টিডিএন বাংলা ডেস্ক: আবারও মুসলিমদের দুয়ারে হাজির খোদাপ্রেমের অনন্য বসন্ত ও খোদায়ি নুরের দরিয়ায় প্রেম-অভিসারের অনন্য উৎসবের মাস পবিত্র রমজান।

এ মাস আত্মিক ভোজ-সভায় যোগ দিয়ে রহমতের অশেষ সওদা কুড়িয়ে নেয়ার বিশেষ উৎসবের মাস। খোদাপ্রেমের অতল সাগরে আত্মার জন্য মনি-মুক্তাসহ অমূল্য সব সম্পদ কুড়ানোর মাস হল এই রমজান। এ মাস খোদায়ি নুরে আত্মাকে আলোকোজ্জ্বল করার মাস। মহান আল্লাহ’র কাছে অশেষ শুকরিয়া আদায় করছি যিনি আমাদেরকে আবারও এমন এক মহান মাস উপহার দিয়েছেন। এ মাসকে যেন যথাযথভাবে বা পুরোপুরি কাজে লাগানো যায় মহান আল্লাহর কাছে আমরা সবাই সে তৌফিক বা সুযোগ কামনা করছি। হে আল্লাহ! তোমার সব নামের উসিলায়, তোমার মহাকর্তৃত্বের উসিলায় এবং তোমার পেয়ারা হাবিব ও তাঁর পবিত্র আহলে বাইতের উসিলায় তোমার কাছে প্রার্থনা করছি আমাদেরকে তোমার শ্রেষ্ঠ দাসদের সঙ্গে এমন এক স্থান দান কর যা তোমার অনেক বেশি সান্নিধ্য এনে দেয়। আর এ স্থান তোমার বিশেষ অনুগ্রহ ছাড়া অর্জন করা সম্ভব নয়। যারা একাগ্র নিষ্ঠায় তোমার নৈকট্য লাভের সাধনায় অগ্রগামী হয়েছেন আমরা যেন তাদের মতই হতে পারি-সেই তৌফিক আমাদের দান করুন – হে দয়ালুদের মধ্যে সবচেয়ে দয়ার্দ্র ও পরম করুণাময়!

বছরের বিভিন্ন সময়ে আমরা ব্যস্ত থেকেছি বস্তুগত নানা আয়োজনে এবং পার্থিব নানা ঝামেলা ও চাওয়া-পাওয়ার হিসেব নিয়ে। ফলে আমাদের অসচেতন আত্মা খোদা-প্রেমের সড়ক থেকে বিচ্যুত হয়ে কেবলই নেমে গেছে নীচ থেকে নিচু পর্যায়ে। তাই দরকার ছিল এমন একটি সুযোগ আসার যেখানে আত্মাকে তুলে নেয়া যায় কেবলই উন্নতি আর উন্নয়নের দিকে তথা খোদার একান্ত সান্নিধ্য ও নৈকট্য অর্জনের দিকে এবং খোদার রঙ্গে আচার-আচরণ ও আত্মাকে রঙ্গিন করার দিকে। আর পবিত্র রমজান মাস আমাদের জন্য এনে দেয় সেই মহা-সুযোগ। মহান আল্লাহর একান্ত সান্নিধ্য লাভের জন্য হৃদয় ও মনকে আল্লাহমুখী করে নামাজ আদায় করাও এক অতি বড় সুযোগ তাতে কোনো সন্দেহ নেই। অন্য ইবাদতগুলোতেও রয়েছে একই ধরনের সুযোগ। কিন্তু রমজানে খোদাপ্রেমের সুযোগগুলো অনেক বেশি প্রশস্ত এবং এ মাসে আল্লাহকে স্মরণ করার মাধ্যমগুলোও খুব বেশি বৈচিত্র্যময়। যেমন, নফল নামাজ ছাড়াও প্রেমময় নানা মুনাজাত রমজানের বাড়তি কিছু আকর্ষণ।

” মহানবী (সাঃ) বলেছেন: মাহে রমযানকে রমযান নামকরণ করা হয়েছে এ কারণে যে , এ মাসে পাপ পুড়িয়ে নিশ্চিহ্ন করে দেয়া হয় (অর্থাৎ পাপসমুহ বিমোচিত হয়)।

মহানবী (সাঃ) বলেছেন: তোমাদের জানা আছে কি শাবান মাসকে কেন শাবান মাস বলা হয়েছে….. কারণ, এ মাস থেকে রমযান মাসের জন্য অগণিত প্রচুর কল্যাণ ও মঙ্গল উৎসারিত হয়। আর রমযানকে রমযান বলা হয় এ কারণে যে এ মাসে পাপসমুহ পুড়িয়ে নিঃশেষ ও নিশ্চিহ্ন করে দেয়া হয় (অর্থাৎ বিমোচিত ও ক্ষমা করে দেয়া হয়)।”

রোজার মাসে রোজা ও নামাজের মাধ্যমে বিশেষ নুরানিয়াত অর্জন ছাড়াও কুরআন তিলাওয়াতও এ মাসের নুরানি আকর্ষণের কিছু বাড়তি দিক। রমজানকে বলা হয় কুরআনের বসন্ত। আত্ম-গঠন ও চরিত্র সংশোধন এবং মনের ওপর জমে থাকা মরিচাগুলো অপসারণের মাধ্যমে নিজেকে আবারও পবিত্র করার ও সব জঞ্জাল আর পঙ্কিলতা থেকে মুক্ত করার মাধ্যম হল কুরআন অধ্যয়ন। পবিত্র রমজান মহান আল্লাহর দিকে সফর করার মাস। তবে মনে রাখতে হবে আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের সবচেয়ে বড় শর্ত হল গুনাহ-বর্জন। ফরজ ও নফলসহ আমরা যত বেশিই ইবাদত করি না কেন পাপ বর্জন করা না হলে কাঙ্ক্ষিত আত্ম-সংশোধন বা আত্মার উন্নতি ও আল্লাহর নৈকট্য লাভ অসম্ভবই থেকে যাবে। ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী আপনি যত ভালো ভালো ওষুধই খান না কেন পাশাপাশি যদি শরীরের রোগ-বর্ধক খাবার ও কাজগুলো আগের মতই করতে থাকেন তাহলে কোনো ওষুধেই আপনার রোগগুলো সারানো যাবে না।

হযরত আলী (আ.) মহানবীর (সা) কাছে প্রশ্ন করেছিলেন : ” হে আল্লাহর রাসূল (সা.), এই মাসে সবচেয়ে ভাল কাজ কী?”

তিনি জবাবে বললেন, ” হে আবুল হাসান, এই মাসে সবচেয়ে ভাল কাজ হল আল্লাহ যা যা নিষিদ্ধ করেছেন তা থেকে দূরে থাকা।”

রমজানের রমজ শব্দটির অর্থ হল দাহন। মানব জীবনে কু-প্রবৃত্তির বিনাশ বা দাহন জরুরি। কারণ, কু-প্রবৃত্তিগুলো মানব জীবনের মহৎ উদ্দেশ্য সাধনকে অসম্ভব করে তুলে। অন্য কথায় রোজা বা সওম-এর অর্থ হল পাপ থেকে বিরত থাকাসহ নানা ধরনের সংযম সাধনা।

কুরআনের সুরা বাকারার ১৮৩ নম্বর আয়াতে সিয়াম (সওমের বহুবচন) সম্পর্কে বলা হয়েছে:

‘হে ঈমানদারগণ! তোমাদের উপর রোজা ফরয করা হয়েছে, যেরূপ ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তী লোকদের উপর, যেন তোমরা খোদাভীতি বা তাকওয়া অর্জন করতে পার।’ (২:১৮৩)

মহান আল্লাহ আমাদেরকে খোদাভীতি অর্জন ও পাপ-বর্জনের সুযোগ দিন।