MD Nuruddin
মুহাম্মদ নুরুদ্দীন

মুহাম্মদ নুরুদ্দীন, টিডিএন বাংলা: লোকসভার ভোট পর্ব সমাপ্ত হলেও পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক হানাহানি উর্ধমুখী। প্রতিদিন কোথাও না কোথাও গোলমাল হচ্ছে আর হতাহতের খবর আসছে। ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় রাজ্যের ব্যাপারে হস্তক্ষেপ শুরু করেছে। রাজ্যের আইন শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব রাজ্য সরকারের। কিন্তু সরকার যদি সে দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয় তাহলে কেন্দ্র তো আর চুপচাপ বসে থাকবেনা। বিশেষ করে বর্তমান প্রেক্ষাপটে কেন্দ্র যখন হস্তক্ষেপ করার বাহানা তালাশ করছে তখন রাজ্য সরকারের উপর আইন শৃংখলা রক্ষার বাড়তি দায়িত্ব এসে যায়।

লোকসভা নির্বাচনে আশাতীত সাফল্য অর্জন করতে পেরে বিজেপি এখন উল্লাসিত। তারা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারকে আর পূর্ন মেয়াদ দেখতে চায়না। অন্তর্বর্তীকালীন নির্বাচনের ঘুঁটি ইতিমধ্যে চালা শুরু হয়েছে। বিজেপির প্ৰধান ইস্যু হবে রাজ্যের আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি। গোলমাল কোথা থেকে হচ্ছে সেটা বিচার্য বিষয় নয় বরং সরকার পরিস্থিতি কতটা নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারছে এটাই বিচার্য বিষয় ।

ইতিমধ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার কাজের কাজ না করে পুরাতন অভ্যাস বসত অকাজ করে চলেছে বেশি।রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ হিসাবে বিজেপি আর সেই জায়গায় নেই যে তাকে মাছি তাড়ার মত হাওয়া দিয়ে উড়িয়ে দেওয়া যাবে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এখন যদি রাজনৈতিক দূরদর্শিতা আর প্রশাসনিক দক্ষতা দেখাতে না পারে তাহলে রক্ষে নেই। প্রশাসনিক দক্ষতার মূল মন্ত্র নিরপেক্ষতা । পুলিশকে দলের ক্যাডার হিসাবে ব্যবহার করলে কখনই আইন শৃঙ্খলা রক্ষা করা যাবেনা। দলের রঙ না দেখে পুলিশকে কাজ করতে দিতে হবে। যারা বাড়াবাড়ি করবে তাদের রাশ টানার ক্ষমতা থাকতে হবে পুলিশের। অবশ্যই শান্তি রক্ষী বাহিনীকে সংবেদনশীল হতে হবে। বিচক্ষণতার সাথে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে।

মানুষের জীবন ও সম্পদ রক্ষা করার দায়িত্ব সরকারের। কোন অজুহাতে সরকার সে ব্যাপারে উদাস থাকতে পারেনা। কোন দায়িত্বশীল সরকারের কাছে পক্ষপাতীত্ব আশা করা যায় না।মানুষের জান মালের নিরাপত্তা দিতে সরকারকে সব রকমের ব্যবস্থা নিতে হবে। কোন দলের কটা লাশ পড়ল সেটা গুনতে থাকা সরকারের কাজ নয়। একটিও প্রাণ হানি যাতে না ঘটে তার দায়িত্ব নিতে হবে সরকারকে।
বিজেপির মুকাবিলায় বাগাড়ম্বর না করে সরকার যদি আপন কাজে মন দেন সেটাই হবে কল্যাণের।