বাবুল সেন, টিডিএন বাংলা: পশ্চিমবঙ্গের পরিস্থিতি দেখে ডাঃবিনায়ক সেন, ডাঃকাফিল খান এবং ডাঃ পায়েলের কথা মনে পরছে । ভারতের সমস্ত ডাক্তারা নিজেদের ফ্যাটারনিটিকে ইস্যু করে বাংলার ডাক্তারদের পাশে দাঁড়িয়ে পরেছেন! যখন এই তিনজন ডাক্তারের প্রতি চরম অবিচার হয়েছিল তখন সারা ভারতের ডাক্তার ওদের পাশে দাঁড়াননি কেন?

আন্দোলনকারী ডাক্তারা পিছন থেকে কিছু স্বার্থান্বেষী মহলের সমর্থন পাচ্ছেন । ডাঃ খান এবং ডা পায়েলের ক্ষেত্রে আন্দোলন করেনি কারণ তখন এই ধরনের সমর্থন ছিল না। দলিত মহিলা ডাক্তার পায়েল যে বিশ্রী বর্ণবাদের স্বীকার হয়ে মরতে হয়েছে তার জন্যে দরদ ছিল না কেন?

আসলে যদি দাড়াতো ওদের বাণিজ্যিক ক্ষতির সম্ভাবনা ছিল। ওরা যদি এতোই দেশভক্ত হয় চেম্বার গুলোতে সাপ্তাহে একদিন গরীবদের বিনা পয়সায় চিকিৎসা করে দেখান।যত চিকিৎসার বেহাল সরকারী হাসপাতালে । ডাক্তার যখন বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা করে তখন বিনা চিকিৎসায় রোগী মরে না।বেশিরভাগ ডাক্তারই হাসপাতালটাকে বোঝা ভাবে আর চেম্বারটা ওদের কাছে স্বর্গ ।

তিরিশ বছর আদিবাসীদের ডাক্তার বিনায়ক সেন মানে তাদের বিনায়ক ডাক্তার, যাঁর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগ!রাষ্ট্রদ্রোহীতার অভিযোগে জেল খাটতে হল। সারাজীবন আদিবাসীদের অপুষ্টি ও রোগ নিয়ে লড়াই করেছেন । তার পক্ষে একজনও ডাক্তার দাড়াননি কেন?

আনন্দবাজারকে এক সাক্ষাৎকারে ডাঃ সেন বলেছিলেন -“ভুমিপুত্রদের স্বাস্থ্যের অধিকার থেকে বঞ্চিত করা মানে গণহত্যা ।রাষ্ট্রীয় হিংসাও মারাত্মক আকার নিয়েছে। এত বছরেও তা কমেনি। বরং, এমন একটা বছরও যায়নি, যে বার রাষ্ট্রীয় মিলিশিয়া মানুষ মারেনি। এই যে নিরাপত্তাহীনতা, বৈষম্য, সেটাকেও জনস্বাস্থ্য থেকে আলাদা করা যাবে না।”

দেশের জিডিপির মাত্র ১. ৫ শতাংশ জনস্বাস্থ্যের খাতে ব্যায় হয়।যেটা ১. ৭৬ লক্ষ কোটি মাত্র ।অন্যদিকে শুধু একটি বুলেট ট্রেন বানাতেই খরচ হচ্ছে ১. ১০ লক্ষ কোটি টাকার মতো।তাও ঋণ করে ।রাষ্ট্রীয় স্বাস্থ্য খাতে বাজেট বরাদ্দ মাত্র ৪৫ হাজার কোটি টাকার মতো।

দেশের জনস্বাস্থ্য বেসরকারি হাতে চলে যাচ্ছে , কর্পোরেটের মুনাফার ফর্মুলাকে মাথায় রেখে সেটা হচ্ছে । স্বাস্থ্যক্ষেত্রে বছরে করপোরেটরা ৬ লক্ষ কোটি টাকার মতো ব্যবসা করছেন। সরকারী চাকরি করে ডাক্তারা যে টাকা বেতন পান তাতে ওরা খুশি নন। এইসব আন্দোলন সরকারের বিরুদ্ধে নয় আসলে নিজেদের স্বার্থ সুরক্ষার প্রয়োজনে। বেসরকারি হাসপাতালের ডাক্তার তো মার খান না ।দেশের সরকারী চিকিৎসা ব্যবস্থা কে দুর্বল করার চক্রান্ত এটা।

যে আদিবাসীদের কাজে স্বাধীনতার এতো বছর পরেও রাষ্ট্র পৌঁছাতে পারেনি, সেই আদিবাসীদের চিকিৎসা ও শিশুদের পুষ্টির জন্যে তিরিশ বছর কাজ করে গেছেন বিনায়ক ডাক্তার ।অসহায়ের পাশে বিনায়ক সেন, রাষ্ট্র যেখানে অনুপস্থিত সেখানে উপস্থিত বিনায়ক ডাক্তার। এহেন বিনায়ক ডাক্তার কিনা রাষ্ট্রদ্রোহী মাওবাদী! যারা স্বাস্থ্যের বিনিময়ে কোটি কোটি কামাই করে তারা দেশপ্রেমী!

শ্রীসেন জাতীয় স্বাস্থ্য কমিটির সদস্য থাকাকালীন দাবি করেছিলেন অন্তত ৩ শতাংশ জিডিপি স্বাস্থ্য খাতে ব্যয় হোক । সম্ভব হবে না বলে তাঁর সুপারিশ খারিজ করে দেয় আসলে করপোরেটদের সুবিধা করে দেওয়া জন্যেই।

নিগৃহীত হয়েছে দুজন ডাক্তার কিন্তু রাজ্যে সব গরীব মানুষরা আজ বিপদের সম্মুখীন ।সরকারের দোষ থাকতেই পারে তারজন্যে রোগীদের শাস্তি এটা কোন ধরনে আন্দোলন? সরকারের সঙ্গে আলোচনায় বসুন । পৃথিবীর সব সমস্যাই তো কথাবার্তার মাধ্যমে সমাধান হয় । তা না করে চিকিৎসা বন্ধ করে দেওয়া কাদের স্বার্থে ?

এই আন্দোলনে কারা লাভবান হচ্ছে অনুমান করলে সহজেই বুঝতে পারবেন ।আবার কেউ ঘোলা জলে মাছ ধরতে নেমে পরেছেন ।ডাক্তার কী ধর্ম দেখে চিকিৎসা করেন? সারা পৃথিবীতে এমন নজির কম। বাংলায় ডাক্তাররা সেটাও করবেন নাকি!