নিজস্ব সংবাদদাতা, টিডিএন বাংলা, কলকাতা: চলমান বিশ্বে আমরা সকলেই সংশয়ে আছি, কেউ করোনা ভাইরাস নিয়ে, কেউ বর্ণবাদ নিয়ে, কেউ মৌলিক অধিকার নিয়ে আবার কেউ প্রকৃতি নিয়ে। কিন্তু সবার ভাবনায় আছে,’আমরা কিভাবে ভালো থাকবো, ভালো রাখবো।’ আর সেই ভাবনা থেকেই দুই বাংলার শিল্পীরা এগিয়ে এলেন পৃথিবীকে এক করতে। সেই প্রচেষ্টাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে থার্ড আই ফিল্মস সেই মানবিক মূল্যবোধের বিষয় নিয়েই দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে যাচ্ছে। তাদের প্রথম নির্মান ছিল ‘ভারত আমার জন্মভুমি’। এরপর একে একে বেকারত্ব সমস্যা নিয়ে শর্ট ফিল্ম, ধুমপান বিরোধী ফিল্ম এবং সামাজিক অসঙ্গতি নিয়ে ছবি নির্মান করে চলেছে এই প্রতিষ্ঠানটি।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই ফিল্মগুলো ভারত, বাংলাদেশ, মধ্যপ্রাচ্য সহ সমগ্র বিশ্বে বসবাসরত বাংলা ভাষাভাষীদের মধ্যে প্রভাব ফেলেছে। এক শিল্পী এই প্রতিবেদককে জানান, এই অবক্ষয়ের সময়ে এইসব ফিল্ম মানুষের মনে আশা জাগাচ্ছে। মানুষ মানবিক হয়ে ওঠার প্রেরণা পাচ্ছে।

মানবতা ও মানবিকতার এক অনন্য বানী নিয়ে কবি আল মাসুমের কথায় থার্ড আই ফিল্মস এবার বাংলাদেশের শিল্পী দিদারুল ইসলামের কন্ঠে নিয়ে আসছে মিউজিক্যাল ফিল্ম “হিল দ্যা ওয়ার্ল্ড”, যেখানে সঙ্গীত পরিচালনা করেছেন তরুন কম্পোজার পারভেজ জুয়েল। আর অভিনয় করেছেন পশ্চিমবঙ্গের বেশ কিছু গুণী অভিনেতা অভিনেত্রী।

ফিল্মটি নিয়ে অভিনেতা প্রদীপ দত্ত বলেন, আমরা চেষ্টা করেছি আমাদের সীমানা ছাড়িয়ে যাওয়ার। যদি পৃথিবীটা একটাই দেশ হত তাহলে ভারত বাংলাদেশ বলে তো কিছু থাকতো না। আমরা সিমাহীন ভাবেই মানবতার চর্চা করতে পারতাম। কিন্তু জাতিগত পরিচয় ও রাজনৈতিক পরিচয় আমাদের সৌন্দর্য বর্ধক না হয়ে আজ চর্চিত হচ্ছে সংকীর্ণতায়। এই সংকীর্ণতার উর্ধ্বে মানবতাকে স্থান দেয়ার লক্ষ্যেই আমরা ভারত ও বাংলাদেশ মিলে পুরো পৃথিবীর জন্য এই বার্তাটি তুলে ধরলাম।

ফিল্মটি পরিচালনা করেছেন বাংলাদেশের জনপ্রিয় চিত্র নির্মাতা এইচ আল বান্না। এই ফিল্মের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, থার্ড আই ফিল্মসের সঙ্গে এটা আমার পঞ্চম কাজ। এর আগে ভারত আমার জন্মভুমি, পরান, মেঘমুক্তি, পরগাছা, বুমেরাং নিয়ে যে কাজের অভিজ্ঞতা হয়েছে তাতে মনে হয়েছে এবারের কাজটি আগের সবগুলো কাজের চেয়ে ভিন্ন। আর মিউজিক্যাল ফিল্ম হিসাবে এটা দ্বিতীয় কাজ। সেইদিক থেকে বলতে হয় এই ফিল্মের যে গানটি নিয়ে আমরা কাজ করছি তা প্রচণ্ড রকমের সমসাময়িক ভাবনা।

তিনি আরও বলেন,’এই মুহুর্তে সমগ্র বিশ্বজুড়েই অস্থিরতা বিরাজমান। আপনারা জানেন, যে আমেরিকায় ফ্লয়েড হত্যার পর সমগ্র বিশ্ব এই বর্ণবাদ বিরোধী আন্দোলনকে স্বাগত জানাচ্ছে। এবং এটাকে ষাটের দশকের সিভিল রাইটস মুভমেন্টের পূনর্জন্ম হিসাবে দেখছে। সেই আন্দোলনে প্রথম সারিতে ছিলেন মার্টিন লুথার কিং রোসা পার্ক্স এবং ম্যালকম এক্স। সেই সময়ে মানুষ যেমন এইসব নেতৃত্বের উপর আশা ভরসা ও স্বপ্ন দেখেছে একটি নিরাপদ পৃথিবীর তেমনি আজকের তরুনদের এই জাগরনও আমাদেরকে স্বপ্ন দেখায়।’
মি বান্না আরও বলেন,’পুরো দুনিয়াতে যারা মানবতার কথা বলেন, ডেমোক্রেসি শেখান খোদ তাদের দেশেই যখন এমন কিছু হয় তখন আমরা বুঝি যে এতদিন যেসব মানবিক কথা ও মানবতার কথা আমরা শুনেছি সবই ছিল ফাঁপা। তাই মানবতাকে পুনুরুদ্ধার করতে আমাদেরকে বেশ আরো অনেকদূর হাটতে হবে। সেই পথে হাটতে গিয়ে যেন মানুষ ক্লান্ত না হয়ে পরে সেজন্যই আসলে আমাদের এই মিউজিক্যাল ফিল্মটি নির্মান।
যারা এখনো মানবতার কথা ভাবেনা তাদেরকে ভাবতে সাহায্য করবে, যারা অলরেডি ভাবছে তাদেরকে আরো সামনে এগিয়ে চলার সাহস যোগাবে আমাদের এই মিউজিক্যাল ফিল্ম।’

বাংলাদেশের জনপ্রিয় শিল্পী দিদারুল ইসলাম টিডিএন বাংলাকে জানান, এমন একটি কাজে আমি অংশিদার হতে পেরে খুব ভাগ্যবান বোধ করছি। কারন ধর্ম বর্ণ জাতভেদ নির্বিশেষে মানবতার গান গাইতে পারাটা অবশ্যই সৌভাগ্যের। আর তাও যদি হয় দেশের বাইরের পরিমণ্ডলে তাহলে তো কথাই নেই। আমাকে প্রথম যখন গানটির সুর করতে দেয়া হয় তখনই এর বানীগুলো আমার হৃদয়কে স্পর্শ করে গেছে। আর সুর দেয়ার পর যখন পারভেজ জুয়েল এর কম্পোজিশন করছিলেন তখন মনে হচ্ছিল তিনিও মিশে গেছেন এই চমৎকার মানবতাবাদী সুরের সাথে। আসলে সৃষ্টির আনন্দ তো এখানেই যে আমরা যা চাই, যা বিশ্বাস করি, যেমন ভেদাভেদহীন সুন্দর একটা পৃথিবী কল্পনা করি সেই কল্পনাটাকে সুরের মুর্ছনায় ছড়িয়ে দেয়া। আর এইচ আল বান্নার নির্মাণ সব সময়ই ভিন্ন হয়। আশা করছি এবারের এই ফিল্মটিও আপনাদের আকাঙ্ক্ষাকে স্পর্শ করে যাবে।’

থার্ড আই ফিল্মের পরিচালনা পর্ষদের অন্যতম সদস্য পশ্চিমবঙ্গের আব্দুল্লা গাজি টিডিএন বাংলাকে বলেন, যেহেতু আমরা ধরেই নিয়েছি এমন একটি ফিল্মের নির্মানে আমাদেরকে অনেক পরিশ্রম করতে হবে সেই হিসাবে এর পেছনের মানুষগুলোও অক্লান্তভাবে দীর্ঘ ২ বছর ধরে কাজ করে গেছেন। প্রতিটি শিল্পী তাদের সর্বোচ্চটাই দেয়ার চেষ্টা করেছেন এজন্য আমরা তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ। আসলে মানবতার জন্য কাজ করলে সমগ্র প্রকৃতিই আপনাকে হেল্প করবে। ঠিক একারনেই শ্যুটিং চলাকালে আমাদের যত বাধা বিপত্তি সকলই খুব সুন্দর ভাবে পার করে এসেছি। পুরো কাজটি সঠিক মানে রাখার জন্য আমরা চেষ্টার কোন ত্রুটি করিনি।”
দুই বাংলার অনন্য সৃষ্টি এটি।এই ফিল্মটি প্রডিউস করেছেন পশ্চিমবঙ্গের আজিজুল, বাংলাদেশের পরিচালক এইচ আল বান্না এবং শিল্পী দিদারুল ইসলাম।
মানুষে মানুষে ভেদাভেদ নির্মুল করে একটি শান্তির পৃথিবীর স্বপ্ন নিয়ে ফিল্মটি রিলিজ হচ্ছে ১৪ জুন ২০২০। ইউটিউবে ভার্চুয়াল প্রিমিয়ার হবে ভারতের সময় সন্ধ্যা সতটা এবং বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা।