সালমা খাতুন, টিডিএন বাংলা: ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে শুধুমাত্র পুরুষ নয়, নারীদেরও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। নারীরা দেশকে পরাধীনতার শৃঙ্খল থেকে মুক্ত করতে নিজের স্বামী সন্তানদের উৎসাহ জুগিয়েছিলেন, এমনকি নিজেরাও বিপ্লবে অংশ নিয়েছিলেন। অথচ আজ ইতিহাসের পাতা থেকে উধাও সেই সব সাহসী রমনীদের নাম। তেমনই এক বিস্মৃত নারী সুরাইয়া তৈয়েবজী। তিনি ছিলেন ভারতীয় সিভিল সার্ভিস (আইসিএস) অফিসার বদরুদ্দীন ফাইজ তৈয়েবজীর স্ত্রী। সুরাইয়া ছিলেন ভারতের বর্তমান জাতীয় পতাকার রুপকার।

আমরা ভারতীয় ইতিহাস থেকে জানতে পারি জাতীয় পতাকার রূপকার ছিলেন পিঙ্গালি ভেঙ্কাইয়া। তিনি ১৯১৬ সালে গান্ধীজীর ইচ্ছানুসারে ত্রিবর্ণ রঞ্জিত, মাঝখানে একটি চরকা বিশিষ্ট পতাকার রূপদান করেন। যেটি জাতীয় কংগ্রেস কখনোই সরকারি পতাকা হিসেবে গ্রহণ করেনি।

ভারতের পতাকায় বহু ধর্ম ও গোত্র তাদের ধর্মীয় প্রতীক সংযোজনের দাবি করে। স্বাধীনতার কয়েক দিন আগে জাতীয় পতাকার বিষয়ে নির্দিষ্ট সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়ার জন্য গণপরিষদ স্থাপিত হয়। গণপরিষদ ১৯৪৭ সালের ২৩ শে জুন রাজেন্দ্র প্রসাদের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করে। সেই সময়েই চরকার পরিবর্তে অশোক চক্রটি গৃহীত হয়। নেহেরু ধর্মচক্র যুক্ত করার বিষয়টিকে বাস্তবসম্মত ও ভারসাম্যপূর্ণ মনে করেন এবং এটিকে স্বাগত জানান। যদিও মহাত্মা গান্ধী চরকা বদলে ধর্মচক্র সংযোজনের বিষয়টি প্রথমে পছন্দ না করলেও পরে মেনে নেন। ১৯৪৭ সালের ১৫ ই আগস্ট স্বাধীন ভারতে প্রথমবার সেই পতাকাটি উত্তোলিত হয়।

কিন্তু পতাকায় চক্রের ভাবনাটা আসে কোথা থেকে, সেটা ইতিহাসে পাওয়া যায় না। ভারতীয় ইতিহাসে জাতীয় পতাকার রূপকার হিসেবে নাম থেকে যায় পিঙ্গালি ভেঙ্কাইয়া’র-ই। বর্তমান জাতীয় পতাকার প্রতিষ্ঠাতার নাম ভারতের ইতিহাসে পাওয়া না গেলেও এক ব্রিটিশ ইতিহাসবিদ ট্রেভোর রয়েলের লেখা, “দ্য লাস্ট ডেজ অফ দ্য রাজ”-বই থেকে জানা যায়, বদরুদ্দিন তৈয়েবজী’র স্ত্রী সুরাইয়া তৈয়েবজী ছিলেন,ভারতের জাতীয় পতাকার ডিজাইনার। তিনি লিখেছেন, বাস্তবে তিন রঙের পতাকাতে যে চরকা ছিল,সেটি গান্ধীজী তার পার্টির চিহ্ন হিসেবে ব্যবহার করতেন। বদরুদ্দিন তৈয়েবজী মনে করেন, এটি ভুল বিষয় উপস্থাপন করবে। তিনি তার স্ত্রী সুরাইয়া তৈয়পবজী’র ডিজাইনকৃত চক্র সম্বলিত পতাকাটি নেহেরুর কাছে নিয়ে যান। নেহেরু সেটা পছন্দ করেন, কারণ সম্রাট অশোক হিন্দু ও মুসলমান উভয়ের নিকট সম্মানিত ছিলেন। বহু চাপের পর গান্ধীজি চাকাটি পতাকায় নিতে রাজি হন।

প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে কর্মরত আইসিএস অফিসার বদরুদ্দিন তৈয়েবজী’র স্ত্রী ছাড়া বেশি কিছু জানা যায় না সূরাইয়া’র জীবন সম্পর্কে। ব্রিটিশ ইতিহাসবিদ সুরাইয়া সম্পর্কে লিখে গেলেও অজ্ঞাত কারণে জাতীয় পতাকার ডিজাইনার হিসেবে তার নাম রয়ে গেছে ইতিহাসের অন্তরালে। কিন্তু কবে এই বীর নারীর নাম ইতিহাসে জায়গা পাবে?

Advertisement
mamunschool