বিশেষ প্রতিবেদন, টিডিএন বাংলা : ২০১২ সালের এই সময়ে এক বৌদ্ধ নারীকে ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের রাজধানী সিটওয়েতে রোহিঙ্গা ও বৌদ্ধ ধর্মের অনুসারীদের মধ্যে দাঙ্গার সূত্রপাত হয়েছিল।
সেই সময় রোহিঙ্গাদের ঘরবাড়ি ও মসজিদ ভেঙে ফেলা হয়েছিল। হাজার হাজার রোহিঙ্গা গৃহহীন হয়ে পড়েছিলেন। তাঁরা রাখাইন রাজ্যের অন্যান্য অংশে চলে যেতে বাধ্য হয়েছিলেন। পরিবার-পরিজন নিয়ে তাঁদের অনেককে অস্থায়ী ক্যাম্পে আশ্রয় নিতে হয়েছে। দুই বছরের জন্য এসব ক্যাম্প নির্মাণ করা হলেও পাঁচ বছর ধরে তাঁরা সেখানে বাস করছেন।
তবে সম্প্রতি জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কোফি আনানের নেতৃত্বাধীন কমিশন এসব ক্যাম্প বন্ধ করে দেয়ার পরামর্শ দেন। মিয়ানমার সরকার সেগুলো বন্ধের কাজ শুরু করেছে।
গত এপ্রিলে রামরি শহরের এমনই একটি ক্যাম্প বন্ধ করে দেয়া হলে ৫০ বছর বয়সি বিধবা নারী ‘নিয়ে নিয়ে উ’ দুই কন্যা সন্তানকে নিয়ে ইয়াঙ্গনে পাড়ি জমান। ক্ষতিপূরণ হিসেবে তিনি সরকারের কাছ থেকে ৫৯০ ডলার পেয়েছিলেন। তবে গত দুই মাসে অর্ধেক টাকা শেষ হয়ে গেছে তাঁর। বাড়ি ভাড়া আর খাবারের পেছনে সেই টাকা চলে গেছে। ইয়াঙ্গন শহরে তাঁর চাকরি পাওয়ার আশাও ক্ষীণ বলেই মনে করছেন তিনি। তাই ভবিষ্যৎ কীভাবে চলবে তা নিয়ে উদ্বিগ্ন নিয়ে নিয়ে উ। গ্রামের বাড়ি যে ফিরে যাবেন সেই সুযোগও নেই।
গত দুই মাসে অর্ধেক টাকা শেষ হয়ে গেছে তাঁর
এদিকে মানবাধিকার কর্মীরা ক্যাম্প ভেঙে দেয়া সমর্থন করলেও সরকার যেভাবে কাজটি করছে তার সমালোচনা করেছে। ‘‘রাখাইন রাজ্যে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে না এনে রোহিঙ্গাদের অন্যত্র পাঠিয়ে দেয়ার মানে হচ্ছে, সমস্যাটা এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় নিয়ে যাওয়া,” বলেন মার্ক কাটস। তিনি মিয়ানমারে অবস্থিত জাতিসংঘের ‘অফিস ফর দ্য কো-অর্ডিনেশন অফ হিউম্যানিটারিয়ান অ্যাফেয়ার্স’ এর প্রধান।
অন্যদিকে, রাখাইনের সিটওয়েতে যেখানে দাঙ্গা হয়েছিল সেখানে এখনও প্রায় চার হাজার রোহিঙ্গার বাস। তবে তাঁদের শহরের একটি অংশে আবদ্ধ করে রাখা হয়েছে। ঐ এলাকার বাইরে তাদের যেতে দেয়া হয় না। ভেঙে দেয়া মসজিদ আর ঘরবাড়ি এখনও ঐ অবস্থায় পড়ে আছে।
[সূত্র : রয়টার্স]