শরদিন্দু উদ্দীপন- নিজস্ব ছবি

শরদিন্দু উদ্দীপন, টিডিএন বাংলা: বহুজনের স্বাধিকার আন্দোলন নিয়ে বাংলার বাবুসমাজ এবং সবর্ণ ছাত্রযুব সমাজের ধারণা একেবারে তুতু ম্যায় ম্যায় এর মত।
-এরা এখনো প্রতিনিধিত্বমূলক ভাগীদারীকে ভিক্ষাবৃত্তি মনে করেন।
-রিজার্ভেশনকে (affirmative action) ধ্বংস করতে চান
-জাতপাত ধ্বংস করার বেলায় চুপ থাকেন
-বাংলায় জাতপাতের সমস্যা নেই বলে বিতর্ক শুরু করেন
-দুর্গা পূজায় ফিতে কাটেন
-বিদ্যালয় থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে ঘটা করে সরস্বতী পূজা করেন
– শিক্ষা, চাকরী, জমি, ব্যবসাতে এসসি এসটি ওবিসি এবং ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের সংখ্যা অনুপাতে ভাগিদারী নেই কেন? এই প্রসঙ্গ উঠলেই অজুহাত খোজেন।
১৯৪৭ সালের পর থেকে কোন রাজনৈতিক দলে ৯৪% জনসংখ্যার একজন জনপ্রতিনিধিও মূখ্যমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, অর্থমন্ত্রী, উচ্চশিক্ষামন্ত্রী হতে পারলেন না কেন? অন্যান্য সমস্ত রাজ্যে এসসি এসটি ওবিসি মুখ্যমন্ত্রী হতে পারলেও পশ্চিমবঙ্গে তা সম্ভব হচ্ছে না কেন?
উত্তর এড়িয়ে জান।
অন্যান্য সমস্ত রাজ্যের গণমাধ্যমগুলি বাবা সাহেব আম্বেদকরের চিন্তা ভাবনাকে নিয়ে মনোজ্ঞ আলোচনা করলেও এ রাজ্যের গণমাধ্যমগুলি তাঁকে উপেক্ষা করেন কেন?
বাবা সাহেবের মহাপরিনিব্বান দিবস পালন এবং বাবরি মসজিদ ধ্বংসের প্রতিবাদে হাজার হাজার মানুষ সমবেত হলেও কেন তাঁরা প্রতিষ্ঠিত গণমাধ্যমে জায়গা পায় না? কেন বিজেপি, আরএসএস, হিন্দু সংহতি বা হনু-তিনুদের মিছিলই প্রচার পায়?
কেন দুটি ভিক্ষার ঝুলিকে (পর্ষদ ভিক্ষা) প্রচার দেওয়া হয়?

এর উত্তর পাওয়া যায় না!!
কেন?
কারণ এইগুলি গদিমিডিয়ায় এসসি এসটি ওবিসির আন্দোলন প্রচার পেলে ৯৪% মানুষ রাজ ক্ষ্মতার দিকে দৌড়াতে থাকবে। তখন মিডিয়াগুলিতেও দখল নেবে ছোট জাতগুলি !!
সুমনদের জায়গায় রাভিস কুমাররা উঠে আসলে তো বিপদ !!
যতক্ষণ পর্যন্ত না বহুজন সমাজ জোর ধাক্কা দেবেন, বিধান সভা দখল না করবেন ততক্ষণ এরা চালিয়ে যাবেন ছিনালী।
তত দিনই এরা দন্ত বিকশিত করে বলবেন “বাংলায় জাতপাত নাই”।
(লেখক: জয় ভীম ইন্ডিয়া নেটওয়ার্কের নেতা)