জানে আলম, টিডিএন বাংলা: বিশ্বের কি করুন আশঙ্কাজনক অবস্থা তা আর কারই অজানা নেই, চোখে পানি ঝরছে অঝরে। জ্যান্ত মানুষটি সজ্ঞানে প্রচন্ড কষ্টে ছটফট করতে করতে সপাট মরে যাচ্ছে। কাছের মানুষটি কাছ থেকে বিদায় নিচ্ছে। একা একা। কখনো বৃদ্ধ দাদা-দাদি, কখনো মা-বাবা কখনো বা তরতাজা যুবক-যুবতী। সেই প্রাণপ্রিয় মৃত্যুকাতর মানুষটির কাছে যাবার সৌভাগ্যও টুকুও নেই আপনজনের। বিশ্বে এখন এটাই ভয়াবহ এক ট্রাজেডি।

দাজ্জালের ফিতনায় লাশের মিছিল দেখেও করোনা নিয়ে ঠাট্টা-মস্করায় অজ্ঞরা এখনো, এটি প্রতিরোধের শক্তিশালী অস্ত্র হল গণ সচেতনতা। চীন বা ইতালি বা অন্য দেশের মহামারী দেখে আমাদের শিক্ষা নিতে হবে। সেই সব দেশর জনগণ ঘরে বন্দি থাকেনি বলে তাদের সভ্যতা আজ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। ভাবুন তো ইতালির কথা। একটা সাজানো গোছানো সৌখিন শহর। যাদের চিকিৎসা ব্যবস্থা বিশ্বের অন্যতম দ্বিতীয় সেরা তার সত্বেও কত ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি সেখানে তা ভাবতে গেলে হাড় হিম হয়ে আসে।

অথচ আমাদের দেশ ভারত! ইটালির চাইতে বহু বড় আর চিকিৎসা ব্যবস্থা অত্যন্ত নগন্য। তাই করোনা সংক্রমক মহামারী আকার নেওয়ার আগেই সতর্ক নিতে হবে। নইলে ইটালির চেয়েও ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি তৈরী হবে তাতে কোন সন্দেহ নেই।

ভারতে করোনা ইতিমধ্যে মারা গেছে ৯ জন আক্রান্ত ৫০০ র বেশি। আমাদের দেশ এই বিষয়ে যথেষ্ট সর্তক নিয়ে ২১ দিনের লকডাউন ঘোষণা করেছে। আর রাজ্য মুখ্যমন্ত্রীর ভূমিকা অতুলনীয়। তাই এই মুহূর্তে সরকারের সমস্ত উপদেশ ও নির্দেশিকা মেনে চলতে হবে। স্বাস্থ্যকর্মী ও নিরাপত্তারক্ষীদের সাহায্য নিতে হবে ও তাদেরকে সাহায্য করতে হবে। সামাজিক মেলামেশা ও কমিউনিটিতে এই রোগ ছড়ানোর বড় কারণ তাই জনসমাগম থেকে দূরে থাকুন। এই রোগ আপনাকে না ছুঁলেও সাবধানে থাকুন। ঘরে থাকুন শুধুমাত্র ইমার্জেন্সি কারন ছাড়া ঘর থেকে বের হবেননা। অপরিচিত, দূরাগত, বিশেষত বিদেশাগত ব্যক্তির থেকে দূরে থাকুন, শারীরিক ঘনিষ্ঠতা কম করুন।

তাই সকল ভারতবাসীর কাছে বিনম্র আন্তরিক অনুরোধ ঘরে ঢুকে পড়ুন দয়া করে। করোনার চেন ভেঙ্গে দিন। বিনা কারনে ছটফট করবেন না। ভুল করে বাইরে বেরোবেন না। পরিবার কে সময় না দিয়ে খুব ব্যস্ত জীবন কাটিয়েছেন। যারা আপনার মুখাপেক্ষী আপনার পরিবার আপনার মুখ চেয়ে বেঁচে আছে। তাদের একটু সঙ্গ দিন বাড়িতে গল্প করুন, বৃদ্ধা মা বাবার সেবা করুন। ছোট্ট বাচ্চার সঙ্গ দিন, তাদের কথা মন দিয়ে শুনন, তাদের নৈতিক শিক্ষা দিন, বিভিন্ন ইনডোর খেলা গুলি খেলুন। টিভি দেখুন। মায়ের সঙ্গে বা স্ত্রীর সঙ্গে একটু রান্নায় হাত লাগান। ধর্ম, সাহিত্য, উপন্যাস, কবিতা পড়ুন। আত্মীয় দের ফোনে খোঁজ নিন, পরিচিত দরিদ্র পরিবারকে বিপদে সাহায্য করুন। বাড়ি গোছান,সম্ভব হলে বাড়িতে বসে অফিসের কাজ এগিয়ে নিন, হাতের কাজ করুন, লেখালেখি করুন। কারও সাথে সম্পর্ক খারাপ হয়ে থাকলে তা মিটিয়ে নিন। কোন অপরাধ করে থাকলে ক্ষমা চেয়ে নিন। ঋণ পরিশোধ করে নিন। প্লিজ সতর্ক থাকুন, নিজে বাঁচুন, প্রিয়জনকে বাঁচান, দেশ বাঁচান, সর্বতোভাবে ভাইরাস আটকানোর প্রচেষ্টা চালিয়ে যান। বাকিটা ভাগ্য! সর্বোপরি প্রার্থনা করুন। দেখবেন সময় দিব্বি কেটে যাচ্ছে। আর দেশ ও সভ্যতা বেঁচে যাচ্ছে। তাই লকডাউনে বোর না হয়ে এই অগ্নিপরীক্ষায় আপনাকে জিততেই হবে।