অন্ধ পুরুষ একটু ভাবো, ধর্ষন করো কাকে!

0
সালমা খাতুন, টিডিএন বাংলা: মোমবাতি মিছিল, মুখে কালো ব্যান্ড, হাতে প্ল্যাকার্ড। চারিদিকে আওয়াজ উঠছে ‘ধর্ষকের শাস্তি চাই ‘। এখন কাঠুয়া ও উন্নাও ধর্ষণকান্ড নিয়ে, অতীতে দিল্লীর নির্ভয়া বা রাজারহাটের ছোট্ট গ্রাম কামদুনীর ধর্ষিতার জন্য। কখনো প্রতিবাদ হয়েছে মানবিকতার খাতিরে তো কখনো বা রাজনৈতিক স্বার্থে। যখনই কোনো ধর্ষণকান্ড মিডিয়ায় হেডলাইন হয়েছে, তখনই প্রতিবাদে গর্জে উঠেছে গোটা দেশ। কিন্তু তারপরও কী বদলেছে সমাজের চিত্র? বরঞ্চ দিনের পর দিন বেড়েই চলেছে শ্লীলতাহানি, ধর্ষণের মত ঘটনা।
আর দোষীরা কিছু কিছু ক্ষেত্রে শাস্তি পেলেও বেশিরভাগ সময় দোষীরা আইনের ফাঁক গলে বিনা বিচারে বহাল তবিয়তে ঘুরে বেড়ায়। কিছু কিছু ঘটনা সামনে আসলেও বহু ধর্ষিতার গোমরানো কান্না চাপা পড়ে যায় নীতিহীন সমাজের আড়ালে। কেউ চুপ থাকে লজ্জায় তো কেউবা সমাজের রক্তচক্ষুর ভয়ে। যদি কেউ সাহস করে পুরুষতন্ত্রের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে বিচার চাইতে যায়, তাহলে তাকে সহ্য করতে হয় সমাজের গঞ্জনা, নানান হুমকি।
মোমবাতি মিছিল, কালো ব্যান্ড পরে প্রতিবাদ বা ফেসবুক, টুইটার, ইনস্টাগ্রামে বিষোদগারে আর যাই হোক ধর্ষণ কমবে বলে মনে হয় না। এর জন্য দরকার নীতিবান সমাজের। আর এর শুরুটা সবসময় নিজের থেকে করা দরকার। অন্যকে জ্ঞান দিয়ে নয়। অন্ধ ধর্ষকদের একটু বিবেকটা জাগিয়ে ভাবা দরকার এই নারীই তাকে দশমাস গর্ভে ধারণ করেছে, এই জাতি তার বোনের জাতি, তার কন্যার জাতি। যতদিননা এই অন্ধ পুরুষরা ভাবতে শিখছে, এই নারী জাতির স্থানটা কোথায়, ততদিন কমবেনা সমস্ত নারীর পরিবারের আতংক।
এছাড়াও দরকার সঠিক ও নির্ভেজাল বিচারের। যেন কোনো ধর্ষণকারী অন্যায় করে আইনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে নির্বিচারে ঘুরে বেড়াতে না পারে। আর রাজনীতিকদেরও উচিত এই বিষয়টিকে রাজনীতির নোংরা খেলায় সামিল না করা। সব পরিবারই চায় তার মেয়েটা যেভাবে বাড়ি থেকে বার হচ্ছে, সেভাবেই ফিরে আসুক। আর দুঃখের বিষয় এই যে শাষকরা ধর্ষিতাকে ন্যায় বিচার পাইয়ে দেওয়ার চাইতে ক্ষতিপূরণ দিতেই বেশি আগ্রহী! এই পরিস্থিতিরও পরিবর্তন অবশ্যই দরকার, কিন্তু আদৌ পরিবর্তন আসবে কিনা সে প্রশ্নের জবাব অধরাই।