রেবাউল মন্ডল, টিডিএন বাংলা: সম্প্রতি রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিটি রোড ক্যাম্পাসে দোল উৎসবের কিছু ছবি ঘিরে যে জোর বিতর্ক তৈরি হয়েছে তাতে লজ্জিত গোটা বাঙালি। বাংলার তথাকথিত আধুনিক কীর্তিমানদের ওই কুকীর্তি সোশ্যাল মিডিয়ার দৌলতে দ্রুত ভাইরালও হয়। সেখানে দেখা গিয়েছে শাড়ি পরা কিছু মহিলার উন্মুক্ত পিঠে আবির দিয়ে কবিগুরুর গান বিকৃত করে অশ্লীল শব্দ লেখা হয়েছে। যা নিয়ে শেষপর্যন্ত থানায় অভিযোগও দায়ের করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। ভাইরাল হওয়া ওই ছবিতে দেখা গিয়েছে, মেয়েদের পাশাপাশি কয়েকজন ছেলের বুকেও অশ্লীল শব্দ লেখা। গত বছর এই ক্যাম্পাসেই বসন্ত উৎসবেই মদ্যপ অবস্থায় কয়েকজন পড়ুয়াকে পাওয়া যায়। যা নিয়ে বিতর্কও হয়েছিল বিস্তর।

দোল বাঙালির একান্ত অনুভূতির সঙ্গে জড়িয়ে। এটি শুধু নিছক একটি উৎসব নয়, এই রঙের উৎসবের মধ্য দিয়েই শুরু হয় বসন্তের। বহুদিন থেকেই এই উৎসব সমাদৃত হয়ে আসছে নানান ভাবে। সাহিত্য থেকে শুরু করে সবরকম শিল্পকর্মেই এই উৎসবের কথা ঘুরে ফিরে এসেছে বারবার। নারীদিবসের ঠিক আগেই উঠতি প্রজন্মের মেয়েদের অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপনের চমক দেখে চমকে উঠেছে গোটা নারী সমাজ। তাও আবার বিশ্বকবির জন্মভূমিতে দাঁড়িয়েই! এরাই নাকি প্রগতিশীল, শিক্ষিত-অশিক্ষিতের পরিমাপক, সুশীল সমাজের ধারক বাহক! ছিঃ! ওরাই আবার ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘বিবেকানন্দ’ ‘কোহলি’ ‘তেন্ডুলকার’ উচ্চারণ নিয়ে ধিক্কার জানাতে ছাড়েনি। এই সব বেহায়াদের নির্লজ্জতায় বাঙালির নিজেদের ঐতিহ্য আজ ভুলুন্ঠিত। এদের রংমাখা ভিড়ে আজ সমগ্র শহর কলুষিত।

এই শহরেই কাদম্বরী দেবী, ভগিণী নিবেদিতা, মাদার টেরেসা, ইন্দিরা গান্ধী, সুচিত্রা সেনের মতো  নারীদের উজ্জ্বল অবদান জড়িয়ে আছে। আর সেই রবীন্দ্রনাথের পূণ্যভূমিকে যারা ধর্ষণ করছে, তাঁর রচনাকে যারা অপবিত্র কলুষিত করছে, তাদের অবিলম্বে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত। রবীন্দ্রভারতী ও বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষের তরফে রবীন্দ্র সংস্কৃতিকে বিকৃত ও অপপ্রচার করার জন্য মামলা করে অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা উচিত। আজ সারা পৃথিবীতে রবীন্দ্র সাহিত্য সংস্কৃতির সমাদর ও চর্চা চলছে। সেখানে কবিগুরুর নিজস্ব  জায়গাতেই এই চরম ঔদ্ধত্য বিশ্ববাসীর কাছে কি বার্তা দিল? ক্ষুদ্ধ বাঙালির দাবি, সেদিন যাদের পিঠে চাঁদ উঠেছিল, তাদের কপালে অমাবস্যা নামুক দ্রুত।

এই ধরণের বিকৃত মস্তিষ্কের নারীরা নিজেরাই নিজেদের মর্যাদা সম্মান ভূলুণ্ঠিত করে চলেছে প্রতিনিয়ত। এদের বিকৃত মানসিকতার শিকার আজকের সভ্য নারীরা। ফলে বাড়ছে ইভটিজিং ধর্ষণ সহ নানা অপরাধপ্রবণতা। আবার এরাই নারী স্বাধীনতা নারী অধিকারের দাবিতে পুরুষদের কাছে ধরনা দেয়। এই অভব্যতাই কি আধুনিকতা? এমন প্রশ্ন কিন্তু তুলছেন নেটিজেনরা। এদের মানসিক সুস্থতা কামনা করি। সুশীল সমাজ বলছে, অবাধ স্বাধীনতার দোহাই দিয়ে এভাবে দোল বসন্তোৎসব এখানে বন্ধ হওয়া উচিত।

আমরা দেখেছি কেউ ভালো কিছু করলে তাকে বাহবা বা উৎসাহ দিয়ে বলা হত, বাহ! খুব ভালো হয়েছে, খুব ভালো, চালিয়ে যাও। এমনটাই প্রতিযোগিতা চলত। আর এখন ঠিক উল্টো। কে কতটা নোংরামি করে অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি করতে পারল এসবের ভিত্তিতেই এখন ফেমাস হওয়া যায়। আর কোন নায়িকা বা মডেলার ছোট নামমাত্র পোশাকে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছবি শেয়ার করলে মিডিয়া তো লুফে নেয়। ব্যবসায়িক স্বার্থে তারা সেই অশ্লীলতাকে বাহবা দিয়ে লেখে, ‘সাহসী পোশাক’, ‘সাহসী পদক্ষেপ’ ইত্যাদি। স্বাধীনতার নামে অবাধ স্বাধীনতায় লাগাম না পরালে, নৈতিকতা বিবর্জিত শিক্ষায় খাতা কলমেই শুধু ‘শিক্ষিত’ হলে ভবিষ্যতেও এই অমানুষিক প্রবণতা আরও মারাত্মক আকার নেবে তাতে কোন সন্দেহ নাই। সর্বোপরি, পাঠক্রমে নীতিনৈতিকতা তথা মনুষ্যত্বের শিক্ষা যদি না থাকে তাহলে শিক্ষাঙ্গনে অপসংস্কৃতির এই  ভাইরাস দূর করবে কে?