তিয়াষা গুপ্ত, টিডিএন বাংলা : সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে গত সপ্তাহে মাস্টারস্ট্রোক রাহুলের। রাজনীতিতে পাকাপাকিভাবে পা রাখলেন প্রিয়ঙ্কা গান্ধী ভডরা। উত্তর প্রদেশ পূর্বের এআইসিসির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে তাঁকে নিয়োগ করা হয়।

প্রশ্ন হল উত্তর প্রদেশের পূর্বই কেন?

প্রিয়ঙ্কা রাজনীতিতে আসবেন, এই নিয়ে অনেক দিন ধরে জল্পনা চলছিল। কিন্তু উত্তর প্রদেশের পূর্বের দায়িত্ব তাঁকে কেন দেওয়া হল, তানিয়ে রাজনৈতিক মহলে জোর আলোচনা চলছে। বিজেপিকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিতেই এটাই আদর্শ জায়গা বলে মনে করেছে কংগ্রেস ও রাহুল গান্ধী। এই অঞ্চল বিজেপির লড়াইয়ের প্রাণকেন্দ্র। মোদীকে টক্কর দিতেও রাহুলের তুরুপের তাপ প্রিয়ঙ্কা।

পূর্ব কেন?

গত লোকসভা নির্বাচনে গুজরাটের বাইরে বারাণসী থেকে লড়াই করেছিলেন মোদী। কোনো কেন্দ্রের ভোটাররাই তাঁকে নিরাশ করেননি। বারাণসী বিজেপির কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ জায়গা। সেটা এই পূর্বেই। বিজেপির রাজনৈতিক ইতিহাসের সঙ্গে জড়িয়ে আছে হিন্দুত্ব আর মন্দির সংস্কৃতি। সেই কারণে বারাণসীকে বেছে নিয়েছিলেন মোদী। বিজেপির অযোধ্যা রামমিন্দির বিতর্ক সেটাও এই অঞ্চলেরই ফসল। এছাড়া এখানকার গোরক্ষপুর থেকেই যোগী আদিত্যনাথকে মুখ্যমন্ত্রী করেছেন মোদী। ফলে তাৎপর্যপূর্ণভাবে এখান থেকে প্রিয়ঙ্কার রাজনৈতিক সফর শুরু হল অনেক ভেবে চিন্তেই। মোদীকে মোকাবিলা করতে প্রিয়ঙ্কা গান্ধী পরিবারের লিগাসি কতটা কাজে লাগিয়ে ফায়দা তুলতে পারবেন, তা সময়ই বলবে।

কংগ্রেসের প্রাচীন সংযোগ

প্রিয়ঙ্কার কর্মভূমি এমন একটা জায়গা থেকে শুরু হল, যেখানে জড়িয়ে আছে নেহরু-গান্ধী পরিবারের দীর্ঘ লড়াইয়ের ইতিহাস। রায় বরেলি ও আমেঠি বরাবরই কংগ্রেসের শক্ত ঘাঁটি। বর্তমানে রায় বরেলি থেকে সাংসদ ইউপিএ চেয়ারপার্সন সোনিয়া গান্ধী, আমেঠির সাংসদ দাদা রাহুল। শোনা যাচ্ছে, শারীরিক কারণে এবার রায় বরেলি থেকে নাও দাঁড়াতে পারেন সোনিয়া। ফলে সেক্ষেত্রে মায়ের ছেড়ে যাওয়া চটি পায়ে গলিয়ে নিয়ে এই কেন্দ্র থেকে প্রিয়ঙ্কার দাঁড়ানোর সম্ভাবনা প্রবল। ফিরোজ গান্ধীও তাঁর কাজনৈতিক জীবনের একটা বড় অংশ এখানেই কাটিয়েছেন। জওহরলাল নেহরুর কেন্দ্র ছিল এলাহাবাদ। তিনি ফুলপুর থেকে তিনবার জয়ী হয়েছিলেন। ফলে উত্তর প্রদেশের পূর্ব – কংগ্রেসের জন্য এই এলাকার স্থানিক মাহাত্ম অপরিসীম। এই কারণেই প্রিয়ঙ্কার যাত্রা শুরু হল এখান থেকে।

প্রিয়ঙ্কা কেন

সোনিয়া রাজনীতি থেকে যতই সরে দাঁড়াচ্ছেন, ততই বেশি করে লাইম লাইটে এসেছেন রাহুল গান্ধী। গত বছর মায়ের হাত থেকে দলের সভাপতির দায়িত্ব তুলে নেন রাহুল। রাহুলের রাজনৈতিক পরিণতি নিয়ে বারবার প্রশ্ন উঠেছে। সোনিয়া রাশ আলগা করতেই রাহুলকে নিয়ে দায়িত্ব দিয়ে তৈরি করেছেন। এক সময় রাহুল যখন বারেবারে ব্যর্থ হয়েছেন, তখন দলের অন্দরেই প্রিয়ঙ্কাকে রাজনীতিতে আনার জন্য চাপ বাড়তে থাকে। অবশেষে তিনি এলেন, জয় করবেন কিনা, তা সময়ই বলবে।