Mokter Hossain Mondal
মোকতার হোসেন মন্ডল

মোকতার হোসেন মন্ডল, টিডিএন বাংলা: একটি রিপোর্ট দেখছিলাম, মুসলিম সমাজের লোক পেপার পড়ে খুব কম! বিভিন্ন লোক যা বলে তাই শোনে। এমনকি মুসলিম সমাজের একটা চাকরীজীবী, শিক্ষিত অংশও দেশ দুনিয়া সম্পর্কে খবর রাখা, খবর নিয়ে দৈনিক পত্রিকাগুলিতে মন্তব্য করা থেকে দূরে থাকে। মূলত পারিবারিক সংসার, প্রচলিত ধ্যান ধারণা নিয়েই ব্যস্ত।

মুসলিম সংগঠনের নেতা কর্মীদের বড় অংশ গণমাধ্যমে অভিমত লেখেন না। বেশ কিছু মিডিয়ার বন্ধুরা বলছেন, বিভিন্ন দপ্তরে যেসব চিঠি যায় সেখানে সংখ্যালঘুদের উপস্থিতি নগণ্য। আমি আশ্চর্য হই, যে সমাজকে আল্লাহ কলম দিয়ে শিক্ষা দিলেন সে সমাজ কলম ছেড়ে দিল? এমনকি ইমাম, মাওলানা, মুসলিম সংগঠনের নেতা কর্মীরাও? এমনকি শিক্ষিত মুসলিম সমাজের বড় অংশ?
অনেকে বলবেন, বড় হাউজে লেখা পাঠালে প্রকাশ হয়না। সত্যি কি তাই? প্রায় আড়াই কোটি মুসলিমের লক্ষ লক্ষ শিক্ষিত সমাজের লোকেরা কত লেখা দপ্তরগুলিতে ধারাবাহিক পাঠান? ঠিক আছে বড় মিডিয়ার কথা ছাড়ুন, মুসলিম পরিচালিত পত্রপত্রিকাগুলিতেও কেন বিভিন্ন বিষয়ে লেখেন না? কেন মীযান, কলম, গতি, দিন-দর্পণে আপনার লেখা নেই? সেই দু’চারজন পাঠক অনেকদিন থেকে অভিমত জানাচ্ছেন দেখছি। আসলে খুব কাজের অজুহাত দেখিয়ে নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকার চেষ্টা করলে ইতিহাস ক্ষমা করবে না। আপনার কোনও পত্রিকা পছন্দ না হলে নিজেদের পত্রিকায় লিখুন, নিজের ব্লগে লিখুন, নিজের পুস্তকে লিখুন। সেটাওতো হচ্ছে না। রাজ্যে এত সরকারি মাদ্রাসা, এত মিশন, এত মুসলিম সংগঠন, এত শিক্ষক, ডাক্তার, অধ্যাপক, আইনজীবী, এত নেতা, আপনারা কলম ধরছেন না কেন? এদেশের সমস্যা, বিশ্লেষণ, আপনার সামনে ঘটে যাওয়া খবর নিয়ে আপনার ভাবনা লিখে বিভিন্ন জায়গায় পাঠান। এখনতো ইমেলের যুগ, আগের মতো আর ডাকে চিঠি পাঠানো, ফ্যাক্স করার হ্যাপা নেই। তাহলে হচ্ছে না কেন? আসুন আমরা সবাই আত্ম সমীক্ষা করি এবং নিজের থেকে কাজটা শুরু করি। মনে রাখবেন, যে সমাজে লেখক বেশি সে সমাজের দর্শন তত প্রচার হয়। এক প্রভাবশালী পত্রিকার সাংবাদিক আমাকে সেদিন বললেন, যে সমাজে ইতিহাস লেখার কেউ থাকে না,ইতিহাস চর্চা হয়না সে সমাজের কথা ইতিহাসে জায়গা পায়না।’
আজকের বাংলা, ভারত যারা শাসন করছে তাদের সম্পর্কে একটু জানুন বুঝতে পারবেন বিষয়টি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শুধু ব্যস্ত নেত্রী নন, তিনি একজন কবি,লেখিকা। বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য, শ্যামল চক্রবর্তী, সীতারাম ইয়েচুরি ভালো লেখক। বাম,কংগ্রেস, তৃণমূল একটা বড় লেখক গোষ্ঠী তৈরি করতে পেরেছে। এই যে রামপুনিয়ানী,গৌরী লংকেশ, অরুন্ধতী রায় এরা কারা? বিজেপি আরএসএস ঘরের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য।
মুসলিম সংগঠন কিংবা সরকারি-বেসরকারি মাদ্রাসা মিশন থেকে লেখক না বের হলেও বেশ কিছু প্রাবন্ধিক বের হয়েছেন, তবে তাদের সাথে বৃহত্তর মুসলিম সমাজের সম্পর্ক নেই। ফলে মুসলিম সমাজ তাদের ভালো নজরে দেখে না। বিভিন্ন শাসক দল এই লেখকদের বিভিন্ন ভাবে কাজে লাগিয়েছে। কিন্তু নজরুল কেন ‘খালিদ’ লিখেছেন বুঝছেন? ‘খালিদ খালিদ সবার অধম মোরা হিন্দুস্থানী/হিন্দু না মোরা মুসলিম তাহা নিজেরাই নাহি জানি।’
(লেখক একজন সাংবাদিক। তাঁর ফেসবুক ওয়াল থেকে নেওয়া)