অভিমন্যু মাহাত, টিডিএন বাংলা: পুরুলিয়ার যে অঞ্চলে আমার বাড়ি তার আসে পাশের গ্রামের এমন একজনও নেই, যে ডাক্তারি পড়ছে। হ্যাঁ, আমার গ্রামের এলাকার ছেলে মেয়েরা এখনও পড়াশোনায় পিছিয়ে। তারমানে এই নয়, যে ছেলেটা জয়েন্টে মেডিক্যালে ভাল রাঙ্ক করেছে, তার প্রতি আমার বিদ্বেষ মনোভাব। সাংবাদিকতার পেশায় এসে বা সাহিত্য জগতে এসে অনেক বহু ডাক্তার বন্ধু বান্ধব হয়েছে। তাঁরা আমার সুখে দুঃখের সাথী। আপনজন।
জুনিয়র হোক বা সিনিয়র সকল ডাক্তারদের প্রতি যে কোন আক্রমনই শাস্তিযোগ্য অপরাধ। কখনই সমর্থন করা যায় না। এনআরএস কাণ্ডে প্রথম দিকে জুনিয়র ডাক্তারদের আন্দোলনকে আমি সমর্থন করেছি। কিন্তু এখন আর  সমর্থন করা যাচ্ছে না। দিনের দিনের পর দিন আপনারা চিকিৎসা পরিষেবা লাটে তুলে দেবেন, গরিব মানুষ গুলো চিকিৎসা না পেয়ে মরবে, এটাকে সমর্থন করা যায় না। কই আপনারা তো নার্সিংহোমের চিকিৎসা পরিষেবা বন্ধ করছেন না? সেখানে কেন কর্মবিরতি নেই? অর্থাৎ যাঁদের টাকা আছে, তাঁরা নার্সিংহোমে গিয়ে চিকিৎসা করুক। মরুক কেবল গরিবরা।
ডাক্তাররা রক্ত শোষক, এটা সর্বজন বিদিত। সরকারি হাসপাতালের ডিউটি ফাঁকি দিয়ে নার্সিংহোমে ছুটেন। একজন রোগী প্রথমে গেলেই একগাদা টেস্ট লেখেন, যে টেস্ট গুলি করতে হয় বেসরকারি প্যাথলজিতে। সেখান থেকে রোগী পিছু কমিশন আসে। এর  পাশাপাশি মেডিক্যাল রিপ্রেজেন্টেটিভরা রয়েছেন। একটা ওষুধ লিখলে অফার আসে বিদেশ ট্যুর, দামি ফ্রিজ থেকে নানান লোভনীয় বস্তু। ব্যতিক্রম ডাক্তার অবশ্যই আছেন। আমার ডাক্তার বন্ধুরা সেই তালিকায় পড়েন না।
জুনিয়র ডাক্তারদের বলব, প্লিজ অনেক হয়েছে। এবার ইগো ছাড়ুন। আপনারা নবান্নে যান। আলোচনায় বসুন। চিকিৎসা পরিষেবা স্বাভাবিক করুন। গরিবদের আর বিনা চিকিৎসায় মারবেন না। আর সিনিয়র চিকিৎসকরা গণ ইস্তফার নাটক বন্ধ করুন। গণ ইস্তফা আইন মাফিক গৃহীত হয় না। এটা আপনারা নিজেরাও জানেন। আপনারাও গরিব মুমূর্ষু রোগীদের পাশে গিয়ে দাঁড়ান। রোগীর আত্মীয়দের কাছে ভগবান হোন।