প্রসেনজিৎ বসু, টিডিএন বাংলা: ১৮৯৩-র ১১ই সেপ্টেম্বর চিকাগোর ধর্ম-মহাসভার বক্তৃতায় স্বামী বিবেকানন্দ বলেছিলেনঃ “…সাম্পদায়িকতা, গোঁড়ামি ও এগুলির ভয়াবহ ফলস্বরূপ ধর্মোন্মত্ততা এই সুন্দর পৃথিবীকে বহুকাল অধিকার করিয়া রাখিয়াছে। ইহারা পৃথিবীকে হিংসায় পূর্ণ করিয়াছে, বরাবার ইহাকে নরশোণিতে সিক্ত করিয়াছে, সভ্যতা ধ্বংস করিয়াছে এবং সমগ্র জাতিকে হতাশায় মগ্ন করিয়াছে। এই-সকল ভীষণ পিশাচগুলি যদি না থাকিত, তাহা হইলে মানবসমাজ আজ পূর্বাপেক্ষা অনেক উন্নত হইত।” যে রাজনৈতিক দলগুলি ঘটা করে আজ বিবেকানন্দের জন্মদিন পালন করছে, তাদের এই কথাগুলো স্মরণ করিয়ে দেওয়া দরকার।

কেন্দ্রের হিন্দুত্ববাদী শাসকদল গোরক্ষার নামে দেশজুড়ে সংখ্যালঘু এবং দলিতদের উপর নামিয়ে এনেছে অকথ্য অত্যাচার। ভোটের আগে ধর্মীয় মেরুকরণ করতে তারা আবার “মন্দির ওহি বানায়েঙ্গের” রাজনীতিকে আঁকড়ে ধরছে, সংসদে পাশ করাতে চাইছে সংবিধান-বিরোধী, বৈষম্যমূলক নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন। শবরীমালা মন্দিরে নারীদের প্রবেশাধিকারের বিরুদ্ধে ওরা রাস্তায় নেমেছে। ‘সবকা সাথ, সবকা বিকাশে’র মুখোশ খুলে ফুটে বেরোচ্ছে মোদীর সাম্প্রদায়িক মুখ।

আর অন্যদিকে পশ্চিমবঙ্গের শাসকদল তাদের মতন করে সাম্প্রদায়িক রাজনীতি করে যাচ্ছে। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বলছেন প্রতি বছর কয়েক হাজার কোটি টাকা খরচ করে যে বারোয়ারী দুর্গাপূজোগুলো হয়, বিশেষত তৃনমূলের মন্ত্রী-নেতাদের পৃষ্ঠপোষকতায়, তাদেরকে নাকি আয়কর দিতে বলা যাবে না। এই মুখ্যমন্ত্রীই কদিন আগে পূজো কমিটি গুলিকে ১০০০০/- টাকা করে সরকারি অনুদান দিয়েছে। অর্থাৎ পূজোয় সরকারি অনুদান দেওয়া যায় কিন্তু পূজোর নামে হাজার হাজার কোটি টাকার ব্যবসা করলেও আয়কর চাওয়া যাবে না – কী কিম্ভুত যুক্তি!

আসলে প্রাতিষ্ঠানিক ধর্ম এবং বুর্জোয়া রাজনীতি, দুটোই আজকে লোক ঠকানোর ব্যবসায় পরিণত হয়েছে। এটাই দুর্ভাগ্যজনক, যে আমাদের দেশের জনগণের বড় অংশ এখনও এই ভণ্ড, সাম্প্রদায়িক নেতা-নেত্রীদের খপ্পরে পরে আছেন। বিবেকানন্দ বেঁচে থাকলে আজও নির্ঘাত বলতেনঃ “এই-সকল ভীষণ পিশাচগুলি যদি না থাকিত, তাহা হইলে মানবসমাজ আজ পূর্বাপেক্ষা অনেক উন্নত হইত।”
(লেখক,অর্থনীতিবিদ ও ইয়ং বেঙ্গলের নেতা)

Advertisement
mamunschool