সুরাইয়া খাতুন, টিডিএন বাংলা : নোট বাতিলের পর ভারত সরকারের আরেকটি ভুল সিদ্ধান্তের সাক্ষী হলো গোটা দেশ। রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার ২৫ তম গভর্নর হলেন শক্তিকান্ত দাস। তিনি এই পদে তিন বছরের জন্য নিযুক্ত হলেন। দেশের আসল খাজানার চাবি এখন এনার পকেটে। যেখানে ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাংকের শেষ তিন গভর্নর অর্থনীতিতে পিএইচডি ছিলেন, সেখান নতুন গভর্নর ইতিহাসে স্নাতকোত্তর।

উনি অর্থশাস্ত্রের কিছু জানুক বা না জানুক, আমরা এটা জানি যে তিনি মোদীর আজ্ঞাবহ দাসের মতো কাজ করেন। মোদী সরকারে যে সমস্ত বিতর্কিত কাজে শক্তিকান্ত দাসের সমর্থন ছিল, তার মধ্যে রয়েছে নোটবাতিলের সিদ্ধান্ত। নোট বাতিলের পর এই ইনিই বারে বারে টিভির পর্দায় এসে মোদীজীর হয়ে লেকচার দিতেন। ব্যাঙ্কে নোট জমা করতে আসা লোকদের আঙুলে কালি লাগিয়ে দেওয়া হবে, যাতে তারা দ্বিতীয় বার না আসতে পারে –এটা এনারই আইডিয়া। এই যুগের মহম্মদ বিন তুঘলক চেয়েছিলেন, সবাইকে ব্যাঙ্কের সামনে দীর্ঘ লাইনে সারাদিন দাঁড় করিয়ে রাখতে। তিনি নিজে একবারও লাইনে না দাঁড়ালেও গুজরাতে নিজের বৃদ্ধ মাকে ব্যাঙ্কে দাঁড় করিয়েছিলেন নিজের স্বার্থে।

ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাংকের গভর্নর পদে মোদীজী একের পর এক পুতুল বসিয়ে চলেছেন। এর আগে কাছের মানুষ উর্জিত প্যাটেলকেও বসিয়েছিলেন। এখন আরো একজন কাছের মানুষ শক্তিকান্ত দাসকে গভর্নর পদে বসানো হলো। এবারে কোনো পেশাদার অর্থনীতিবিদ নয়, একজন আমলা এবার ভারতের মতো উন্নয়নশীল দেশের এতো গুরুত্বপূর্ণ পদ সামলাবেন!

এমনকি আরবিআই গভর্নর হিসেবে শক্তিকান্ত দাসের নিয়োগের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করলেন বিজেপি সাংসদ সুব্রামনিয়ান স্বামী। এ বিষয়ে তিনি প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি লিখেছেন। তাঁর অভিযোগ, শক্তিকান্ত দাস প্রাক্তন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী তথা কংগ্রেস নেতা পি চিদাম্বরমের দুর্নীতিমূলক কাজের সঙ্গে যুক্ত। এমনকি আদালত সম্পর্কীয় মামলা থেকে চিদাম্বরমকে তিনি বাঁচানোর চেষ্টা করেছেন বলেও অভিযোগ করেছেন সুব্রামনিয়ান স্বামী। এ হেন ‘শক্তিহীন’ শক্তিকান্তকে দিয়ে কাজ হাসিল করানো সহজ হবে বলেই তাঁকে এ পদে বসানো হল হয়ত।