তিয়াষা গুপ্ত, টিডিএন বাংলা: কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ড। বারেবারে ব্রিগেডকে ঘিরে আবর্তিত হয়েছে জাতীয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক রাজনীতি। গড়ের মাঠে ইতিহাসের কানাকানি, আজও অমোঘ বঙ্গবন্ধুর দৃপ্ত ভাষণ। ১৯ জানুয়ারি ব্রিগেডে বিরোধী শক্তির ঐক্যবদ্ধ ছবি তুলে ধরে গড়ের মাঠে ইতিহাস লিখে দিয়েছিলেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এরপর লালে লাল হয়েছে বামেদের ব্রিগেড। শারীরিক অসুস্থতা নিয়ে এসেছিলেন বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য। এরপর আগামী কাল ব্রিগেডে মোদীর জনসভা। অতীতে মমতা কিংবা বামেদের রেকর্ড ভাঙতে পারবেন মোদী? ভিড়ো মিটার থেকে শুরু করে মোদীর সামনে আরো অনেক হার্ডল। প্রধানমন্ত্রী কতটা সফল হবেন, সেই প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে ময়দানের খোলা বাতাসে।

ব্রিগেডে অতীতে লেখা হয়ে গেছে অনেক ইতিহাস। ১৯৭২ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী কলকাতা ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে ভাষণ দেন। সেদিনের সেই বিপুল লোক সমাগমের রেকর্ড পরে বহুদিন ছুঁতে পারেনি আর কোনো সভা। আকাশবাণী ও কলকাতা দূরদর্শনের তরফে এই অনুষ্ঠানের ধারাবিবরণী দেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্র, পঙ্কজ সাহা ও দেবদুলাল বন্দ্যোপাধ্যায়কে। ইতিহাসের পাতা উল্টে জানা যায়, সেদিন মুজিবুর রহমান তাঁর ভাষণের শুরুতে রবীন্দ্রনাথের একটি কবিতা উদ্ধৃত করেন। পরের পর জনতার ভিড় থেকে কবিতা পড়ার অনুরোধ আসতে থাকে। তিনি সেই অনুরোধ ফেরাননি। ২ বাংলার মধ্যে আজও যে সাঁকোটা অক্ষয় হয়ে আছে, সেদিন এই ব্রিগেডেই তাঁর কাঠামো নির্মাণ করেছিলেন বঙ্গবন্ধু। একথা বললে বোধহয় অতিকথন হয় না।

ফাইল ছবি- ভাষণ দিচ্ছেন বঙ্গবন্ধ, পাশে বসে ইন্দিরা গান্ধী

বিগ্রেড ও রাজনীতির চড়াই-উতরাই, বারেবারে সমার্থক হয়ে উঠেছে। জাতীয় স্তরে বিরোধীদের জোট তুলে ধরতে ব্রিগেড প্যারেড ময়দান অতীতে ইতিহাস তৈরি করেছিল। আজও যা আলোচ্য। বিশ্বনাথ প্রতাপ সিং তখন কংগ্রেস ভেঙে জনমোর্চা তৈরি করে রাজীব গান্ধীর বিরুদ্ধে বিরোধীদের এক মঞ্চে আনার প্রধান কারিগর হয়ে উঠেছেন। লালুপ্রসাদ যাদবের পরামর্শে জ্যোতি বসু বিরোধী নেতাদের নিয়ে ১৯৮৮ সালের ২ জুলাই ব্রিগেডে ভিপি সিংকে সম্বর্ধনা দেওয়ার ব্যবস্থা করেন। সেই মঞ্চে ছিলেন বিজেপির শীর্ষ নেতা অটল বিহারী বাজপেয়ীও। বিশাল জমায়েতে ভিপিকে মাঝখানে রেখে হাতে হাত রেখে জোট গড়েছিলেন জ্যোতি বসু ও বাজপেয়ী। দেশের রাজনৈতিক অ্যালবামে হাজার ছবির ভিড়ে এই মুহূর্ত হারিয়ে যায়নি। স্থান সেই ব্রিগেড, যাকে কেন্দ্র করে সেদিন তৈরি হয়েছিল ইতিহাস।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও বারেবারে ব্রিগেডে সভা করেছেন, ব্রিগেড ভরিয়েছেন। বামেদেরও এমন ইতিহাস আছে। এবার চ্যালেঞ্জ মোদীর সামনে। কারণ তিনি এমন একটা সময় বাংলায় আসছেন, যখন তাঁর সামনে সমস্যা অনেক। বিশেষ করে প্রার্থী তালিকা প্রকাশের পর থেকে তা নিয়ে দলের অন্দরের ক্ষোভ চাপা থাকেনি। জানা গেছে, মোদী এই সমাবেশ থেকে দলীয় কর্মীদের চাঙ্গা করতে চান। শুধু তাই নয়, বাংলাকে প্রথম থেকে পাখির চোখ করেছেন মোদী ও তাঁর প্রধান সৈনিক অমিত শাহ। তাই তাঁরা বারেবারে রাজ্যে ছুটে এসেছেন সভা করেছেন। তবে ব্রিগেড রাজনৈতিক চড়াই-উতরাইয়ের নিরিখে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মোদী চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করে অতীতের রেকর্ড ভাঙতে পারেন কিনা, এখন সেটাই দেখার।