শরদিন্দু উদ্দীপন- নিজস্ব ছবি

শরদিন্দু উদ্দীপন, টিডিএন বাংলা: আমরা দীর্ঘদিন বলে এসেছি, মমতা ব্যানার্জীই পশ্চিমবঙ্গে আরএসএস এর প্রধান মুখ। আরএসএস মোদির থেকে মমতা ব্যানার্জীকে তাদের এজেন্ডা পূর্ণ করার যোগ্য অধিকারী মনে করে। জাতীয় রাজনীতিতে মমতার ঘোষিত ফেডারেল ফ্রন্ট যে আসলে আরএসএস ফ্রন্ট তাও একাধিকবার আমরা বলেছি। সম্প্রতি বেশ কিছু ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে এই বক্তব্যের  সত্যতা একেবারে দিনের আলোর মত পরিষ্কার হয়ে গেছে।

গত ২৬শে ডিসেম্বর জি নিউজ দুর্দান্ত ভাবে একটি খবর পরিবেশন করে। তারা  জানায় যে, গঙ্গা সাগরের কপিলমুনি আশ্রমের প্রধান পুরোহিত জ্ঞানদাস মোহন্ত মমতা ব্যানার্জীকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চান। তারা বেশ গুরুত্ব দিয়ে লেখেন যে জ্ঞানদাস মোহন্ত ঘোষণা করেছেন মমতা ব্যানার্জী প্রধানমন্ত্রী হলে দেশের মঙ্গল হবে এবং রাম মন্দিরও হবে। খবরটি দেখে অনেকে আশ্চর্য হয়েছেন! অনেকে জাতীয় রাজনীতির এক চরম দুঃসময়ে মমতা ব্যানার্জীর গ্রহণযোগ্যতা কতটা বেড়েছে তাই ভেবে আহ্লাদিত হয়েছেন ! আর এরকমই এক টালমাটাল অবস্থার মধ্যে আরএসএস এর ঝোলা থেকে আসল বেড়ালটি বের করে দিয়েছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি দীলিপ ঘোষ। তিনিও জানিয়ে দিয়েছেন যে আগামী ১৯ এর জাতীয় নির্বাচনের পরে তারা মমতা ব্যানার্জীকে প্রধানমন্ত্রী দেখতে চাইছেন!!!

আরএসএস এর এই মৌলিক সমীকরণকে দীর্ঘদিন আমি নানা পরিসংখ্যান দিয়ে বোঝাতে চাইছিলাম। বোঝাতে চাইছিলাম কেন মমতা ব্যানার্জী চন্দ্রবাবু নাইডুর সাথে ফেডারেল ফ্রন্টনিয়ে সমঝোতা করছেন? কেন তিনি বিজু জনতা দলের নবীন প্টনায়কের সাথে গাঁটছড়া বাঁধছেন? কেন তিনি রাজশেখর রেড্ডিকে  দিয়ে তাঁর নেতৃত্বে ফেডারেল ফ্রন্টকে সমর্থন করার ঘোষণা করছেন? কেন তিনি কংগ্রেসের ডাকা বৈঠকে বহিন মায়াবতী সব থেকে বেশি সম্মান পেলে গোপনে আদবানীদের সাথে মিলিত হচ্ছে ? আমরা পরিসংখ্যান দিয়ে বলার চেষ্টা করেছি এই রাজ্যে আরএসএস এবং কট্টর দলিত-মুসলিম বিরোধী সংগঠনগুলির রমরামা কারবারের পেছনে মমতা ব্যানার্জির সমর্থন এবং আর্থিক সহযোগিতা রয়েছে। তিনিই আর্থিক সহায়তা দিয়ে আরএসএসকে বিভিন্ন এলাকায় হিন্দুত্ববাদী বিদ্যালয় খুলতে দিয়েছেন। সেই বিদ্যালয়ের থেকে দলিত-মুসলিমদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ ছড়ানো হচ্ছে। প্রকাশ্যে অস্ত্র প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে এবং দাঙ্গার পরিকল্পনা করে দলিত-মুসলিমদের হত্যার ছক আটা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই পশ্চিমবঙ্গে যে যে অঞ্চলে দাঙ্গা বাঁধানোর চেষ্টা করা হয়েছিল তা দলিত-মুসলিম অধ্যুষিত এলাকা।
বহুজন সাথী, “বিষ বৃক্ষের দুটি ফুল, বিজেপি আর তৃনমূল” এই শ্লোগানটি একেবারে প্রকাশ্যে এসে গেছে। আমরা দেখেছি বামপন্থী পার্টি সহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলের উপর কী বীভৎস অত্যাচার করে গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে বিজেপিকে দ্বিতীয় স্থানে নিয়ে আসা হয়েছে। এর পরেও যদি আমরা সজাগ না হই তবে মমতা ব্যানার্জীকে সামনে রেখে আরএসএস তাদের ঘোষিত প্রলয় মিশনে নেমে পড়বে। গৃহ যুদ্ধ শুরু হবে। আর রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস কায়েম করে গণহত্যায় নেমে পড়বে ব্রাহ্মন্যবাদী শক্তি।

এই মুহূর্তে বহুজন সমাজের কাছে একটিই বিকল্প সেটা হল বহিন মায়াবতীর নেতৃত্বে শক্তিশালী বহুজন সরকার গঠন করা এবং কট্টর ফ্যাসিবাদী, নাজিবাদী, জায়নবাদী আরএসএস এর ষড়যন্ত্র অকেজো করে দেওয়া। বাংলার দলিত-মুসলিম এক হয়ে এই লড়াইটি করতে পারলে এখান থেকেই ২০১৯ এ ১০টি আসন জিতে আরএসএস এর ষড়যন্ত্র এবং ঘোষিত প্রলয় মিশনকে ধ্বংস করে দেওয়া যায়। আসুন বিজেপি এবং তৃনমূল বিরোধী সমস্ত প্রগতিশীল রাজনৈতিক দলকে একত্রিত করে ২০১৯ এ ফ্যাসিবাদীদের নিশ্চিহ্ন করে ফেলি।
(লেখক, জয় ভীম ইন্ডিয়া নেটওয়ার্কের নেতা)