫৭) করে ৩৪৪০০/- যা পপে ম্যাট্রিক্স এ চার্টএর শুরু তেই পাবেন। তার ক্ষেত্রে জুলাই ২০১৭, ২০১৮, ২০১৯ নোশনাল ইনক্রিমেন্ট যথা ক্রমে ৩৪৪০০/-, ৩৫৪০০/-, ৩৬৫০০/-পরপর বার্ষিক তিনটি দেখে শেষ ও তৃতীয় তম যে অঙ্ক দাঁড়াবে তা ৩৬৫০০/-এটিই হবে ২০২০ সালের ১ জানুয়ারি বেসিক পে। ১.১.২০২০ তে ৩৬৫০০/- এই বেসিক এর উপর ডি এ , এইচ, আর, এ , এম এ ধরে তার গ্রস স্যালারি হবে। ২. ১.২০১৬ পর যাঁদের যোগদান এই নিয়মে তাদের হিসেবে।

২. ডি এ: যেহেতু এখনো পর্যন্ত কোন ডি এ ঘোষণা হয়নি তাই শূন্য ধরে হিসেব হবে।

৩। এইচ আর এ: হাউজ রেন্ট অ্যালাওয়েন্সের অঙ্ক ১৫ শতাংশ থেকে কমে ১২ শতাংশ হয়েছে। যার ঊর্ধ্বসীমা বাড়িয়ে ১২ হাজার টাকা। তবে সরকারি আবাসনে থাকলে বাড়িভাড়া ভাতা দেওয়া হবে না কিন্তু গুরুপ ডি এর কর্মীদের ক্ষেত্রে ছাড় আছে।

৪। নতুন বেতনক্রম অনুসারে প্রতি মাসে ৫০০ টাকা চিকিৎসা ভাতা দেওয়া হবে। যা আগে ছিল ৩০০ টাকা।

৫। এছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় কর্মরত থাকলে মাসে অতিরিক্ত ৩০০ টাকা ভাতা দেওয়া হবে। পার্বত্য এলাকায় কাজ করলে মাসে মূল বেতনের ১২ শতাংশ অথবা সর্বোচ্চ ২০০০ টাকা আলাদা ভাতা দেওয়া হবে। শীতকালীন ভাতা প্রতি মাসে ৩০০০ টাকা দেওয়া হবে।

৬। ‘ এক্সট্রা ডিউটি অ্যালাওয়েন্স’ দেওয়া হবে প্রতি মাসে ৩০০ টাকা এবং টিফিন অ্যালাওয়েন্সের সর্বোচ্চ সীমা দিনে ১৮০ টাকা। বিশেষ ভাবে সক্ষম কর্মীরা প্রতি মাসে মূল বেতনের ৫ শতাংশ বা সর্বোচ্চ ৮০০ টাকা পাবেন। প্রোটোকল ডিউটি ভাতা মাসে ৭০০ টাকা।

৭। সরকারি চিকিৎসকদের ‘নন প্র্যাক্টিসিং অ্যালাওয়েন্স’ (এনপিএ) নতুন মূল বেতনের ২৪ শতাংশ ধার্য করা হয়েছে। এর সর্বোচ্চ সীমা প্রতি মাসে ২৪ হাজার টাকার। একই সঙ্গে মূল বেতন এবং এনপিএ মিলিয়ে বেতন সর্বোচ্চ ২ লক্ষ ১ হাজার টাকার বেশি হবে না।

৮। গ্র্যাচুইটি বাবদ কর্মচারীদের প্রাপ্য উর্ধ্বসীমা বর্তমানের ৬ লক্ষ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১২ লক্ষ টাকা করা হয়েছে।

১.১.২০২০ তে ৩৮৭০০/- এই বেসিক এর উপর ০% ডি এ , ১২% এইচ আর এ, মেডিকেল ৫০০/- ধরে তার গ্রস স্যালারি হবে ৪৩৮৪৪/- ৷ এখন ঔ ব্যক্তির গ্রস স্যালারি ৩৬৯২৪/- এবং পে কমিশন না দিয়ে যদি বার্ষিক ডি এ ১০% দেয় তাহলে তার ১.১.২০২০ তে গ্রস স্যালারি হবে ৩৮৪৫০/-হবে যা পে কমিশনের ফলে বৃদ্ধি মাত্র ৫৩৯৪ শতাংশের হারে ১৪.২।

অর্থাৎ বর্তমানে বেসিক পে এবং গ্রেড পে মিলিয়ে মাসে ১০০ টাকা বেতন ধরে। তার সঙ্গে ১২৫ শতাংশ ডিএ যোগ করলে হয় সেটা দাঁড়াবে ২২৫ টাকা। ষষ্ঠ পে-কমিশনের সুপারিশ চালু হওয়ার পর তাকে ১৪.২ শতাংশ দিয়ে গুণ করা হবে। তার সঙ্গে ২০১৬ থেকে চার বছর ৩ শতাংশ হারে (নোশনাল ইনক্রিমেন্ট) বেতন বৃদ্ধি হবে। তাতে নতুন বেসিক পে হবে ২৮০ টাকা ৯০ পয়সা। ২০২০ থেকে রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের ন্যূনতম বেতন ৭ হাজার টাকা থেকে বেড়ে হল ১৭ হাজার ৯৯০ টাকা হবে। এই বেতন কমিশনে সরকারের অতিরিক্ত খরচ হবে দশ হাজার কোটি টাকা। তবে ২০১৬ সালের জানুয়ারি মাস থেকে কর্মচারীরা কোনও বকেয়া বা এরিয়ার পাবেন না তা স্পষ্ট জেনে যাওয়ায় ক্ষিপ্ত অনেকেই।

জানে আলম
প্রধান শিক্ষক
নূর জাহানারা স্মৃতি হাই মাদ্রাসা
ফরাক্কা, মুর্শিদাবাদ