সুরাইয়া খাতুন, টিডিএন বাংলা : বিজেপির ‘গনতন্ত্র বাঁচাও’ যাত্রা আগামী ৫ই ডিসেম্বর তারাপীঠ, ৭ই ডিসেম্বর গঙ্গাসাগর এবং ৯ই ডিসেম্বর কোচবিহার থেকে শুরু হবে। প্রতিটি রথ যাত্রার সূচনাকারী হলেন বিজেপি সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহ। আর থাকবেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ এবং অসমের মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল।

উত্তরপ্রদেশে গত বিধানসভা ভোটের আগে রথ বের করেছিল গেরুয়া শিবির। বিজেপির সেই রথযাত্রা বিপুল সাড়া ফেলেছিল গো-বলয়ে। রথের মাধ্যমে জনজাগরণের যে কৌশল উত্তরপ্রদেশের ক্ষেত্রে নিয়েছিলেন বিজেপি নেতারা সেটাই এবার তাঁরা বাংলাতে প্রয়োগ করতে চাইছেন। ওরা বেশ বুঝে গেছে যে, সামনের ভোটে কেউ আর বিকাশ বা স্বচ্ছতার জন্য ওদের ভোট দেবে না।

বিগত প্রায় ৫ বছরে বিজেপি করেছে কি? পেট্রোল ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধি, ব্যাংক গুলোকে লুঠ করে ব্যবসায়ীদের বিদেশে পালাতে সাহায্য করা, মোব লিঞ্চিং, নারী নির্যাতন, ধর্ষণ, নোট বাতিল, প্রাইভেট কোম্পানিকে যুদ্ধ বিমান তৈরির বরাত দেওয়া, গণপিটুনি, গণহত্যা, হিন্দু-মুসলিম ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করা, সিবিআই, আরবিআই ইস্যু ইত্যাদির পরেও টাকা বিলিয়ে বাংলায় জেতার জন্য রথ যাত্রার এলাহি আয়োজন! তাই রথ, রাম মন্দির, রাম মূর্তিই এখন প্রধান ঘুঁটি। এখন পাবলিকের ধর্মীয় ভাবাবেগকে কাজে লাগাতে তৎপর গেরুয়া শিবির।

গত শনিবার মালদহে এসে রথ যাত্রার প্রস্তুতি বৈঠক করেন রাজ্য বিজেপি মহিলা মোর্চা সভানেত্রী লকেট চট্টোপাধ্যায়। সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, এ রাজ্যে গণতন্ত্র বিপন্ন। নারী নির্যাতন বন্ধ করতে এবং এ রাজ্যে গণতন্ত্র ফেরাতে যাত্রা করতে চলেছে বিজেপি। সাধারণ মানুষ থেকে নিরীহ মহিলারা অত্যাচারের শিকার হচ্ছেন। গণতন্ত্র বাঁচাও যাত্রার রথ আটকাতে গেলে পিষে মারা হবে।

এই রথযাত্রাকে তারা যে নাম দিয়েছে ‘গণতন্ত্র বাঁচাও যাত্রা’। এখানে আমার প্রশ্ন, গণতন্ত্র কি শুধুই বাংলায় বিপন্ন? সারাদেশব্যাপী গণতন্ত্র চরম বিপর্যয়ের মুখোমুখি। আর শুধু বাংলায় কি মহিলারা নির্যাতিতা, ধর্ষিতা হয়? সমীক্ষা বলছে, নারী নিরাপত্তার দিক দিয়ে পিছিয়ে থাকা তিনটি রাজ্য হল উত্তর প্রদেশ, দিল্লী ও রাজস্থান। এছাড়া তাঁর ‘রথের চাকায় পিষে দেওয়ার’ হুমকিও নিন্দনীয় ও উস্কানিমূলক বলে মনে হয়।

এসব কারণে তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে এই রথ যাত্রাকে ঘিরে। অনেকে এটা নিয়ে যথেষ্ট চিন্তিত ও আতঙ্কিত ও বটে। বিজেপি রথ যাত্রার মাধ্যমে বাংলায় একটা দাঙ্গা বাধাবার সূচনা করতে চলেছে। বাংলার শুভবুদ্ধি সম্পন্ন কোন মানুষ চাইছে না, এমন কোন পরিস্থিতির সৃষ্টি হোক যাতে আবার সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা শুরু হতে পারে। ওটা একমাত্র তারাই চাইছে, যারা মানুষের চিতার আগুনে রাজনৈতিক রুটি শেঁকতে ইচ্ছুক। কারণ এই কায়দায় তারা বার বার সফল হতে পেরেছে।

বিজেপির এই অসাধু উদ্দেশ্যকে প্রতিহত করতে জাতি, ধর্ম, বর্ণ, রাজনৈতিক দল নির্বিশেষে সব শক্তি একত্রীকরণ করতে হবে। এই রথযাত্রা রোখার ইঙ্গিত দিয়েছেন রাজ্য তৃণমূল নেতৃত্ব। আবার সিপিএমও একটা প্রতিরোধ আন্দোলন সংঘটিত করতে চাইছে। কিন্তু বিচ্ছিন্ন হয়ে করতে চাইলে সফল হওয়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। অতীতে এমনি একবার এদের যাত্রা বিহারে এসে আটকে গিয়েছিল। লালুপ্রসাদ যাদব রুখে দিয়েছিলেন। ফলে কেন্দ্রে সরকার পড়ে গিয়েছিল। লালুপ্রসাদ যদি সফল হতে পারে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পারবেন না কেন?