সুরাইয়া খাতুন, টিডিএন বাংলা : স্কুল বা বিদ্যালয় বলতে আমরা বুঝি এমন একটি প্রতিষ্ঠান বা সংগঠন যা মূলত শিক্ষাদানের কেন্দ্র,  যেখানে শিক্ষকের সাহায্যে ও তত্ত্বাবধানে শিক্ষার্থীরা  জ্ঞান লাভ করে থাকে। এছাড়াও এখানে তাদের সামাজিকতা, পারস্পরিক সহযোগীতা, সহমর্মিতা, সুস্থ আচার-আচরণ শিখিয়ে সুনাগরিক গড়ে তোলা হয়। আর শিক্ষক-শিক্ষিকারা সেখানে অভিভাবকের ভুমিকা পালন করে।

কিন্তু বর্তমানে বেশ কয়েকটি স্কুলের দিকে তাকালে অন্য দৃশ্য চোখে পড়ে। কিছু কিছু স্কুল এখন খুন, সাম্প্রদায়িক কার্যকলাপ, শ্লীলতাহানি, যৌন নির্যাতনের আখড়ায় পরিণত হচ্ছে। এমন হলে আগামীতে অভিভাবকরা সন্তানদের জ্ঞানার্জনের জন্য স্কুলে না পাঠিয়ে, তাদের শিক্ষাহীন, জ্ঞানহীন করে রাখা শ্রেয় বলে মনে করবেন এবং তাদের নিরাপদে রাখার ব্যবস্থা করবেন। কারণ জীবনকে বাজি রেখে সন্তানকে শিক্ষিত করতে কে চাইবে? শিক্ষার বিনিময়ে জীবন –এটা হতে পারে না। আজ সন্তান হারা শরীফুলের মা-বাবা, সৌরভের মা-বাবা হয়তো এটাই ভাবছেন, কেন আমাদের কলিজার টুকরোটিকে স্কুলে পাঠালাম?

পূর্ব মেদিনীপুরের শ্রীরামপুর এগ্রিকালচার হাইস্কুল। সেখানে নবম শ্রেণীতে ভর্তি হয় উত্তর ২৪ পরগনার কাটিয়াহার দক্ষিণ পাড়ার বছর চোদ্দোর কিশোর শরীফুল গাজি। একদিন হোস্টেলের বাথরুম থেকে পাওয়া যায় তার ঝুলন্ত দেহ। শান্ত প্রকৃতির ছেলে শরীফুল আত্মহত্যা করতে পারে বলে মেনে নিতে পারেনি কেউই। তবে তার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ কি? মুসলিম হয়ে হোস্টেলে থাকার অধিকার না থাকায় নির্মমভাবে মরতে হলো শরীফুল গাজিকে! আর এবার ধর্মের ভেদাভেদ ভুলে বন্ধুকে সুবিচারের জন্য সাক্ষী দিতে গিয়ে ফাঁস পরতে হলো সৌরভকে!

এক মাসের মধ্যেই দু-দুটো ছাত্রের জীবন ঝরে গেল। বলা যায়, নির্মমভাবে হত্যা করা হল। শরীফুল গাজীর মৃতদেহটা আজো চোখ বন্ধ করলে দেখতে পাই। শরীরের নানা স্থানে ক্ষতচিহ্ন, অন্ডকোষে প্রচন্ড রকমের আঘাতের চিহ্ন। তারপর তার বন্ধু সৌরভ গুড়ির ফাঁস লাগানো মৃতদেহ। এগুলো চিৎকার করে কিছু বলছে না?

জানা যায়, শরীফুলের মৃত্যুর জবানবন্দি ও সাক্ষ্য হিসাবে সৌরভের নাম ছিল। সেই সাক্ষ্য-প্রমান সরানোর জন্য সৌরভকেও খুন করা হল। সৌরভের বয়ানে প্রকাশ পেয়েছিল মুসলিম হওয়ার ‘অপরাধে’ শরীফুলকে পিটিয়ে মারা হয়। আর সেজন্যই তাকেও তার প্রিয় বন্ধুর কাছে পাঠিয়ে দিল নরখাদকরা। দুই ছাত্রের রহস্যজনক মৃত্যু যথেষ্ট আতঙ্কের বিষয়। সেই সঙ্গে প্রশ্ন ওঠে স্কুল বা হোস্টেলে ছাত্রছাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়ে।

আর এক্ষেত্রে পুলিশকে কোনো সদর্থক ভূমিকা পালন করতে দেখা গেল না। শরীফুল হত্যাকাণ্ডকে তমলুক থানার পুলিশ আত্মহত্যা বলে চালানোর চেষ্টা করে এবং স্কুল কর্তৃপক্ষর বিরুদ্ধে কোনোরকম ব্যবস্থা নিতে অনীহা দেখায়। আইনের রক্ষকদের আইন ভঙ্গকারীদের সঙ্গ দেওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক। দোষী স্কুল-কর্তৃপক্ষ ও আইনের রক্ষকদের এজন্য জবাবদিহি করতে হবে।

উস্থি,

 দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা