বিশেষ প্রতিবেদন, টিডিএন বাংলা: বিয়ের আগে পাত্রী সম্পর্কে ছেলেদের যে সব বিষয় জানা দরকার তা নিয়ে টিডিএন বাংলার এই বিশেষ প্রতিবেদন। পাত্রী নির্বাচনের জন্য সাধারণত
রূপ-সৌন্দর্য, ধন-সম্পদ, বংশমর্যাদা ও ধর্মভীরুতা-  এ চারটি গুণের ওপর ভিত্তি করেই মূলত একটি নারীকে মূল্যায়ন করা হয়। তবে অভিজ্ঞ মহল বলছে, একজন মেয়ের চরিত্র ও সততাকেই বেশি প্রাধান্য দেওয়া উচিত। এতে সংসার সুখের হয়।
আবার অনেকে বলছেন, ধার্মিক মেয়েদের বিয়ে করলেই সুখী হওয়া যায়। আদর্শ গৃহ গড়ার প্রথম সোপান হলো, এ গৃহের জন্য আদর্শময়ী সতী-সাধ্বী স্ত্রী নির্বাচন করা। পাত্রী নির্বাচনের ক্ষেত্রে হজরত মুহাম্মদ (স) এর একটি বাণী দুনিয়া জুড়ে খুব প্রচলিত। নবী মুহাম্মদ (স), বলেন,‘সতী স্ত্রী এক সৌভাগ্যের সম্পদ; যাকে তুমি দেখে পছন্দ করো এবং যে তোমার মন মুগ্ধ করে, আর তোমার অবর্তমানে তার ব্যাপারে ও তোমার সম্পদের ব্যাপারে সুনিশ্চিত থাকে। পক্ষান্তরে অসতী স্ত্রী দুর্ভাগ্যের আপদ; যাকে দেখে তুমি অপছন্দ করো এবং যে তোমার মন মুগ্ধ করতে পারে না। যে তোমার ওপর মানুষের হামলা চালায়। আর তোমার অনুপস্থিতিতে তার ও তোমার সম্পদের ব্যাপারে সুনিশ্চিত হতে পারে না।’

এছাড়া আরো বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে একটি সুন্দর ও স্বার্থক দাম্পত্য জীবনের সঙ্গী নির্বাচনের ক্ষেত্রে যে সব বিষয়গুলোর প্রতিও বিশেষ লক্ষ্য রাখা উচিত।
১. পাত্রীর অতীত সম্পর্কের ব্যাপারেও যথেষ্ট ধারণা রাখুন : বিয়ের পর স্ত্রীর অতীত থেকে একজন প্রেমিক বা ভালোবাসার পুরুষ উঠে আসলে নিশ্চয়ই আপনার ভালো লাগবে না? কিন্তু সেই সম্পর্ক যদি “সারপ্রাইজ” হিসাবে দেখা দেয় বিয়ের পর, তাহলে সমস্যা। তাই আগেই জেনে রাখুন স্ত্রীর পুরনো সম্পর্কের ব্যাপারে, যেন ভবিষ্যতে এই ব্যাপারটি আর আপনাদের মাঝে দূরত্ব সৃষ্টি করতে না পারে। সবচেয়ে ভাল হয় যে সকল ছেলে বা মেয়ে বিবাহ পূর্ব অবৈধ প্রেমের সম্পর্ক রাখে তাদের পরিহার করা।
২. জেনে নিন পাত্রীর পারিবারিক ইতিহাস : শুধু পরিবারের সবার নাম-পরিচয়ই নয়, নিকট আত্মীয়দের পেশা এবং অন্যান্য জরুরী তথ্যগুলো জেনে রাখুন। সাথে এটাও জেনে রাখুন যে কোন বংশানুক্রমিক ব্যাধি আছে কিনা। পরিবারে কোন অপরাধের রেকর্ড বা অন্য কোন অসামাজিক বিষয়ের রেকর্ড আছে কিনা।
৩. জেনে নিন পরিবার গঠন ও দাম্পত্য সম্পর্কে তিনি কী ভাবেন : বিয়ের আগেই এই বিষয়গুলো পরিষ্কার করে নেয়া দরকার। কারণ সংসার করবেন আপনারা, পরিবার গঠন করবেন আপনারা। এক্ষেত্রে পরস্পরের মূল্যবোধ যদি না মেলে, সেক্ষেত্রে এই লম্বা জীবন পার করাটা খুবই কষ্টকর হয়ে দাঁড়াবে। তাই আগেই জেনে নিন দাম্পত্য সম্পর্কে তাঁর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী।
৪. পাত্রীর অসুস্থতা সম্পর্কেও জানুন : এই বিষয়টি জানার দিকে আমরা খুব একটা মনযোগ দেই না। কিন্তু নারী ও পুরুষ উভয়েরই পরস্পরের মেডিকেল হিস্ট্রি জেনে রাখা উচিত। একসাথে চলার পথে অসুখ বিসুখের আক্রমণ হবেই, জীবনে ঘটতে পারে নানান দুর্ঘটনাও। তাই দুজনেরই শারীরিক যে কোন সমস্যা ও মেডিকেল হিস্ট্রি জেনে রাখা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।
৫. পাত্রীর বন্ধুদের চিনে নিন : হবু স্ত্রীর বন্ধু বান্ধবদের সাথে পরিচিত হয়ে নিন। এতে খুব পরিষ্কার ধারণা পাবেন স্ত্রীর পছন্দ-অপছন্দ এবং তাঁর পরিচিত সার্কেল সম্পর্কে। এবং জানতে পারবেন এমন অনেক অজানা বিষয় যেগুলো অন্য কোনভাবে জানা সম্ভব না। স্ত্রীর ধ্যান ধারণার মূল্যায়ন করতে সুবিধে হবে আপনার।