তিয়াষা গুপ্ত, টিডিএন বাংলা : বাংলার পরপর ২টি সভার মধ্য দিয়ে ভোটের ঢাকে কাঠি দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ঠাকুরনগর থেকে তৃণমূলকে নিশানা করেন তিনি। পরে দুর্গাপুরে গিয়ে তিনি সেই আক্রমণ আরো তীব্র করেন। এদিন বঙ্গে দাঁড়িয়ে তৃণমূলকে আক্রমণের মধ্য দিয়ে প্রচারের সুর বেঁধে দিলেন মোদী। সারদা-নারদ থেকে সিন্ডকেট কাজ। মমতা সরকারকে আক্রমণ করতে হাতিয়ার করলেন এরকম আরো অনেক কিছুই। মোদী বলেন, তৃণমূলের বিদায় নিশ্চিত। বাংলা পরিবর্তন আনবে, দেখতে পাচ্ছি। তাঁর আরও হুঁশিয়ারি, যত আটকানোর চেষ্টা হবে, ততই বাড়বে বিজেপি। তৃণমূল, তোলাবাজি, ট্যাক্স- ট্রিপল টি চলছে রাজ্যে। মোদী তাঁর স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে এভাবেই তিন ত্রয়ীর উল্লেখ করে তৃণমূলকে নিশানা করেন। সিবিআইকে নিয়ে চড়া সুরে আক্রমণ করেন মোদী। তাঁর কথায়, সিবিআইকে ভয়ে পশ্চিমবঙ্গে আসতে দেওয়া হচ্ছে না। দোষ না করলে ভয় কিসের!

নীরব মোদী থেকে রাফালে। দুর্নীতি অস্ত্রে মোদীকে ফালাফালা করেছেন বিরোধীরা। তাই সারদা, নারদের অস্ত্রে মমতাকে বিদ্ধ করলেন মোদী। তাঁর কথায়, সব দুর্নীতি একটাই দরজা দিয়ে কড়া নাড়ছে।
তৃণমূলকে কটাক্ষ করতে গিয়ে এদিন দুর্গাপুরে মোদী বলেন, সিন্ডিকেটের স্বার্থ জড়িত না থাকলে সে কাজে তৃণমূল হাত দেয় না। তৃণমূলকে নিভন্ত প্রদীপের সঙ্গে তুলনা করে বলেন, প্রদীপ নেভার আগে দপদপ করে জ্বলে ওঠে বেশি। ঘড়ির কাঁটা ৩টে স্পর্শ করার আগেই দুর্গাপুরের মঞ্চে ওঠেন মোদী। প্রথমেই তিনি ঠাকুরনগরের সভায় আহতদের প্রতি সমবেদনা জানান। ঠাকুরনগরে ধাক্কাধাক্কি হুড়োহুড়িতে আহত সমর্থকরা।
গতকাল অন্তর্বর্তীকালীন বাজেট পেশ করেছেন অর্থমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল। সেখানে কৃষকদের জন্য বিশেষ ঘোষণা হয়েছে। সেই নিয়ে খোদ কিষাণ সভাই খুশি হতে পারেনি। তারই পক্ষে এদিন সওয়াল করলেন মোদী। বললেন, স্বাধীনতার পর কৃষকদের জন্য এত বড় প্রকল্প কোনো সরকার বানায়নি। মুদ্রাস্ফীতি কমিয়ে আনা গেছে। এই বাজেট দেখিয়ে দিয়েছে, সবকা সাথ সবকা বিকাশের পক্ষে আমরা। রাজ্য সরকার কেন্দ্রের প্রকল্প বাস্তবায়িত করছে না। অভিযোগ মোদীর।

২০১৯-এর লক্ষ্যে ভোট প্রচার শুরু। ফলে নিজের যে নিজের প্রকল্পের উল্লেখ করবেন, তা বিচিত্র কিছু নয়। জোর গলায় আয়ুষ্মান ভারত-এই প্রকল্পের হয়েও সওয়াল করলেন মোদী। ১৯৮৬ সালে দুর্গাপুরে এসেছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধী। ৩২ বছর পর এই শহরে এলেন কোনো প্রধানমন্ত্রী। মোদীর হাত ধরে এই শিল্প শহরের বুকে লেখা হল ইতিহাস। লোকসভা নির্বাচনে প্রথম থেকেএই বাংলা পাখির চোখ মোদীর। অমিত শাহর কথাতেও আগে সেই মনোভাব ধরা পড়েছে। এছাড়া জাতীয় রাজনীতিতে ক্রমশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিরোধীরা যে জোট করছে, তাতে বিভিন্ন সময়ে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছেন। রাহুল-সোনিয়া তো বটেই, জোট গড়তে তেলেঙ্গানা থেকে কলকাতায় এসে কেসিআর-ও তাঁকে পাশে চাইছেন। মমতার ব্রিগেড সমাবেশ ইতিহাস তৈরি করেছিল। বিরোধী জোটের এক ঐক্যবদ্ধ চেহারা তুলে ধরা গেছে সেই সমাবেশে। তাই ২০১৯-এ মমতা কি মোদীর ত্রাসের কারণ? মোদী বারবার মমতাকে নিশানা করলেন। জাতীয় রাজনীতিতে মমতাকে উপেক্ষা করা সম্ভব নয়, তা তাঁর লাগাতার আক্রমণে প্রমাণ হল। দিদিকে মোকাবিলায় তিনি যে সুর বেঁধে দিলেন, তা তাঁর দলের নেতারা কোন সপ্তমে নিয়ে যান, সেটাই এখন দেখার।