তিয়াষা গুপ্ত, টিডিএন বাংলা : সব উৎকণ্ঠার অবসান। বীরকে বরণ করে নিল দেশ। ঘড়ি কাঁটা ৭টা ছোঁয়ার খানিক আগে উইং কমান্ডার অভিনন্দনকে ভারতের হাতে তুলে দিল পাকিস্তান। গতকাল পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান অভিনন্দন বর্তমানকে মুক্তির কথা ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই বলেছিলেন, শান্তির বার্তা দিতেই এই সিদ্ধান্ত। পুলওয়ামা হামলার পর থেকে ২ দেশের সম্পর্ক তলানিতে এসে ঠেকেছে। এই অবস্থায় অভিনন্দন বর্তমানের মুক্তি ঘিরে ভারত-পাক কূটনৈতিক সম্পর্ক কি নতুন দিকে মোড় নিতে পারে?

শুক্রবার বিকেল সাড়ে চারটে নাগাদ পাক সেনাদের একটি কনভয়ে ওয়াঘা সীমান্তে নিয়ে আসা হয় অভিনন্দনকে। সেখানে তাঁর এক প্রস্থ মেডিক্যাল চেকআপ হয়। পাক রেঞ্জার্স-এর ‘বিটিং দ্য রিট্রিট’-এর পরই ভারতের হাতে তুলে দেওয়া হল অভিনন্দনকে। সেই মাহেন্দ্রক্ষণে দেশের সর্বত্র শুরু হয় উৎসব। বীর বরণের উৎসব।

সেই সঙ্গে অনিবার্যভাবে কতগুলি প্রশ্ন জন্ম নেয়। এই শুভক্ষণকে ধরে রেখে আগামী দিনে দুই দেশের ক্যানভাসে কোনো মৈত্রীর লগ্ন রচিত হতে পারে? কাটাকাটি, মারামারি আদতেই কি কোনো সমাধান? দুই দেশের শান্তিপ্রিয় মানুষের কাছে যুদ্ধ কখনই কাঙ্খিত হতে পারে না।

পুলওয়ামা হামলার পর থেকে দুই দেশের আকাশে যুদ্ধের ডঙ্কা বেজে উঠেছে। রয়টার্স জানিয়েছে, বালাকোটে ভারতের বিমান অভিযানের পর গত ২দিন ধরে কাশ্মীর সীমান্তে মর্টার দিয়ে লাগাতার পাল্টা পাল্টি গোলাবর্ষণ করেছে দুই দেশ। দুই দেশের শুভবুদ্ধি সম্পন্ন শান্তিকামী মানুষ কখনই যুদ্ধ চাইতে পারেন না। তাই অরুন্ধতি রায় থেকে মালালা ইউসুফজাইকে যুদ্ধের বিরুদ্ধে সওয়াল করতে শোনা যায়।

যুদ্ধের বিরুদ্ধে যুদ্ধ- এই ভয়ঙ্কর পরণাম বারেবারে প্রত্যক্ষ করেছে গোটা বিশ্ব। তাই আর একটা যুদ্ধ দুই দেশের বাতাস ভারী করে তুলুক এটা বোধহয় কাঙ্খিত নয়। বরং অভিনন্দন বর্তমানের ফিরে আসার শুভক্ষণে কোনো নতুন ভবিষ্যৎ কি রচিত হতে পারে না? দেখা যাক।