টিডিএন বাংলা ডেস্ক: ইফতার মানেই ভাজা পোড়া খাবারের বিশাল সমাহার। রোজা ইফতার বললে আমাদের চোখে ভেসে ওঠে প্লেট ভর্তি পেঁয়াজি, বেগুনি, চপ, বাটি ভর্তি ছোলা, থালা ভরা জিলাপি আর মসলা মুড়ি মাখা। প্রায় প্রতিটি ঘরে ঘরে ইফতারের মেনুতে চলে আসছে এমনই সব খাবার।অনেকে তো মনে করেন ভাজাপোড়া তেলে ভাজা ঝাল মিষ্টি খাবার ছাড়া ইফতার অসম্পূর্ণ থেকে যায়। কিন্তু কখনো ভেবে দেখেছেন কি সারাদিন রোজা রেখে এসব খাবার কতটা নিরাপদ?

সারাদিন খাবার খাওয়া থেকে বিরত থাকার পর ইফতার হলো দিনের প্রথম আহার। তবে ভাবার বিষয় ইফতার মুখরোচক হওয়ার চেয়ে বেশি হতে হবে স্বাস্থ্যসম্মত। সারাদিন রোজা রেখে থাকতে হবে একটু বেশি সচেতন। কেননা এ সময় শরীরে থাকবে জলের প্রচন্ড তৃষ্ণা এবং দরকার পড়বে শারীরিক শক্তিও। কিন্তু একটু বেছে না খেলে এই দুটোর কোনটাই ঠিক মতো পূরণ হবে না।

রোজায় তেলে ভাজা খাবার একদম না খাওয়াই ভালো। আর যদি খেতেই হয় তাহলে খুবই অল্প পরিমাণে এবং বেছে বেছে খাওয়াই উত্তম। কারণ এসব খাবারে লাভ নেই বরং শরীরে উল্টে ক্ষতি করে। রোজায় যেহেতু গরম বেশি তাই ইফতার হতে হবে মৌসুম্বী ফল সমৃদ্ধ। এতে শরীরে জলের চাহিদাও পূরণ করবে আবার প্রয়োজনীয় পুষ্টিও পাওয়া যাবে। এর জন্য বেশি দামী দামী বিদেশি ফলের দরকার নেই। দেশি ফল যেমন তরমুজ, আনারস, লিচুর মতো দেশীয় ফল যার দাম হাতের নাগালের মধ্যে।

ইফতারের শুরুতেই অনেকে তৃষ্ণা মেটাতে এক গাদা জল খেয়ে নেয়। এটা একেবারেই ঠিক নয়। ইফতারের শুরুতে এক ঢোক জল খেতে হবে শুধু। তারপর অন্যান্য শক্ত খাবার যেমন চিড়ে ভেজানো, বা স্যুপ জাতীয় খাবার অবশ্যই খেতে হবে। এর পরে ফলমূল খাবেন। আগেই ফল খেলে গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা হবে। এছাড়াও ইফতারের শুরুতে সবার খেজুর খাওয়ার খুবই ভালো অভ্যাস এবং ভীষণ রকম স্বাস্থ্যসম্মত।

আর ইফতারের রান্না ছোলার চেয়ে কাঁচা ছোলা খাওয়া যেতে পারে। এ সময় শরীরে প্রচুর শক্তির দরকার হয়। যারা কাঁচা ছোলা খেতে পারেন তাদের উচিত কাঁচা ছোলা আগে থেকে ভিজিয়ে রেখে সেটি খাওয়া। এটি শরীরে তাৎক্ষণিক ভাবে শক্তি যোগাবে। ইফতারের আধঘন্টা পর থেকে প্রচুর পরিমাণে জল খাওয়ার অভ্যাস করুন। সঙ্গে অন্য স্বাভাবিক খাবার খান। এই সহজ নিয়ম গুলো মেনে চললেই রোজায় শরীর ভালো থাকবে, স্বাস্থ্যের দীর্ঘমেয়াদি কোন ক্ষতি হবে না।