মাওলানা সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী, টিডিএন বাংলা : আল্লাহ রাব্বুল আলামিন আসমান-যমিন, চন্দ্র, সূর্য, গ্রহ, নক্ষত্র, পাহাড়-পর্বত, নদ-নদী, পশুপাখি, জীবজন্তু, জিন-ইনসান আঠারোহাজারের বেশি মাখলুকাত সৃষ্টি করেছেন। এটা বাস্তব যে স্রষ্টা যদি একাধিক হতেন তাহলে যমিন-আসমান সর্বত্র বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হতো, চন্দ্র সূর্য গ্রহরাজ এর চলাচল বিঘ্নিত হত, ফাসাদ তথা ধ্বংস অনিবার্য হয়ে পড়ত। কুরআন মাজীদের সূরা আম্বিয়ার ২২ নম্বর আয়াতে অবিসংবাদিত সত্যই প্রতিধ্বনিত হয়েছে।

পৃথিবীতে মানুষ তার সাধ্যের ভিত্তিতে শিক্ষা-সংস্কৃতি, সভ্যতা, জীবন-জীবিকা, বসবাসের ক্ষেত্রে শান্তি-শৃঙ্খলা সাথে থাকতে চাই। আল্লাহর যমিন তাঁর সৃষ্ট জীবদের প্রতি পালনের উদ্দেশ্যে আল্লাহ সৃষ্টি করেছেন বিশাল এক সম্পদের ভাণ্ডার। করুনাময় আল্লাহতায়ালা এই সম্পদ বন্টন ও ব্যবহারের নীতিমালা ও স্পষ্টভাবে বলে দিয়েছেন। আল্লাহর প্রদত্ত এই সম্পদের অধিকারী হয়ে সামান্য কিছু ক্ষমতার বলে কিছু মানুষ আল্লাহর সৃষ্ট জীবের ওপর জুলুম করে তারা প্রকৃতপক্ষে নাফরমানী করে। সৃষ্ট জীবের লালন-পালনের প্রতি পরওয়ার দিগার-এ-আলমের ইচ্ছাকে উপেক্ষা করে পদানত করে, স্বেচ্ছাচারিতার এই মনোভাব উপরওয়ালার নির্দেশের সঙ্গে যুদ্ধ ঘোষণার শামিল- এতে কোন সন্দেহ নেই। ইতিহাস সাক্ষী এই যুদ্ধে সর্বদা আল্লাহর ইচ্ছায় জয়ী হয়েছে ভূমিকম্প, অগ্নিগিরির তাণ্ডব, জলোচ্ছ্বাস, দুর্ঘটনা, অপমরন আকস্মিক মৃত্যু, ডাক্তারি শাস্ত্রের সব ধরনের কৌশল প্রয়োগ করার পরেও মৃত্যু প্রমাণ করে দিচ্ছে উপরওয়ালার বিরুদ্ধে চলতে থাকলে বিপদ অবশ্যম্ভাবী। তাঁর নির্দেশিত বিধিবিধান মোতাবেক জীবন যাপনই বিপদ থেকে আমাদেরকে রক্ষা করবে। প্রিয় (সা:) নবী এর পবিত্র জামানা থেকে ইসলামী শিক্ষার আলো ধাপে ধাপে এদেশ ওদেশ এ পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়েছে। পবিত্র কুরআন মাজিদ ও হাদিস শরীফের শিক্ষা এবং প্রিয় নবীর (সা:) জীবন দর্শন আমাদের চলাচলের পাথেয়।

এই উদ্দেশ্যকে সামনে রেখেই মাদ্রাসা শিক্ষা চৌদ্দশবছর ধরে চলে আসছে। নির্দেশিত বিধান মোতাবেক জীবন গড়ার সব মাদ্রাসায় দেওয়া হয় আধ্যাত্মিক শিক্ষার পাশাপাশি মাদ্রাসায় (১)অশিক্ষিত পরিবারের মধ্যে শিক্ষার আলো জ্বালানো

(২)অনাথ এতিমদের প্রতিপালন

(৩)তার সাংসারিক জীবনের পরিবর্তন

(৪)প্রতিবেশীদের সাথে সদাচরণ

(৫)বিনা পণে বিবাহ

(৬)থানা কোর্টকাছারিতে না যাওয়া

(৭)খুন-সন্ত্রাসের পথে না যাওয়া শিক্ষা দেওয়া হয়।
এছাড়াও মাদ্রাসায় (৮)গণবিবাহ দেওয়া হয়

(৯)কৃতি ছাত্র-ছাত্রীদের সংবর্ধনা দেওয়া হয় বহু মাদ্রাসায়

(১০)প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিচালনা করে

(১১)ধর্মীয় শিক্ষার সাথে জাগতিক শিক্ষা দিয়ে শিক্ষার পরিবেশ গড়ে তোলা

(১২)অনেক উচ্ছৃঙ্খল পরিবার থেকে মায়েদের প্রচেষ্টায় মাদ্রাসায় শিক্ষা গ্রহণ করে তাদের ছেলেরা আলেম হাফেজ হয়ে সমাজে সম্মানে বসবাস করা

(১৩)আর্থিকভাবে লোভ লালসার শিকার না হয়ে অল্পতে সন্তুষ্ট হয়ে দিনাতিপাত করা

(১৪)সমাজ জীবনের বহু ক্ষেত্রে অশান্তির পরিবেশে ওলামা সমাজ মধ্যস্থ হয়ে সুস্থ পরিবেশ গড়ে তোলা

(১৫)ভিন্ন ধর্মালম্বীদের প্রতি সুব্যবহার করা ও তার তাদের সম্মান দেওয়া মাদ্রাসার শিক্ষার অন্যতম উদ্দেশ্য। মোটকথা, মানবসভ্যতার উন্নয়ন ও বিকাশ মাদ্রাসার তালিম তরবিয়তের ব্রত।

Advertisement
mamunschool