তিয়াষা গুপ্ত, টিডিএন বাংলা : ভারতে রাজনীতিতে মহিলাদের অংশগ্রহণ নামমাত্র। ভারত বিশ্বের অন্যতম বড় গণতান্ত্রিক দেশ। আমরা মেয়েরা নারী দিবস এলে গলা চড়াই। কিন্তু এখনো রাজনীতিতে মহিলাদের অংশগ্রহণের বহর দেখলে শঙ্কিত হতে হয়।
এক নজরে দেখে নেওয়া যাক সমীক্ষার ফলাফল।

২০১৭-১৮ সালে সংসদে পেশ হওয়া একটি সমীক্ষায় দেখা যাচ্ছে, মোট জনসংখ্যার মাত্র ৪৯ শতাংশ মহিলা রাজনীতিতে অংশগ্রহণ করেছেন। এর কারণ হিসেবে সমীক্ষায় বলা হয়েছে, এখনো ভারতের মতো দেশে মহিলারা গার্হস্থ্য কাজে বেশি করে নিযুক্ত থাকেন। তাই তাঁরা এখনো সেভাবে রাজনীতিতে পা রাখছেন না। সমীক্ষায় বলা হয়েছে, রাওয়ান্ডার মতো দেশে ২০১৭ সালে সংসদে মহিলাদের অংশগ্রহণ ছিল ৬০ শতাংশ।
ইন্টার পার্লামেন্টারি ইউনিয়ম (আইপিইউ) এবং উইএন উইমেন রিপোর্ট– উইমেন ইন পলিটিক্স ২০১৭- অনুযায়ী, লোকসভায় মহিলা সাংসদের সংখ্যা ৬৪ (১১.৮ শতাংশ, মোট ৫৪২) ও রাজ্যসভায় মহিলা সদস্য ২৭ (১১ শতাংশ, মোট ২৪৫)। ২০১৬ সালের অক্টোবরে সারা দেশে মোট ৪১১৮ জন বিধায়কের মধ্যে কেবল ৯ শতাংশ মহিলা প্রতিনিধি।

২০১৭ সালে প্রকাশিত এই সমীক্ষায় ‘উইমেন ইন পলিটিক্স ম্যাপ’ রিপোর্টে ভারতের স্থান ছিল ১৪৮ নম্বরে। সরকারি কাজকর্মে মহিলাদের অংশগ্রহণের ভিত্তিতে এই রিপোর্ট তৈরি করা হয়।
২০১২ সালে রাজনীতিতে মহিলাদের অংশগ্রহণ প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তান-বাংলাদেশের চেয়েও পেছনে ছিল। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। তবে তা আশানুরূপ জায়গায় পৌঁছায়নি। সমাজতত্ত্ববিদরা বলছেন, মহিলারা সংসারের কাজে এখনও যেভাবে জড়িয়ে থাকেন, সেটাই তাঁদের রাজনীতিতে বেশি করে না আসার কারণ। এখনও তাহলে রাঁধার পরে খাওয়া, আর খাওয়ার পরে রাঁধা-এটাই মেয়েদের জন্য সত্যি হয়ে থাকবে? আগামী নারী দিবসে ছবিটা বদলাবে? আশা করতে দোষ কী!