আমাদের মাননীয়া মমতা ব্যানার্জি  তো নিজেই সংখ্যালঘু কল্যাণ ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের মন্ত্রী। আবার তিনি মুসলিম দরদী বলেই জানি। তাহলে এমনটা কিভাবে হল? তিনি সংখ্যালঘু কল্যাণ ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের মন্ত্রী হওয়া সত্ত্বেও শিক্ষা দপ্তর দিদিকে না জানিয়ে মাদ্রাসাকে বে-আইনি বলে রিপোর্ট দিতে সাহস পেল কি করে? দিদি নীরব কেন? মাদ্রাসা বোর্ড নীরব কার ইশারায়?
১৯৯০ সালের ১১ই জানুয়ারি হাইমাদ্রাসা এবং ১৯৯২ সালের ১৩ই মার্চ সিনিয়র মাদ্রাসার সিলেবাস রাজ্যের মাধ্যমিক পর্ষদের সিলেবাসের সঙ্গে মিলিয়ে নিয়ে সমস্ত পরীক্ষা নিরীক্ষা করে রাজ্যের মাদ্রাসা পর্ষদকে মাধ্যমিক সমতুল্যের স্বীকৃতি দেয় রাজ্য সরকার। যেখান থেকে অনেক যোগ্য ছেলে মাস্টার, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার ও বিভিন্ন প্রশাসনিক পদে যোগ্যতার সাথে চাকরি করে আসছে। তাহলে গ্রামীণ ডাক সেবক থেকে মাদ্রাসা শিক্ষা পর্ষদের ছাত্রদের বাদ দেওয়া হবে কেন? যে শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন মন্ত্রী স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী সে শিক্ষা পর্ষদ কি করে রাজ্যের শিক্ষা দপ্তরের নিকট ইনভ্যালিড হয়ে গেল? আজ জিডিএস থেকে বাতিল। কাল এসএসসি, আরআরবি, ডব্লিউবিসিএস, পিএসসি ও অন্যান্য সরকারি পদে অযোগ্য ঘোষনা যে হবে না তার নিশ্চয়তা কোথায়?
তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য বলেছিলেন মাদ্রাসায় সন্ত্রাস তৈরি হয়, বিজেপি বিভিন্ন ইস্যুতে বুদ্ধদেব বাবুর সাথেই সুর মেলান। এই কথার সাথে বর্তমান সরকারের পরিকল্পনার সাথে কোনো পার্থক্য আছে কি? আমরা এটাও জানি যে, হুগলির ঐতিহ্যবাহী সরকারি মাদ্রাসাকে তুলে দিয়েছে মুসলিম দরদী এই সরকারই।
দেশের বিভিন্ন অরাজক পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী যেমন করে মুখে কুলুপ এটে বসে থাকেন ঠিক একই কায়দায় রাজ্যের বেশ কিছু বিষয়ে আমাদের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জিও নীরবতা পালন করছেন। তাহলে উভয় সরকারের ভূমিকা নিয়ে পার্থক্য করবো কিসের ভিত্তিতে? আলিয়া ইউনিভার্সিটির থিওলজির উপর মুখ্যমন্ত্রীর অবহেলা, মুসলিম অধ্যুষিত এলাকা মুর্শিদাবাদে ইউনিভার্সিটির ব্যাপারে নীরব। কেন? তবে কি তিনি চান না মুসলিমরা উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হোক?
বাম আমলে আলিয়া মাদ্রাসার নাম উঠিয়ে দেওয়া নিয়ে যখন এক ঝাঁক মুসলিম ছাত্ররা রাস্তায় দীর্ঘদিন অনশন করেছিল তখন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, ক্ষমতায় আসতে দাও সব ঠিক হয়ে যাবে। মুসলিমরা ভোট দিয়ে মমতাকে ক্ষমতাতে নিয়েও আসেন। কিন্তু কেউ  কল্পনাও করতে পারে নি যে শেষপর্যন্ত মাদ্রাসা শিক্ষার অধিকার টুকুও কেড়ে নেওয়া হবে! দিদি আপনি বলেছিলেন মুসলিমদের ৯৯% কাজ করে দিয়েছি। ১০০% হতে এটাই বাকি ছিল। সাবাস! আপনার ১০০% কাজ আজ সম্পূর্ণ!
এভাবে চলতে থাকলে মাদ্রাসা ছাত্রদের ভবিষ্যত যে অনিশ্চিত সেটা বলার অপেক্ষা রাখে না । যদি সরকার মনে করে যে মাদ্রাসা শিক্ষা, মাদ্রাসার ছাত্ররা অযোগ্য তাহলে গোটা মাদ্রাসা বোর্ডকেই বাতিল ঘোষনা করুক। এভাবে মাদ্রাসা শিক্ষা জারি রেখে মুসলিম ছাত্রদের অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে ঠেলে দেওয়া কেন? এটা কি সাম্প্রদায়িকতা নয়?
গোটা বাংলার মুসলিম সমাজ মাদ্রাসা বোর্ড ও মাদ্রাসা উন্নয়ন মন্ত্রী দিদির নীরবতা নিয়ে হতাশাগ্রস্ত, শঙ্কিত। আগামীতে মুসলিম নেতৃত্ব এবিষয়ে দ্রুত কার্যকরী পদক্ষেপ না নিলে হাজার হাজার যোগ্য মুসলিম ছাত্র ছাত্রীদের এবার পথে বসতে হবে।
আতিফ আসলাম রাজু
থানারপাড়া, নদীয়া