ছবি প্রতীকী

শরদিন্দু উদ্দীপন, টিডিএন বাংলা:  “Freedom of mind is the real freedom.
A person whose mind is not free though he may not be in chains, is a slave, not a free man.
One whose mind is not free, though he may not be in prison, is a prisoner and not a free man.
One whose mind is not free though alive, is no better than dead.
Freedom of mind is the proof of one’s existence.”
― Bhimrao Ramji Ambedkar,
মানুষে মানুষে বিভাজনের সব থেকে ঘৃণ্য প্রথা জাতপাত। এটি শোষণের সব থেকে বড় হাতিয়ার। মানুষকে অর্থনৈতিক, সামাজিক, ধর্মীয়, রাজনৈতিক এবং মানসিক ভাবে পঙ্গু করে দেবার এমন হাতিয়ার দ্বিতীয়টি নেই। আর এই হাতিয়ারকে সুচারুরূপে ব্যবহার করেই শোষক শ্রেণী হাজার হাজার বছর ধরে মানুষের উপরে শোষণ চালিয়ে গেছে। সুকৌশলে তাঁরা এই বিভাজন নীতিকে স্থায়িত্ব দেবার জন্য জাতপাতকে প্রথমে ধর্মের সাথে পরে জন্মজন্মান্তরের সাথে জারিত করে দিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এই আগাছা মানুষের মনকে আচ্ছন্ন করে ফেলার জন্যই এটি একটি মানসিক রোগের আকার ধারণ করেছে। এটা কোথাও বর্ণ ব্যবস্থা আবার কোথাও জাত ব্যবস্থার আকারে সামাজের অত্যন্ত গভীরে শিকড় গাড়তে সক্ষম হয়েছে এবং সাম্য, সম্প্রীতি এবং ভ্রাতৃত্ববোধের চিন্তাকে ধ্বংস করে দিয়েছে। ভারতে এই বিষবৃক্ষের রোপণ করেছে ব্রাহ্মন্যবাদ। সংস্কৃত সাহিত্যগুলি এই বিষাক্ত আগাছার আঁতুড়ঘর।

ফরাসী বিপ্লব, শিল্প বিপ্লব এবং রেনেসাঁর পরে উন্নত দেশগুলোতে এই জাত জালিয়াতি বা বর্ণব্যবস্থা মুছে গেলেও ভারতের মাটিতে এই বিষাক্ত আগাছাটি ফুল, পল্লবিত হয়ে আজো দুর্গন্ধ ছড়িয়ে যাচ্ছে। আর অদ্ভুত ভাবে এই বিষাক্ত বৃক্ষের বীজ সংগ্রহ এবং সংরক্ষণ করছে সেই গোলাম শ্রেণী যারা বর্ণ ব্যবস্থায় নিকৃষ্ট স্থান পেয়ে উচ্ছিষ্ট খেয়ে জীবনযাপন করতে বাধ্য হচ্ছে এবং বংশ পরম্পরায় জাতবেজাতের গ্লানি মাথায় ধারণ করে পশুর থেকে অধম বলে ঘৃণিত হচ্ছে!

জাতির এই অমানবিক অবস্থান থেকে মুক্তির জন্যই শুরু হয়েছিল ভক্তি আন্দোলন। জাতব্যবস্থার বিরুদ্ধে গর্জে উঠেছিলেন শিবাজীর গুরু তুকারাম, গর্জে উঠেছিলেন গুরু নানক, সন্ত কবির, বাসবন্না, রবিদাস। গর্জে উঠেছিলেন লালন। জাত ব্যবস্থাকে দুপায়ে চুরমার করে মতুয়া বিপ্লব ঘটিয়েছিলেন হরিচাদ,গু্রুচাঁদ। জ্যোতিরাও, সাবিত্রী ফুলে গঠন করেছিলেন সত্য শোধক সমাজ। জাতব্যবস্থার ক্লেদাক্ত পঙ্কিল থেকে মানুষকে মুক্ত হওয়ার জন্য রামস্বামী পেরিয়ার শুরু করেছিলেন “Self Respect Movement”। বাবা সাহেব আম্বেদকর লিখেছিলেন “জাত ব্যবস্থার বিলুপ্তি” বা Annihilation of the Castes গ্রন্থটি। তিনি বলেছিলেন, “Caste is not a physical object like a wall of bricks or a line of barbed wire which prevents the Hindus from co-mingling and which has, therefore, to be pulled down. Caste is a notion; it is a state of the mind । মান্যবর কাশীরাম আওয়াজ তুলেছিলেন “জাতি তোড়, সমাজ জোড়”।
আমরা বিস্ময়ের সাথে লক্ষ্য করছি যে, ভারতীয় সংবিধানে অনগ্রসর ক্ষেত্রের নামে যে ভাবে পর্ষদ বা বোর্ড গঠন করে এলাকার উন্নয়নের নির্দেশিকা রয়েছে তাকে কার্যত বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে জাতের নামে পর্ষদ গঠন করা হচ্ছে। সরকার এমন কিছু জাতের নামে পর্ষদ গঠন করছে যারা অন্যান্য জাতের থেকে আর্থ-সামাজিক ভাবে অনেকটা এগিয়ে আছে। আমরা মনে করছি জাতের নামে পর্ষদ গঠন আসলে জাত জালিয়াতের নতুন কৌশল। এতে তাবেদারের সংখ্যা বাড়বে। তোসামুদের দল উচ্ছিষ্ট পেয়ে খুশি হবে। জাতের জাঁতাকলে মুক্ত মনের বিকাশ কিছুতেই সম্ভব নয়। ধিক্কার জানাচ্ছি এই জাত জালিয়ায়তদের যারা বাবা তিলকা, সিধু-কানু, বীরসা, হরিচাঁদ, গুরুচাঁদের রাজা হওয়ার প্রতিজ্ঞাকে অপমান করে উচ্ছিষ্ট খেয়ে কৃতার্থ হতে চাইছে।
(লেখক জয় ভীম ইন্ডিয়া নেটওয়ার্ক, এসসি এসটি ওবিসি সংগ্রামী মঞ্চের নেতা)

Not available