ছবি : ফার্স্ট পোস্ট
মনোরঞ্জন ব্যাপারী

মনোরঞ্জন ব্যাপারী, টিডিএন বাংলা: দোষ কারো নয়কো মা আমি স্বখাত সলিলে ডুবে মরি শ্যামা ! এটা সাধক কবি রামপ্রসাদের একটা বিখ্যাত গান । বহুবার আমরা এই গানটা শুনেছি আর গেয়েছি । কিন্ত কোনবার ভেবে দেখিনি কী -কেন আমি ডুবছি । কেন নিজের জন্য নিজে মরন ফাঁদ খুঁড়ছি !

সেই যে গল্পে আছে –একজন লোক তার এক প্রতিবেশিকে মাটি চাপা দিয়ে মেরে ফেলার বাসনায় রাত আঁধারে গভীর জঙ্গলের মধ্যে গিয়ে একটা কূয়ো খুঁড়ছিল । যে হেতু কাউকে জানাতে চায়না- তাই সে একা একাই খুঁড়ছিল । এক কোদাল করে মাটি খোঁড়ে আর সেটা ছুড়ে কূয়োর বাইরে দূরে ফেলে দেয় । এইভাবে খুঁড়তে খুঁড়তে কখন যে গর্ত গভীর হয়ে গেছে জানতেই পারেনি । এত গভীর গর্ত খুঁড়ে ফেলেছে যে নিজেই আর উপরে ওঠার মত অবস্থা নেই । তারপর যা হবার তাই হলো–নিজের খোঁড়া গর্তে নিজেই মরে গেল বোঁকা পাঠাটা।

এরা একে নির্বোধ- তার উপর আছে ভয়ানক রকম লোভ । লোভ থাকা কোন খারাপ নয় যদি সেটা মাপে কিছু বড় হয় । এদের মধ্যে কেউ ভারতবর্ষের প্রধানমন্ত্রী পদের জন্য- নিদেন পক্ষে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হবার জন্য লালায়িত নয় । নোবেল পুরস্কার পাবার জন্য লোভী হয়ে ওঠে না, ভারতরত্ন হবার জন্য লোভ করে না । তখন প্রাজ্ঞবানী আওড়ায়- লোভে পাপ আর পাপে মৃত্যু । তাই এরা মানুষ হিসাবে যেমন ছোট মাপের- লোভও করে সেইএকই মাপের ।

এরা চায় ছলে বলে কৌশলে পাশের লোকটার সর্বনাশ কী করে করা যায়,কী করে তার জমি জায়গা হরপ করে নেওয়া যায়, কি করে তার উন্নতি আটকে দেওয়া যায় । মাত্র সেই লোভের বশেই এরা মুসলামানদের জন্য ‘কূয়ো’ খুঁড়েছিল । জানতো না সেই গর্ত থেকে সে আর বাইরে আসতে পারবে না ।
যারা ভয়ংকর রকম মুসলমান বিদ্বেষী বাঙাল একটু খোঁজ নিলে দেখা যাবে এই জঞ্জাল গুলোর অধিকাংশ বাংলাদেশ থেকে এসেছে মাত্র পাঁচ দশ বছর আগে । যাদের সেই দাঙ্গার সময়ে প্রান ভয়ে পালাতে হয়েছিল তারা গায়ে জামা দেবার মত সময় হাতে পায়নি । রাতের অন্ধকারে পালায় বউ বাচ্চার হাত ধরে । এরা তেমন নয়, জমি জায়গা বেচে বুচে, কেউ কেউ তো আবার তিন চার জনের কাছে থেকে গোপনে বায়না নিয়ে একজনের কাছে বেচে দিয়ে দু পয়সা গুছিয়ে হাতে নিয়ে এপারে এসেছে । এসেই দাদা ধরে নেতা ধরে দশ বিশ হাজার খরচ করে আধার কার্ড ভোটার কার্ড সব বানিয়ে নিতে পেরেছে । দেখতে গেলে, যারা এই দেশের সুখে দুঃখে আপদ বিপদে কোন কিছুতে ছিলনা, এই দেশের জন্য সামান্যতম ত্যাগ নেই – তারাই চিৎকার করে বলছে ‘এই সরকার আমাগো জইন্য কিছু করে নাই । মোল্লাগো ইমাম ভাতা দিছে, তোষন করছে’।
আর এস এস-য়ের মাইনে করা নেতারা এদের বুঝিয়েছে–আমরা হিন্দু, আর বিজেপি হচ্ছে হিন্দুদের দল । ওরা গুজরাতে যেমন ভাবে মোল্লাদের কচুকাটা করেছে-ক্ষমতা হাতে পেলে বাংলাতেও তাই করবে । ওদের জমি জায়গা ঘরবাড়ি সব কেড়ে নিয়ে তোমাদের ভাগ করে দেবে । ওদের সুন্দর সুন্দর মেয়েগুলোকে তোমরা মনের সুখে ভোগ করতে পারবে। দেখেননি কাশ্মীরের ৩৭০ ধারা তুলে নেবার পর ওখানকার মেয়ে বিয়ে করবে বলে এদের কী মাতাল নাচ! পারলে তখনই যেন বিয়ে করতে কাশ্মীরে চলে যায়! তখন কিন্ত ‘ওঁরা মুসলমান-গোরু খায়’ ওদের ছুলে ‘হিঁদু’দের গঙ্গাস্নান করে পবিত্র হতে হয়- সে কথা মনে থাকেনি । কথায় বলে যেমন কর্ম তেমন ফল- যারা সেদিন কাশ্মীরের মেয়ে বিয়ে করবে বলে নেচেছিল এখন নিজের জন্মের নথি খুঁজে বেড়াচ্ছে ।
এদের বলেছিল বিজেপির নেতারা- ‘যদি তোমরা বিজেপিকে ভোট দাও মুসলমানদের জমি জায়গা তো পাবেই সেই সাথে পাবে এই দেশে বসবাস করার বৈধ অনুমোদন ।
কথার মধ্যে যে কত গোপন অর্থ থাকে আমরা ক’জন তলিয়ে দেখতে শিখেছি ? মনে আছে আপনাদের সেই ইরাক আক্রমনের আগের কথা ? রাষ্ট্রসংঘ মাত্র এক লাইনের একটা কথা বলেছিল- ‘ইরাকের বিরুদ্ধে আমেরিকা যেকোন ব্যবস্থা নিতে পারে’। তারপরই আড়াই হাজার বোমারু বিমান উড়ে গিয়েছিল ইরাকের দিকে । তিন চার ঘন্টা ধরে অগুনতি বোমা ফেলে একটা গোটা দেশকে বিধ্বস্ত করে দিয়েছিল।
সেই রকম একটা সাঙ্কেতিক কথা বলেছে অমিত শাহ– বাংলাদেশ থেকে ধর্মীয় কারনে যারা এপারে এসেছে তারা নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারবে । নাগরিকত্ব দেওয়া হবে এমন কথা কিন্ত বলেনি । বলেছে আবেদন করতে পারবে । তবে তার আগে তাকে প্রমান দিতে হবে যে সে ধর্মীয় কারনে এসেছে। সে প্রমান কী আছে কারো কাছে ? ওদেশ থেকে আসার সময়ে কেউ যদি থানায় গিয়ে বলে থাকে, আমাকে মুসলমানরা হিন্দু হবার জন্য অত্যাচার করছে । আমি কারো মাথায় বাঁশের বাড়ি মারিনি, কারো মেয়ে বউয়ের দিকে কুনজর দেয়নি, চুরি ডাকাতি করিনি। খালি রাম কৃষ্ণনাম ভজনা করেছি তাই মোল্লারা আমার জীবন অতিষ্ট করে তুলেছে । এত অতিষ্ট করেছে যে আমি আর এদেশে থাকতে পারছি না । এটা একটু লিখে দিন আমি সেই কাগজ নিয়ে ইন্ডিয়ায় চলে যাই । তারা কী তেমন কাগজ লিখে দিয়েছে কাউকে ? তাহলে কী ভাবে প্রমান করা হবে যে সে ধর্মীয় কারনে পালিয়ে এসেছে ? ধর্ষন করে আসেনি, কারো বউ নিয়ে আসেনি? ব্যাঙ্কের লোন পরিশোধ করার ভয়ে পালিয়ে আসেনি?
বলেছে শাহজি- এপারে আসা হিন্দুরা ভারতে বসবাসের ছয়বছর পরে নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারবেন । ছয় বছরের আগে নয় । তিনি সেটা পাবেন কিনা কোন গ্যারান্টি নেই তবে সেই আবেদনের সঙ্গে তাকে স্বীকার করে নিতে হবে যে তিনি বাংলাদেশ থেকে এসেছেন । ভাবতে পারেন কত ধুর্ত এরা ? যখন তিনি নিজেই ঘোষণা করবেন যে তিনি বাংলাদেশের নাগরিক, আইন অনুসারে-যতক্ষন তিনি ভারতের নাগরিক হিসাবে স্বীকৃতি না পাচ্ছেন এই দেশের সমস্ত সুযোগ সুবিধা নাগরিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়ে থাকবেন। এমন কী কেউ যদি চাকরি বাকরি পেয়ে থাকেন–মহা সমস্যায় পড়ে যাবেন । ভোটদানের অধিকার, রেশন কার্ড, আধার কার্ড, তার আর কোন কাজে লাগবে না। আজকের সময়ে ওই কার্ড ছাড়া এক পা-ও চলা মুশকিল। এমন কী ট্রেনে প্লেনে কোথাও যেতে হলে পরিচয়পত্র দরকার পড়ছে । কী করবে তখন এরা ?
আসামেও যে বিজেপি জয়লাভ করেছিল তার পিছনেও এই অতি চালাক, অতি লোভী বাঙালদের অবদান বিরাট বিশাল । তারা ভুলে গিয়েছিল যে বিজেপি শুধু মুসলমান বিদ্বেষী নয়, প্রবল বাঙালী বিদ্বেষীও । হিন্দিভাষী কোন দল, নেতা, মছলিখোর বাঙালীদের সহ্য করতে পারে না । বাংলার ব্রাম্মনও ওদের চোখে ব্রাহ্মণ নয় । দেশভাগ মাত্র মুসলমানদের জন্য হয়নি,বাঙালীর শক্তিক্ষয় করাও একটা উদ্দেশ্য ছিল । বাংলাভাগ না হলে আজ লোকসভায় একশো পনের কুড়িজন বাঙালী সাংসদ থাকতো । রাজনীতির অঙ্গনে হিন্দিভাষিদের আজ যে দাপট তাহলে তা থাকতো না । প্রধানমন্ত্রী হতো বাংলা থেকেই কেউ । স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অর্থমন্ত্রী সব থাকত বাঙালীর হাতে । ধুর্ত গো বলয়ের নেতারা বাংলাভাগ করে সেই পথ বন্ধ করে দিয়েছিল ।
…যখন লোকসভার ভোট প্রক্রিয়া চলছে তার আগেই আসাম থেকে বাঙালী বিতাড়ন কর্মসুচি শুরু হয়ে গেছে । তখনই এনআরসি নামক আইনের মাধ্যমে ৪০ লক্ষ ৭ হাজার ৭০৭ জন বাঙালীর নাম অনুপ্রবেশকারীর তালিকা ভুক্ত হয়ে গেছে । কিছু জনকে ধরে জেলেও নিয়ে যাওয়া হয়েছে । বহুজন দেশ ছাড়া হবার দুঃখে আত্মহত্যাও করে নিয়েছে। যে খবর পত্র পত্রিকা টিভির মাধ্যমে সবাই জেনেও গেছে । কিন্ত সব জেনেও–চোখ বুজে বসেছিল নম- মতুয়ারা। ‘যা হইতাছে সে তো আসামের ব্যাপার, তাতে আমাগো কী’ ? তাই তারা ছুটে ছুটে গিয়ে ‘আমরা হিন্দু আমাগো দল বিজেপি’কে ভোট দিয়ে এসেছে । আর মাত্র কয়েকটি সিটে জিতে বিজেপি হুঙ্কার দিচ্ছে আসামের মত বাংলায়ও এন আর সি লাগু করা হবে । দুকোটি লোককে তাড়াবে । আপনার চার পাশে তাকিয়ে দেখুন তো আছে বাংলাদেশী মুসলমান ? তাহলে কাকে তাড়াবে অমিত দিলিপ ? আপনাকে ! আপনিই ওদের টার্গেট ।
এন আর সির ভয়ে মানুষ আজ ভয়ংকর ভীত ত্রস্ত- আতঙ্কিত। নমো মতুয়া কার কাছে আছে ১৯৪৮ সালের ১৯ জুলাইয়ের আগের নথিপত্র ? নথি খুঁজে না পেয়ে ভয়ে ত্রাসে ইতিমধ্যে বাংলার দশজন মানুষ আত্মহত্যা করে ফেলেছে । এরা এই পারে ! আত্মহত্যা করতে পারে, পারেনা তার কারনটাকে হত্যা করে দিতে পথে নামতে। তাই খুব শীঘ্রই মৃত্যুর মিছিল শুরু হয়ে যাবে বাংলায় । হাজারে হাজারে মরবে । সমাজদেহে সেই লক্ষন ইতিমধ্যে দেখা দিতে শুরু করেছে ।
যারা ওপার বাংলা থেকে আসা উচ্চবর্ন তারা সবাই এপারে এসে গিয়েছিল ১৯৪৭ সালের আগেই। সরকার তাদের ১৪৯ টি কলোনী বানিয়ে থাকার সুব্যবস্থা করে দিয়েছিল । তাদের কাছে পোক্ত কাগজ আছে । কেউ তাদের তাড়াতে পারবে না । তাই তাদের এন আর সি নিয়ে তেমন মাথা ব্যথা নেই । কিন্ত যত নোমো সব এসেছে ১৯৫০ সালের পরে । যোগেন মন্ডল ওপার থেকে পালিয়ে আসার পরে। তার উপর আবার এরা অধিকাংশ নির্ধন নিরক্ষর। কেউ জানতো না কোন কাগজ গুছিয়ে রাখা দরকার । ফলে সবচেয়ে বিপদে পড়বে এরাই । দেখার ব্যাপার এটাই যে আসামের ক্ষেত্রে ভিত্তিবর্ষ ১৯৭১ কিন্ত বাংলার বেলায় ৪৮ সাল ! নমো মতুয়াদের- বাঙালীদের প্রতি কতোটা হিংস্র হলে এমন দ্বিচারিতা করা যায় কেউ ভেবে দেখছেন?
লোকসভা ভোটের অনেক আগেই প্রায় ষাট বছরের এক বৃদ্ধা মহিলা মধুবালা মন্ডলকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল জেলে । পুলিস খুঁজছিল কোন এক মধুবালা দাসকে । সে মারা গেছে অনেক দিন আগে। তাকে না পেয়ে- কোটা পূরণ করতে- মধুবালা মন্ডলকেই ধরে নিয়ে যায় । তিন বছর বিনা দোষে কারাবাস করার পর সে সম্প্রতি ছাড়া পেয়েছে । তা সে দাস হোক কি মন্ডল কেউ তো মুসলমান নয়, তবু কেন জেলে নিয়ে যাওয়া হলো ? বলা হয়েছিল কোন হিন্দুকে নাকি কিছু বলা হবে না ? আসামের এই ভয়াবহ অবস্থা দেখেও বাংলার নম- মতুয়াদের চোখ খুলছে না । আজও বিজেপি প্রেমে মত্ত হয়ে আছে । সেই যে বলে না যে মরতে চায় কেউ তাকে বাঁচাতে পারে না ।
বাংলায় টার্গেট দু’কোটি, আছে এত বাংলাদেশী মুসলমান পশ্চিমবঙ্গে ? তাহলে কাদের দিয়ে পূরন হবে কোটা ? হবে এই নোমো মতুয়াদের দিয়ে । তাদের ভুলেই বাংলায় আজ বাঙালী বিরোধী শক্তি প্রবলভাবে সংগঠিত আর আক্রামক হয়ে উঠেছে । যারা ভয়াবহ একটা রক্ত প্লাবন চাইছে বাঙালীদের ঐক্য চুরমার করে দিতে । আজ তাদের হাতে সবচেয়ে বড় অস্ত্র উগ্র হিন্দুত্ববাদ আর বাঙাল ঘটি বিভাজন । বাঙালীর শক্তি ক্ষয় না করতে পারলে তাদের যেন স্বস্তি নেই ।

আসামে এখন উনিশ লক্ষের কিছু বেশি মানুষ ডিটেনশান ক্যাম্পে যাবার লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন । যার মধ্যে চৌদ্দ লক্ষ হিন্দু বাঙালী-নোমো মতুয়া । অনেকে অনেক বুঝিয়েছিল, বলেছিল যে পথে তোমরা হাটছো ওতে বিপদ আছে । কারো কথা ওরা কানে নেয়নি । মুসলমানকে বিপদে ফেলতে গিয়ে নিজেরাই এখন মরতে বসেছে ।
গোবলয় বিজেপি নেতারা চায় যেনতেন প্রকারে বাঙালীকে দুর্বল করে দিয়ে বাংলাতে হিন্দি আধিপত্য বিস্তার করতে । ‘হিন্দি হিন্দু হিন্দুস্থান’ সবাইকে এই গোয়ালে ঢোকাতে । এই ষড়যন্ত্র সফল করতে দলে দলে বিহার উত্তরপ্রদেশ খালি করে লোক বাংলায় পাঠানো হচ্ছে । ‘যা বেটা, পাটনামে কাহে কো ট্যাক্সি চালায় গা, কোলকাত্তামে যাকে চালা, হাম লোগ তেরেকো আপনা ট্যাক্সি দিলা দেগা’ । ‘ফুটপাতমে বইঠকে ফুচকা বেচ, উহা বহুত কামাই’ । শোনা যাচ্ছে– ১৯১১ সাল থেকে -১৯১৮ পর্যন্ত ওই পরিকল্পনার অঙ্গ হিসাবে প্রায় ৫০ লক্ষ হিন্দিভাষীকে বাংলার দখল নিতে পাঠানো হয়েছে । ওঁরা সুনিপুন পরিকল্পনা অনুসারে ধীরে ধীরে গোটা কলকাতা দখল করে নিয়েছে । কোন ফুটপাত আর খালি নেই, সব ওদের দখলে । কলকাতা কব্জা করে এবার গ্রামবাংলার অলি গলিতে তারা ছেয়ে যাচ্ছে । মুম্বাইকেও ওঁরা কব্জা করতে চেয়েছিল কিন্ত ওদের চালাকি বুঝতে পেরে মারাঠিরা মাঝে মাঝে ‘ঝাড়ু’ দিয়ে কিছু ময়লা সাফ সাফাই করে রাখে বলে সে পরিকল্পনা খানিক বাধা প্রাপ্ত হয়ে গেছে । কিন্ত বাঙালী তো আর মারাঠিদের মত স্বদেশ স্বজাতি প্রেমী নয়, এরা বাঙালী- বড়ই অতিথিপরায়ন আর নরম মনের মানুষ, যারা ওদের রুটি বেটি সব দিয়ে স্বাগত জানায় ।
হিন্দিভাষী বাড়িয়ে– তাদের আর ঘটি বাঙালীদের জোট বানিয়ে– তারপর এন আর সি করে- বাঙালদের কোনঠাসা করে ফেলতে পারলেই অবরে সবরে ঝাঁপাবে ঘটি বাঙালীদের উপর। তখন আর তারা কতজন থাকবে সংখ্যায়? নিকেশ করে ফেলতে কোন অসুবিধা হবে না । তাই এটা সবার বোঝা দরকার অন্য কিছু নয় মাত্র বাঙালীর শক্তিক্ষয় করার জন্য বিরাট আক্রমন নামিয়ে আনা হয়েছে এই এন আর সি র মাধ্যমে।
আজকের যুব সমাজ আপনাদের বলছি, আর এস এস এর মাইনে করা লোকেদের কথা একদম বিশ্বাস করবেন না । ওপার বাংলায় মুসলমান অত্যাচারের যে গল্প বলে বলে আপনাদের মন বিষিয়ে দেবার অপচেষ্টা চলছে তা সর্বৈব মিথ্যা । আজ বাংলাদেশে হিন্দু জনসংখ্যা মাত্র ১০% অথচ সরকারি চাকরিতে রয়েছে ২৬% মানুষ । এবং সব রয়েছে সরকারের গুরুত্বপুর্ন দপ্তরের উচ্চপদের অফিসার হয়ে । যারা সৎ ভাবে জীবন নির্বাহন করছে তাদের উপর কোন অত্যাচার হচ্ছে না ।তাহলে এখন এক কোটি তিরিশ লক্ষ হিন্দু ওখানে বাস করতে পারতো না ।
বাংলাদেশের সরকার মোটেই বৈরী মনোভাবের নন বরং হিন্দুদের প্রতি যথেষ্ট সহানুভুতিশীল । তবে এটা ঠিক– যে দেশের শতকড়া ৯০ জন মুসলমান, সেখানে চুরি ডাকাতি ছিনতাই ধর্ষন এমন একশোটা অপরাধ হলে যারা তা করেছে তার ৯০টা সংঘটিত হবে মুসলমান অপরাধী দ্বারাই । হিন্দু বৌদ্ধ খৃষ্টান ঐক্য পরিষদ নামে এক সংগঠন দাবী করেছে যে ২০১৯ সালের প্রথম চার মাসে নাকি ধর্ষন ও যৌন হয়রানির কারনে আত্মহত্যা করেছে ৩ জন নারী আর গনধর্ষনের শিকার হয়েছে মোট পাঁচ জন । যা নিয়ে অনেক হিন্দত্ববাদী খুব চিৎকার করে থাকেন- ওদেশে হিন্দুরা সুরক্ষিত নয় । কিন্ত তারা বলে না যে ওই একই সময়ে অন্য আরও ৩৯৬ জন নারী শিশুও ধর্ষিত হয়েছে। যারা ধর্ষক তারা কোন জাতধর্মের হয়না । তাদের পরিচয় তারা ক্রিমিন্যাল। জাত দিয়ে তাদের বিচার করা অনুচিত । বাংলাদেশের সরকার যাদের কঠোর হাতে দমন করার চেষ্টা চালাচ্ছে । ‘যে কারনে বাংলাদেশে আওয়ামী শাসনে ২০১০ থেকে ১৮ সালের মধ্যে পুলিসের গুলিতে মারা গেছে ১৭৬৬ জন । যার মধ্যে মাত্র একজন হিন্দু-বাদবাকি সব অন্য ধর্মের’।

এবার কেউ যদি কোন বিশেষ উদেশ্য দ্বারা চালিত হয়ে অপরাধীকে অপরাধী না বলে সোজা ‘মোল্লা’ বলে চিহ্নিত করতে চায় সেটা রাজনৈতিক ধান্ধার দিক থেকে সঠিক হলেও সমাজতত্বের নিরিখে সঠিক কখনও নয় । মোল্লা আমার মাথায় বাড়ি মেরেছে , মোল্লা আমার ঘরে চুরি করেছে , মোল্লার গোরু আমার ধান খেয়েছে এসব বিদ্বেষ প্রসুত পুর্বাগ্রহ জনিত বয়ান মাত্র ।
আমার বলার কথা এটা নয় যে ওদেশে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা হয় না । হয়, হতেই পারে । সম্প্রদায় থাকলে সাম্প্রদায়িকতা থাকবেই । তবে পরিসংখ্যান বলে যে বাংলাদেশের চেয়ে ভারতে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা অনেক গুন বেশিই হয় । এই তো সেদিন গুজরাতে বীভৎস দাঙ্গা হয়ে গেল । মায়ের পেট চিরে বাচ্চা বের করে ত্রিশূলে গেঁথে শহর প্রদক্ষিন করেছে দাঙ্গাকারীরা । বাংলা দেশে কিন্ত সেটা হচ্ছে না । তাই অপপ্রচারে বিভ্রান্ত হবেন না ।
মিথ্যা বলে বলে যেমন হিন্দু মুসলমানের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি করছে বাঙালীর বিরোধিরা তেমন আবার ঘটি বাঙাল বলেও সেই একই খেলা খেলছে । এই হিন্দিভাষীরা বাঙালদের যেমন বোঝাচ্ছে আমরা হিন্দু, তোমরা হিন্দু দুদল মিলে মুসলমান তাড়াতে হবে ! আবার এরাই পশ্চিমবঙ্গের বাঙালীদের গভীর ভাবে বোঝাচ্ছে- তোমরা এই দেশের আর বাঙালরা হচ্ছে সব বহিরাগত । এদের এখান থেকে তাড়াতে হবে । আর সেটা করতে পারলেই ওদের ঘর বাড়ি জায়গা চাকরি ব্যবসা সব তোমাদের হয়ে যাবে । ওদের প্রচারে বিভ্রান্ত হয়ে যে বাঙালরা গদগদ হয়ে ‘মেয়া’ মারার স্বপ্ন দেখছিল তারাই এবার বিহারী আর ‘ঘটিদের’ হাতে ব্যাপকঝাড় খাবে । আবার ভিটে মাটি হারা হতে হবে।
গত পাঁচ বছরে যাদের কোন ভালো কাজের নজির নেই,অথচ অপকর্মের উদাহরন ভুরি ভুরি-! আগের তুলনায় দলিতদের উপর অত্যাচার শতগুন বৃদ্ধি পেয়েছে । জুতো পায়ে দেবার অপরাধে, জলের বালতি ছুয়ে দেবার অপরাধে, মন্দিরে প্রবেশ করার অপরাধে, সাপ মারার মত পিটিয়ে পিটিয়ে মেরে দিচ্ছে, প্রতি পনের মিনিটে একটি মেয়ে ধর্ষিত হচ্ছে যার অধিকাংশ দলিত মহিলা নাবালিকা- এই সব কথা ভুলে গিয়েছিল নোমো মতুয়ারা । ভুলে গিয়েছিল যে হিন্দুধর্মের কাছে তারা অচ্ছুৎ অস্পৃশ্য- চণ্ডাল । কোনদিন তোমাদের ওঁরা আপন ভেবে গলায় জড়িয়ে ধরবে না । কিন্ত তারা সেটা বুঝলে তবে তো ! এন আর সি লাগু হলে তাদের ক্ষতি হবে সবচেয়ে বেশি আর তারাই সেই শক্তির পক্ষে দাঁড়িয়ে পড়েছে। যারা ওই ভয়াবহ আইন আনতে চলেছে তাদের পক্ষেই গলাবাজি করছে । নির্বোধগুলো জানে না যে বিজেপি মছলিখোর বাঙালীকে মোটেই পছন্দ করে না । এখানকার বামুনও ওদের কাছে খাটি বামুন নয় । যেসব রায় ঘোষ ওদের হয়ে গলাবাজি করছে বিজেপি একবার ক্ষমতায় এসে গেলে পাছায় লাথি মেরে তাড়িয়ে দিতে কালবিলম্ব করবে না ।
এখানে বলা দরকার – আজ যেমন গোটা হিন্দু সমাজের প্রতিনিধিত্ব মোদী অমিত শাহ করে না, তেমন দেশ ভাগের আগে গোটা মুসলমান সমাজের প্রতিনিধিত্বও মহম্মদ আলি জিন্নার ছিলো না । সে ছিল মুসলমানদের একটা মাত্র ক্ষুদ্র অংশের নেতা । তারাই দাবী করেছিল পাকিস্থান। তবু বলা হয় যে মুসলমানেরা পাকিস্থান চেয়েছে তাই দেশভাগ হয়েছে। তা তাই যদি হবে তাহলে যত মুসলমান সংখ্যাধিক্য জেলা- নদীয়া মালদা মুর্শিদাবাদ তাহলে পাকিস্থানে থাকতো আর বরিশাল খুলনা ফরিদপুর যশোর চলে আসতো ভারতে । উল্টো কেন হলো ?
হলো, কারন বাঙালীদের শক্তিক্ষয় করা যেমন তাদের উদ্দেশ্য ছিল আর একটা উদ্দেশ্য ছিল– মাহার ও নমো শূদ্রদের ঐক্যে ফাটল ধরানো । বিভাজিত করা । আপনারা অনেকেই জানেন যে সে সময় মহারাষ্ট্রের মাহার নেতা ভীমরাও রামজি আম্বেদকর আর পুর্ববাংলার নমো নেতা যোগেন্দ্রনাথ মন্ডল মিলে ভারতের উচ্চবর্ন নেতাদের চোখের ঘুম কেড়ে নিয়েছিল । স্বাধীন ভারতের সংবিধান রচনার জন্য যে কমিটি গঠনের আয়োজন চলছিল সেখানে প্রবেশ পেতে হলে প্রয়োজন ছিল ভোটে জয়ী হয়ে আসা । বাবা সাহেব আম্বেদকর সেই কমিটিতে যাবার জন্য মহারাষ্ট্রে ভোটে দাঁড়িয়ে ছিলেন। কিন্ত তিনি ব্রাম্মন্যবাদীদের গভীর এক চক্রান্তে পরাজিত হয়ে যান । ওনাকে পরাজিত করে কংগ্রেস নেতা বল্লভভাই প্যাটেল এই বলে উল্লাসে ফেটে পড়েছিলেন- ‘আম্বেদকরকে লিয়ে সংবিধান সভাকা দরবাজা তো দূর কি বাত, হামনে খিড়কী তক বনধ কর দিয়া’। তখন বাংলার বাঘ যোগেন্দ্রনাথ মন্ডল তাকে ডেকে পুর্ববাংলায় নিয়ে আসেন আর ভোটে জিতিয়ে সংবিধান সভায় পাঠান। এই ঐক্য ব্রাম্মন্যবাদী শক্তি ভালো ভাবে নেয়নি । তারা বুঝে ছিল নমো মাহারের ঐক্য আগামী দিনে উচ্চবর্ন সমাজের সামনে বিরাট সমস্যা হয়ে দাঁড়াবে । তাই “মুসলমান” দের পাকিস্থান দাবীর মধ্যে কায়দা করে তারা তাদের নিজেদের কৌশল গুঁজে দেয় । অচ্ছুৎ অস্পৃশ্য আম্বেদকরকে সংবিধান সভায় পাঠানোর শাস্তি সরূপ নমোদের ফেলে দেয় পুর্ব পাকিস্থানে । খুলনা ফরিদপুর যশোর বরিশাল নমো শূদ্র অধ্যুষিত এই চার জেলা তাই ভারতের বাইরে করে দেয় । এটা না করলে আজ যে ভয়াবহ উদ্বাস্ত সমস্যা এটা থাকতো না । আজ যে দলিত আন্দোলন বাংলায় একেবারে নেই- সেটা হতো ।
আজ সেই নোমোরা আবার বাংলায় শক্তিবৃদ্ধি করে নিচ্ছে, ব্রাম্মন্যবাদের চোখে চোখ রেখে কথা বলার স্পর্ধা দেখাচ্ছে, এটাকে তারা কিছুতে মেনে নিতে পারছে না । তাই আবার তাদের উচ্ছেদ করে দিতে আদাজল খেয়ে নেমে পড়েছে । বাঙালী নমো মতুয়াদেরও এটাও বুঝতে হবে। তারা যতই ভোট দিক যতই জয় শ্রীরাম বলে চেঁচাক যাদের সে আপন ভাবছে শেষ পর্যন্ত গলা কিন্ত সেই টিপে ধরবে । তখন কিন্ত ওই ছোট ঠাকুর আপনাকে বাঁচাতে আসবে না । সে আগেই বিদেশে পালাবে । কেউ কেউ আজকাল এমন বলছে তাকে নাকি বিদেশ থেকে মোটা টাকা দিয়ে এদেশে আনাই হয়েছে এই কাজের জন্য। কাজ শেষ করে আবার সে ফিরে যাবে তার সেই আগের আস্তানায় ।
এখন বাঁচতে হলে মাত্র একটাই পথ খোলা আছে– যে ভুল আগে করা হয়েছে সেটাকে শুধরে নিতে হবে । আর কাউকে বিজেপির মিছিলে যেতে দেবেন না । ভোট দেওয়া তো অনেক দূরের কথা- ওদের পক্ষ নিয়ে কেউ কথা বলতে এলে শুনবেনই না। জানবেন সে আপনার সর্বনাশ করতে চাইছে। সে যত আপন যত চেনাজানা হোক, গুরু গোঁসাই ঠাকুরের বংশধর হোক, জানবেন সে এক মিরজাফর, আপনার আমার শত্রু । নিজের স্বার্থের জন্য গোটা জাতিকে মরনের মুখে ঠেলে দিতে চাইছে। সে যদি আপনার দরজায় গলা শুকিয়ে মরে যায় এক গেলাস জলও যেন না দেন । ঘৃনা করুন ওদের, বহিস্কার করুন সমাজ থেকে । খবর পাচ্ছি কারা কারা যেন কোন এক ঠাকুরের নাম লেখা কার্ড বিতরন করছে যার বিনিময়ে পাঁচশো, হাজার করে টাকা নিচ্ছে মাথা পিছু । জানবেন আপনাকে ধোঁকা দেওয়া হচ্ছে, আপনার কষ্টের পয়সা হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে মিথ্যা কথা বলে । ওই কার্ড আপনাকে এন আর সি থেকে বাঁচাতে পারবে না। বাঁচাতে পারবে একমাত্র তীব্র গন আন্দোলন। যত বিজেপির দালাল আছে তাদের সামাজিক বয়কট করতে হবে। ঘাড় ধরে তাড়িয়ে দিতে হবে বাংলার বাইরে। বাংলার মাটিতে বসে বাংলার খেয়ে বাংলার পরে যারা বাঙালীর বিরোধী শক্তির সঙ্গে হাত মেলাবে তাদের ‘হাতে ভাতে জলে মারতে হবে’ । ভয়ানক ত্রাস সঞ্চার করে দিতে হবে ওদের বুকে । মনে রাখবেন ক্ষুদীরাম, মাষ্টারদা সুর্যসেন বিনয় বাদল দীনেশ আপনার পুর্ব পুরুষ । যাদের ভয়ে ইংরেজ সরকার পর্যন্ত কেঁপে গিয়েছিল । তা যদি পারেন তবেই আপনি বাঁচবেন, আর তা না পারলে ডিটেনশান ক্যাম্পে যাবার জন্য প্রস্তত থাকুন । শেষ বিদায় নিয়ে রাখুন আত্মীয় স্বজনদের কাছ থেকে।
ওঁরা আপনার কাছে নানা মিথ্যার ঝুড়ি নিয়ে আসবে । বলবে এন আর সি করবে না ! কিন্ত বিশ্বাস করবেন না ওদের কথায় । আসামের মানুষ ওদের বিশ্বাস করে মরেছে আপনি সেই ভুল যেন করবেন না । সেই বোতলের দৈত্যের কথা জানেন তো ? এরা সেই দৈত্য । একবার বোতল থেকে বাইরে বের করে দিলে আপনার আর ক্ষমতা হবে না তাকে আবার বোতলে বন্দী করার । তাই যা করতে হবে তা আজই, এখনই -।
আর একটা কথা বলেই আমি শেষ করবো, মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি হয়ত আপনাদের জন্য কিছুই করেননি । এই অভিযোগ তো আমারও । আমার জন্যেও কিছু করেননি । চাইলে অনেক কিছু তিনি করতে পারতেন । আবার তিনি জিতলে আমাদের কোন মঙ্গল হয়ত হবে না। তা স্বত্বেও এটা বলা যায়, তিনি কোন উপকার করুন আর না করুন- অন্ততঃ জেনে বুঝে বাঙালীর ক্ষতি হয় এমন কিছু করবেন না । অজান্তে যদি তার দ্বারা কোন ক্ষতি হয়েই যায় সে ক্ষতির পরিমান আর কতটুকু হবে ? ও টুকু সহ্য করে নিয়ে আমরা বেঁচে বর্তে থাকতে পারবো । কিন্ত মমতার উপরে রাগ করে যাদের আনতে চাইছেন তারা তো আপনাকে ভিটে মাটি থেকে উচ্ছেদ করে দেবে । জীবন বরবাদ করে দেবে । পঁচিয়ে মারবে জেলখানায় । ওঁরা এত হিংস্র যে আপনার উপর প্লেন থেকে বোমা ফেলতেও দ্বিধা করবে না ।
আমার যা বলার ছিল বলে দিলাম এবার বাকিটা আপনার ভাববার । আপনি মরতে চাইলে আর আপনাকে কে বাঁচাবে ! ধন্যবাদ, ভালো থাকুন ।

(টিডিএন বাংলায় প্রকাশিত লেখাটি মনোরঞ্জন ব্যাপারীর ফেসবুক ওয়াল থেকে নেওয়া। লেখকের অনুমতি ক্রমে প্রকাশিত। বহু গ্রন্থের প্রণেতা মনোরঞ্জন বাবু দি হিন্দুর পুরস্কার পেয়েছেন। দেশের একাধিক বড় সংস্থা সম্মানিত করেছে।)