তিয়াষা গুপ্ত, টিডিএন বাংলা: একটা জঙ্গি হামলা ভেঙে দিয়েছে তাঁদের মনোবল। উপত্যকার বুকে শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এই বাহিনীর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। আসুন দেখে নেওয়া যাক, উপত্যকায় সিআরপিএফের ভূমিকা ঠিক কীরকম? কী কাজ করেন তাঁরা? ঠিক কত সংখ্যায় তাঁরা সেখানে থাকেন?

সিআরপিএফ হল কাশ্মীরে সর্ববৃহৎ আধা সামরিক বাহিনী। এই বাহিনীর মূল কাজ হল উপত্যকায় শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখা। এছাড়া গোয়েন্দা খবরের ভিত্তিতে কোনো অপারেশন চালানো।

সেনা কোনো অপারেশন করার পর মাঝে মধ্যেই উপত্যকার পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। নিরাপত্তা রক্ষীদের উদ্দেশ্যে যুবকদের পাথার বৃষ্টি চলতে থাকে। সবমিলিয়ে এই অশান্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করাই সিআরপিএফের কাজ।

৬০,০০০ এর বেশি সিআরপিএফ কাশ্মীরে বহাল আছেন। তাঁদের উপত্যকার বিভিন্ন জেলায় বহাল করা হয়েছে।

২০০৫ সালের আগে উপত্যকায় আইন শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব ছিল বিএসএফের হাতে। এখন বিএসএফের কাজ হল সীমান্তে পাহারা দেওয়া।  ভূস্বর্গে শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এখন আর কোনো ভূমিকা পালন করে না তারা।

সিআরপিএফের ওপর শেষ হামলা হয়েছিল গত বছর জুলাইতে। তখন অনন্তনাগে জঙ্গি হামলায় ২ জওয়ানের প্রাণ গিয়েছিল। ইদানিং কালে সিআরপিএফের ওপর হামলা ঘটনা খানিকটা কমেছিল। ১৯৯০ সালে এই ধরণের হামলা রোজকার ঘটনায় পরিণত হয়েছিল। ২০১৭ সালে মাত্র একটি আইইডি হামলার ঘটনা ঘটে।

এর ফলে সিআরপিএফের মনোবল বাড়ছিল। তাঁরা বেশি করে কাশ্মীরে কাজ নিয়ে আসতে চাইছিলেন। কিন্তু বৃহস্পতিবারের ঘটনা বদলে দিল তাঁদের সব স্বপ্ন-পরিকল্পনা।

“কাশ্মীর না ছত্তিসগড়? কোথায় কাজ করতে চান?” এ প্রশ্নের জবাবে ইদানিং কাশ্মীরকেই বেছে নিতেন সিআরপিফ জওয়ানরা। কিন্তু ১৪ ফেব্রুয়ারি উপত্যকার রক্তাক্ত অভিজ্ঞতার পর হয়তো পছন্দের কর্মক্ষেত্রের তালিকা থেকে কাশ্মীর নামটাকে সরিয়েই রাখতে চাইবেন সিআরপিএফ জওয়ানরা। সহযোদ্ধাদের এই রক্তাক্ত পরিণতিতে অনেকটাই ‘ধাক্কা’ খেল বাহিনীর মনোবল। এমনটাই মত সংশ্লিষ্ট মহলের। তবে এই ধাক্কা সামলে ঘুরে দাঁড়ানোই এখন জওয়ানদের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করা হচ্ছে।

Advertisement
mamunschool