মুহাম্মদ নুরুদ্দীন, টিডিএন বাংলা: আজ ১৭ই ডিসেম্বর সংখ্যালঘু অধিকার দিবস। ১৯১৪ সালের ভিয়েনা সম্মেলনে প্রথম সংখ্যালঘু অধিকার বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। তখন অবশ্য প্রেক্ষিত ছিল জার্মানির ইহুদীদের অধীকার রক্ষার বিষয়টি। ১৯৯২ সালে রাষ্ট্রসংঘের পক্ষ থেকে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অধিকার রক্ষা বিষয়ে একটি ঘোষণা পত্র প্রকাশিত হয়। তাতে বলা হয়, প্রতিটি রাষ্ট্রকে তার ভৌগলিক সীমার মধ্যে বসবাসরত ধর্ম ভাষা সংস্কৃতি বা যেকোন ধরনের সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা দিতে হবে, তাদের আত্মপরিচয়ের বিকাশ ঘটাতে হবে এবং তাদের এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য উপযোগী উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।

সংখ্যালঘু সমস্যা আজকের দুনিয়ার একটা বড় সমস্যা। এই সমস্যার পিছনে যেমন আছে উগ্র জাতীয়তাবাদ তেমনি আছে গণতান্ত্রিক ব্যাবস্থাপনায় সংখ্যাধিক্যের গুরুত্ব। সংখ্যায় যারা ভারী গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাপনায় তারাই সবসময় দুর্বলদের উপর জয়ী হয়। রাষ্ট্রের সুযোগ সুবিধা ভোগ করতে থাকে সংখ্যাগুরুরা।যারা ধর্মীয় সংখ্যালঘু বিভিন্নভাবে তাদের ধর্মীয় অধিকার সংকুচিত হতে থাকে।

ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের করুন অবস্তা আমাদের দেশে। এদেশের সংবিধানে ধর্ম পালন মৌলিক অধিকার রূপে স্বীকৃতি পেয়েছে। অথচ রাষ্ট্রের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ মদদে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ধর্মস্থানের উপর আঘাত করা হচ্ছে। মসজিদ ভেঙে দেওয়া হচ্ছে। এমনকি দেশের সর্বোচ্চ আদালত জানিয়ে দিয়েছেন, নামাযের জন্য মসজিদের প্রয়োজন নেই। এখানে খাদ্যের স্বাধীনতা পর্যন্ত স্বীকার করা হয়না। পুলিশ মানুষের রান্নাঘরে ঢুকে যাচ্ছে। কে কী খাবে কে কী পরবে তাতেও নাক গলাচ্ছে সরকার। চাকরী বাকরি অন্যান্য সুযোগ সুবিধাতো দূরের কথা, সংখ্যালঘুদের আত্ম মর্যাদা নিয়ে টিকে থাকাটাই দায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। সংখ্যালঘু বিশেষ করে মুসলিমদের দেশের জন্য ভয়ংকর বিপদ রূপে চিন্নিত করা হচ্ছে।ইতিহাস বিকৃত করে আগামী প্রজন্মের সামনে এমন ইতিহাস তুলে ধরা হচ্ছে যাতে তারা মুসলিমদের সম্পর্কে এক রাশ ঘৃণা নিয়েই বড় হয়।

শুধু ধর্মীয় সংখ্যালঘু নয় ভাষাগত সংখ্যালঘুদের অধিকারও সুরক্ষিত নয়।এখানে সংখ্যাগুরুর ভাষাকে অন্যদের উপর চালিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

সংস্কৃতি গত দিক থেকেও একই অবস্থা।

সরকার সংখ্যালঘুদের অধিকার প্রতিষ্টার জন্য সংখ্যালঘু কমিশন গঠন করেছে।বছরে বছরে তাদের জন্য নির্দিষ্ট বাজেটও হয়। কিন্তু সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অবস্থা দিনের পর দিন আরও খারাপ হতে থাকছে।

কেনো এ অবস্থা? আসলে আইন আছে, কানুন আছে, অফিস আছে, অফিসার আছে কিন্তু নেই শুধু আন্তরিকতা।আজ সংখ্যালঘু অধিকার দিবসে অনেক সেমিনার হবে,হবে অনেক আলাপ আলোচনা। কিন্তু তাতে কাজের কাজ কতটা হচ্ছে তা অভিজ্ঞতা থেকেই বোঝা যাচ্ছে। তাই সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রকৃত অধিকার প্রদান করতে হলে চাই আন্তরিকতা।