তিয়াষা গুপ্ত, টিডিএন বাংলা : অসমের মাটিতে পা রেখেই বিক্ষোভর আগুন ছুঁয়ে গেল মোদীকে। তিনি ভালোই বুঝলেন, এই আগুন নেভাতে ভালোই কালঘাম ঝরবে। পারবেন? বিজেপি শাসিত রাজ্যেই যদি মোদীকে এই বিক্ষোভের মুখে পড়তে হয়, তাহলে দেশের অন্যত্র কী হবে? আজকের ক্ষোভ-বিক্ষোভ মোদীর রক্তচাপ বাড়ানোর জন্য যথেষ্ট। এ বিক্ষোভ যে সহজে দমিয়ে দেওয়া যাবে না, তাও ভালোই টের পেলেন মোদী।

কারণ এদিন পথে নামল ছাত্র সংগঠন। এঁরাই তো দেশের তরুণ ভোটার! নাগরিক অধিকার বিল লোকসভায় পাশ হওয়ার পর এই প্রথম উত্তরপূর্বে পা রাখলেন মোদী। গতকাল গুয়াহাটি বিমানবন্দর থেকে রাজভবন যাওয়ার পথেই মানুষের ক্ষোভের আঁচ ভালোই মালুম হয়েছে তাঁর। এদিন সেই আঁচ তুমুল অগ্নিকাণ্ডের চেহারা নিল। বিক্ষোভের আগুনে জ্বলল উত্তর পূর্বের এই রাজ্য। বিজেপি শাসিত রাজ্য অসম। এখানে মোদীর সফর ঘিরে বিক্ষোভ ঠেকাতে পারল না সরকার। স্বাভাবিকভাবে অস্বস্তি বাড়ল প্রধানমন্ত্রী তথা মোদীর।

এদিন রাস্তায় নামল ছাত্রসমাজ। বিক্ষোভকারীরা মূলত অল অসম স্টুডেন্টস ইউনিয়নের সদস্য। গতকাল সন্ধে সাড়ে ৬ টা নাগাদ গুয়াহাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় বিক্ষোভ দেখায় ছাত্রসংগঠন। সঙ্গে গোব্যাক মোদী, স্ক্র্যাপ সিটিজেনশিপ বিল, জয় আয় অসম-এর মতো স্লোগান উঠতে থাকে। এদিন এখানে ওখানে বিক্ষিপ্তভাবে বিক্ষোভ দেখালেন অসমের নাগরিক থেকে শুরু করে ছাত্ররা। কোথাও কোথাও চলল বনধ।

এত বিক্ষোভের মাঝে মোদী তাঁর বক্তৃতায় অসমবাসীর মন জয়ের চেষ্টা করলেন মোদী। বললেন, নাগরিক অধিকার বিলের জন্য উত্তর পূর্বের মানুষের কোনো অসুবিধা হবে না। প্রশ্ন হল এতে কি চিড়ে ভিজবে?

লোকসভায় নাগরিক অধিকার বিল পেশ হতেই অসমে ধুন্দুমার পরিস্থিতি তৈরি হয়। আসরে নামতে হয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিংকে। মোদী ও তাঁর ক্যাবিনেটের সদস্যদের বারবার বলতে শোনা গেছে, প্রকৃত ভারতীয়দের চিন্তার কোনো কারণ নেই। অনুপ্রবেশকারীদের আটকাতে সরকার মরিয়া। তবু বিতর্ক পিছু ছাড়েনি।

এক নজরে দেখে নেওয়া যাক, কী এই বিল বিতর্ক।

বিল বিতর্ক

বিল লোকসভায় পেশ হতেই অসমে ছাত্র, রাজনৈতিক সংগঠন ও সাধারণ মানুষ বিক্ষোভ শুরু করেন। কালা দিবস পালন করা হয়। বিতর্কের কারণ, তাঁদের অভিযোগ, এই আইন লাগু হলে ন্যাশনাল রেজিস্ট্রার সিটিজেন ও অসম অ্যাকর্ডের সঙ্গে এর বিরোধ তৈরি হবে। মানুষ অসুবিধায় পড়বেন।

সম্প্রতি অসমে এনআরসি নিয়েও তুমুল হট্টগোল শুরু হয়।

এনআরসি ও বিতর্ক

৩০ জুলাই, ২০১৮- অসমের চূড়ান্ত নাগরিক পঞ্জীকরণ খসড়া প্রকাশ করা হয়েছে। এই খসড়া প্রকাশের ফলে ৪০লাখ মানুষ ভারতীয় নাগরিকত্ব হারানোর পথে। এনআরসির অংশ হওয়ার দাবি জানিয়ে আবেদন করেছিলেন, ৩.২৯ কোটি মানুষ। খসড়ায় রয়েছে ২.৮৯ কোটির নাম। এর অর্থ প্রায় ৪০ থেকে ৪১ লাখ অসমীয়া আর ভারতীয় নন। এই নিয়ে অসমে অশান্তির ঝড় বয়ে গেছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, এর ফলে অসম থেকে বাঙালি খেঁদানো হবে। ফলে এই প্রক্রিয়া রুখে দিতে গর্জে ওঠেন তিনি। অন্যান্য বিরোধী দলগুলিও এই নিয়ে সরব। এর ওপরে আবার নাগরিক বিল নিয়ে বিতর্ক মাথাচাড়া দিল। এই নিয়ে মোদী ও তাঁর বাহিনী আসরে নামছেন।

সামনেই লোকসভা ভোট। এনআরসি যে সরকারের মাথা ব্যথার কারণ হবে, তা মোদী-শাহরা ভালোই জানেন। তাই ভোটের ঢাকে কাঠি পড়তেই উত্তর পূর্ব সফরে এলেন মোদী। কিন্তু বিজেপি শাসিত রাজ্যেই তুমুল বিক্ষোভের জেরে তাঁর সফর সুখের হল না। এর আগে কংগ্রেস এনআরসি নিয়ে মমতার সুরেই কথা বলেছে। ফলে এদিনের বিক্ষোভের আঁচ মালুম হওয়ার পর মোদী কি অবস্থান বদল করবেন? দেখা যাক। কারণ ভোট বড় বালাই! উত্তর পূর্বের মানুষকে অসন্তুষ্ট করে কি মোদী ভোটবাক্সে ফায়দা তুলতে পারবেন। চিন্তা কিন্তু রয়েই গেল।