ইতিহাস কথা বলে। বিশেষ করে প্রজাতন্ত্র দিবস, স্বাধীনতা দিবসে দেশের ইতিহাস নিয়ে বেশি আলোচনা হয়। কিন্তু জানেন কি ‘ভারত ছাড়ো’ (Quit India) এই স্লোগানটি প্রথম কে দিয়েছেন? এই দুটি শব্দ প্রথম ব্যবহার করেছিলেন কংগ্রেস নেতা ইউসুফ মেহের আলি৷ এই স্লোগান পরবর্তী কালে ইংরেজের ভিত নাড়িয়ে দিয়েছিলেন।

এটা ঠিক ১৯৪২ সালের ৮ অগস্ট গান্ধাজি মুম্বইয়ের গোয়ালিয়া ট্যাঙ্ক ময়দানে সর্বভারতীয় কংগ্রেস কমিটির বৈঠকে ‘ভারত ছাড়ো’ আন্দোলনের সূচনা করেছিলেন৷ সেই আন্দোলনের সময়ই তিনি ডাক দেন ‘‘করেঙ্গে ইয়ে মরেঙ্গে’’৷ শুধু তাই নয় গান্ধাজির গ্রেফতারের পরেও কয়েক মাস ধরে গোটা ভারতরবর্ষ জুড়ে ব্রিটিশ বিরোধী এই আন্দোলন ছড়িয়ে পড়তে দেখা গিয়েছিল৷ কিন্তু এই ‘ভারত ছাড়ো’ স্লোগানটি ইউসুফ মেহের আলি নামে এক কংগ্রেস নেতার উদ্ভাবন৷

ইউসুফ মেহের আলি (Photo Courtesy: Yusuf Meherally Center)

‘ভারত ছাড়ো’ আন্দোলন শুরুর বেশ কিছু দিন আগে মুম্বইতে গান্ধাজির ঘনিষ্ঠদের নিয়ে কংগ্রসের এক বৈঠকে এই শব্দ দুটি ব্যবহার করেছিলেন মেহেরআলি, তিনি সেই সময় মুম্বইয়ের মেয়র ছিলেন৷ স্বাধীনতা সংগ্রামের জন্য এই ইউসুফ মেহারালি আটবার জেলে যান৷ গান্ধীজির সঙ্গে মেহের আলিও ১৯৪২ সালের ৯ অগস্ট গ্রেফতার হয়েছিলেন৷ পরে ১৯৪৬ সালে তিনি জেল থেকে ছাড়া পান এবং স্বাধীন ভারতে এমএলও হয়েছিলেন৷ তিনিই কংগ্রেস সোশালিস্ট পার্টির প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। ১৯৫০ সালে মুম্বইতে তাঁর মৃত্যু হয়৷

কে গোপালস্বামীর বই ‘Gandhi and Bombay’তে বর্ণনা করেছেন একেবারে পরাধীন ভারতের শেষ কয়েকটা বছর এই ‘ভারত ছাড়ো’ স্লোগানটি দেশজুড়ে আধিপত্য বিস্তার লাভ করেছিল৷ সেখানে বলা হয়েছে, শান্তিকুমার মোরারজির রেকর্ড অনুসারে গান্ধীজি তাঁর সহকর্মীদের বলেছিলেন স্বাধীনতার জন্য শ্রেষ্ঠ স্লোগান তৈরি করতে৷ প্রথমে একজন করেছিলেন ‘বেরিয়ে যাও’( ‘Get out’) ৷ কিন্তু সেটা গান্ধাজির পছন্দ হয়নি৷

রাজাগোপালাচারি বলেছিলেন ‘অপসারণ অথবা প্রত্যাহার’ (Retreat’ or ‘Withdraw)৷ কিন্তু সেটাও গান্ধীজির মনোমত হয়নি৷ অবশেষে ইউসুফ মেহের আলি দিয়েছিলেন ‘ভারত ছাড়ো’ সেটা গান্ধীজি অনুমোদন করেন৷

মেহের আলির জীবনীকার মধু দন্ডপত ১৯৪২ সালে আন্দোলন শুরুর আগে ‘ভারত ছাড়ো’ নামে একটি বুকলেট প্রকাশ করেন৷ যা কয়েক সপ্তাহের মধ্যে বিক্রি হয়েগিয়েছিল৷ তাছাড়া ৭ অগস্ট কংগ্রেস কমিটি বৈঠক শুরুর আগেই এই স্লোগানকে জনপ্রিয় করতে ‘ভারত ছাড়ো’ ব্যাচ ছাপানো হয়েছিল-এ কথা জানিয়েছেন ইউসুফ মেহের আলি সেন্টারের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা জিসি পারেখ৷ এই জিসি পারেখও ভারত ছাড়ো আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন, তখন তাঁর বয়স ছিল ১৭ বছর ৷