নিজস্ব সংবাদদাতা,টিডিএন বাংলা, কলকাতা: প্রায় নজিরবিহীন লোকের উপস্থিতিতে রবিবার মুসলিম পার্সোনাল’ল বোর্ডের সভা হল পার্কসার্কাস ময়দানে।টিডিএন বাংলার সাংবাদিকরা সেই খবর সারাদিন আপনাদের জানিয়েছেন।কিন্তু মুসলিম ঐক্যকে আরও শক্তিশালী করতে  যে প্রশ্নগুলির উত্তর সাধারণ মানুষ জানতে চাইছে তা টিডিএন বাংলার মাধ্যমে আপনাদের উদ্দেশ্যে তুলে ধরা হল-
১)তিনদিন ধরে মুসলিম পার্সোনাল’ল বোর্ডের ঘরোয়া বৈঠকে কী কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে তা সাংবাদিক সম্মেলনে কেন্দ্রীয় নেতারা বললেও প্রকাশ্য সমাবেশে বিপুল জনতার সামনে এই বাংলার মুসলিম বক্তারা বলেননি কেন?
২)তিন তালাক নিয়ে,অভিন্ন দেওয়ানি নিয়ে আলোচনা শুধু পুরুষ করলো কেন?কেন মুসলিম মহিলা বক্তা দেখা গেল না প্রকাশ্য সভায়?
৩)বাংলার প্রবীণ তাত্ত্বিক মুসলিম বুদ্ধিজীবী তথা মুসলিম পার্সোনাল’ল বোর্ডের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ডাঃ রইসুদ্দিন সাহেব মঞ্চের পিছনে বসে থাকলেও তাঁকে বক্তব্য দিতে দেওয়া হয়নি কেন?
৪)ঐতিহাসিক গোলাম আহমাদ মোর্তজা যখন বক্তব্যরত অবস্থায় সুলতান আহমেদের কাছে জানতে চাইলেন এই রাজ্যে মুসলিম পার্সোনাল’ল বোর্ডের সদস্য কতজন ও কে কে আছেন তখন তিনি বলতে পারলেন না কেন?নাকি সুলতান সাহেব এই সব বিষয় জানেন না, যদি না জানেন তবে কী করে এই সমাবেশের মুখ্য ভূমিকায় থাকলেন?আর যদি জেনে থাকেন তাহলে গোলাম আহমেদ মোর্তজা বারবার জানতে চাইলেও তিনি জবাব দিলেন না কেন?

৫)মহিলাদের একটা বিরাট অংশ জামাত-ই-ইসলামির কর্মী বলে আমরা জানতে পেরেছি।কিন্তু কেন সব সংগঠন মহিলাদের আনার জন্য জোর তৎপরতা দেখাননি?
৬)মঞ্চে তৃণমূলের নেতাদের বেশি দেখা গেছে কেন?
৭)হিন্দু বা অন্য ধর্মের যাঁরা মুসলিমদের জন্য কাজ করছেন এমন বক্তা রাখা হলনা কেন?
৮)আমরা খোঁজ পেয়েছি এই সভায় লোক আনার ক্ষেত্রে ইমতিয়াজ আহমেদ বিরাট ভূমিকা নিয়েছেন।কিন্তু কেন তাঁকে জনগণের সাথে নিচে বসতে হল?
৯)তৃণমূলের অনেক নেতা মঞ্চে ছিলেন।শুধু তৃণমূল করার জন্যই কি তাঁরা মঞ্চে ওঠার যোগ্য?মুসলিম সংগঠনের অনেক নেতা যখন নিচে বসে তখন কেন তৃণমূলের কিছু লোক মঞ্চে বসার সুযোগ পেল?
১১)কেন্দ্রীয় সরকারের বিরোধীতা হল।কিন্তু এই রাজ্যে বিজেপি, আরএসএসের উত্থান নিয়ে কেউ কিছু বললেন না কেন?
১২)এই সমাবেশে গোটা ভারতের ইসলামি পন্ডিত,বড়ো বড়ো ইমাম মাওলানা বিভিন্ন রাজ্য থেকে এসেছিলেন।তাঁদের ইমামতি করতে দিলে আরও ভালো হতোনা কি?
১৩)অভিন্ন দেওয়ানি ছাড়াও দেশে হাজার হাজার সমস্যা,সেই সমস্যার সমাধানে ইসলাম কী ভূমিকা রাখতে পারে তা মানুষকে জানানো হল না কেন?
১৪)প্রথমে শোনা গিয়েছিল দেশের ৫০০ জন আলেম থাকবেন কৈখালী হজ টাওয়ারে।কিন্তু সেই জায়গা পেতে সমস্যা হল কেন?কে মুসলিমদের হজ হাউজ  পেতে বাধা দিলেন তা সকলকে জানানো উচিত।
১৫) ভ্রাম্যমান টয়লেট, পর্যাপ্ত জল, ও অন্যান্য বিশেষ কিছু ক্ষেত্রে আরও নজর দেওয়া দরকার ছিল।কেননা এই বিরাট সংখ্যক লোককে টয়লেটের জন্য দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে।
১৬)সভায় যুবকদের একটা বিরাট অংশ এসেছিলেন।কিন্তু মুসলিমদের ছাত্র, যুব কোনও নেতা বক্তব্য দিলেন না কেন?
১৭)এই রাজ্যে কিছু মুসলিম জনপ্রিয় সাপ্তাহিক,মাসিক পত্রিকা আছে যাঁরা বছরের পর বছর জাতির জন্য কাজ করছেন।তাঁদের মঞ্চে আনা হয়নি কেন?
১৮)মীমের প্রধান আসাদুদ্দিন ওআইসি মুসলিম পার্সোনাল’ল বোর্ডের একজন সদস্য।তিনি ঠিক কী কারণে এই সভায় এলেন না তা মানুষ জানতে চায়।
১৯)এই সভায় কিছু নেতা তৃণমূলের প্রসংসা করলেন।এটা কী দরকার ছিল ?অপরদিকে, মুসলিমদের উন্নয়নের জন্য কিছু দল রাজনীতি করেন,সেই সব দলের নেতাদের ডাকা হলনা কেন?
২০)সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী সাহেব সভায় এলেন।এটা ভালো দিক।কিন্তু কেন এই সভার আগেই ধর্মতলায় নিজের দলের পক্ষ থেকে তবে সমাবেশ করলেন অভিন্ন দেওয়ানি নিয়ে?নাকি এই সভায় আসবেন না ধরে শেষে ফের আসলেন?কোনটা?
২১)সভায় জমিয়তে আহলে হাদিস পশ্চিমবঙ্গ,জমিয়তে উলামায়ে বাংলা, তবলীগ জামাত,জিআইও,পপুলার ফ্রন্ট, এসআইও,মুসলিম লীগ প্রভৃতি অসংখ্য মুসলিম প্রেমী সংগঠনের মানুষের বিরাট ভূমিকা থাকা সত্ত্বেও ওইসব দলের নেতাদের মঞ্চে দেখা যায়নি কেন?

কী কী করলে আরও ভালো হত?
টিডিএন বাংলার কাছে মানুষ জানিয়েছেন-
১)মুসলিম পার্সোনাল’ল বোর্ড সম্পর্কে মানুষের মধ্যে একটা ধারণা দেওয়া দরকার ছিল।
২)যাঁরা বাতিল রাজনীতি করেন তাঁদের এড়িয়ে যাওয়া দরকার ছিল।
৩)বাঙালি মুসলিম নেতাদের মধ্যে আরও যোগাযোগ রেখে কাজ করা উচিত ছিল
৪)দেশ ও বিদেশের মুসলিমদের বর্তমান অবস্থা ও তা থেকে উত্তরণের উপায় নিয়ে দিক নির্দেশনা দেওয়া উচিত ছিল।
৫)ইসলামি জীবন দর্শন,দেওয়ানি ও ফৌজদারি আইন,অর্থ ব্যাবস্থার ওপর একটা আলোচনা হওয়া উচিত ছিল।
৬)এই সভা যে মুসলিম পার্সোনাল’ল বোর্ডের ২৫তম সভা এবং এটা কোনও সরকারের বিরুদ্ধে নয় বরং চিরাচরিত সভা সেটা পরিস্কার করে বলা উচিত ছিল।
৭)কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের মুসলিম বিরোধী নীতির বিরোধীতা করা উচিত ছিল।
৮)ইসলাম যে সকল মানুষের জন্য শান্তির দর্শন সেটা ভালো করে জানানো উচিত ছিল।
৯)এই সভা যে হিন্দু মুসলিম সহ সকল ভারতীয়দের জন্য মঙ্গলকর সেটা পরিস্কার ভাবে বলা উচিত ছিল।
১০)প্রকাশ্য সভায় বিপুল জনতার সামনে তিনদিনের সভার সিদ্ধান্ত জানানো দরকার ছিল ও অভিন্ন দেওয়ানি নিয়ে লিখিত প্রস্তাব পেশ করা উচিত ছিল।
১১)মহিলা, যুব,ছাত্রদের আরও অংশ গ্রহনের জন্য তৎপরতা চালানো দরকার ছিল।
১২)ইসলামি রাজনীতির ওপর আলোচনা করে এর মূলনীতির ধারণা দেওয়া দরকার ছিল।
১৩)মুসলিম ঐক্যের ক্ষেত্রে বিতর্ক তৈরি হয় এমন কোনও আচরণ বা কাজ এড়িয়ে যাওয়া দরকার।
১৪)ইসলামি ধর্মীয় সভায় অনৈসলামিক রাজনীতির প্রবেশ বন্ধ করা দরকার।
১৫)মুসলিমদের সব নেতাদের যথাযথ সম্মান দিয়ে আলোচনার মধ্য দিয়ে সব কাজ করা প্রয়োজন ছিল।
১৬)ইসলামি সংস্কৃতি, কালচার, তামাদ্দুনকে জানাতে ইসলামি শিল্পীদের আরও অংশগ্রহণ দরকার ছিল।
১৭)সভা থেকে ভারত গড়ার একটা বার্তা আসা দরকার ছিল ও জাতীয় পতাকা আরও নিয়ে আসার জন্য মুসলিমদের নির্দেশ দিতে হত।

সভার ঐতিহাসিক গুরুত্ব:
টিডিএন বাংলার সাংবাদিকদের মুসলিমরা জানিয়েছেন-
১)স্বাধীনতার আগে বা পরে এত বড়ো মুসলিম সমাবেশ অতীতে হয়নি।
২)মনোমালিন্য থাকা সত্ত্বেও প্রায় সব মুসলিম সংগঠন শরীয়ত রক্ষায় পথে নেমে আসে।
৩)বিপুল জনসমাগম ও মুসলিম নেতাদের বলিষ্ঠ বক্তব্য উগ্রবাদীদের কাছে একটা বার্তা দিতে পেরেছে।
৫)মুসলিম ঐক্য তৈরি হয়েছে।
৬)আগামীতে যে মুসলিমরা ফের এক হয়ে পথে নামবে সেটার একটা আভাস পাওয়া গেছে।
৭)মুসলিম মহিলা শাখার যাত্রা একটা ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত।
৮)মুসলিম মেয়েদের উপস্থিতি প্রমান করে দিয়েছে ইসলাম রক্ষায় নারীরা পথে নামতে পারে।
৯)বিপুল সংখ্যক ছাত্র ও যুবকের উপস্থিতি আগামী ইসলামি আন্দোলনে বিরাট ভূমিকা রাখবে।
১০)ইসলাম বিদ্বেষী শক্তি বুঝে গেছে ইসলামের জন্য মুসলিমরা প্রাণ দিতেও পারে।
১১)বোর্ডের সদস্য সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে।
১২)গোটা রাজ্যে মুসলিমদের মধ্যে একটা উৎসাহ তৈরি হয়েছে।

(টিডিএন বাংলার পক্ষ থেকে এই আলোচনা এই কারণে রাখা হল যে,মুসলিমরা মনে করে,প্রত্যেক ইসলামি কাজ বা সভার শেষে ভালো মন্দ পর্যালোচনা করা দরকার।কেননা, আগামীতে যেন এই ভুল গুলি থেকে শিক্ষা নিয়ে জাতি সঠিক পথে  চলতে পারে।একটি আদৰ্শ সংগঠনে আলোচনা, সমালোচনা,পর্যালোচনা অবশ্যই হওয়া দরকার।)

Advertisement
mamunschool