নিজস্ব সংবাদদাতা, টিডিএন বাংলা, কলকাতা: ভারত অপেক্ষা করছিল তাঁর জন্য। তিনি এলেন এবং কলকাতাকে কাঁদালেন। দিয়ে গেলেন জীবনে বাঁচার মন্ত্র।

কলকাতা আন্তর্জাতিক ফিল্ম উৎসবে বুধবার সন্ধ্যা রাতে শিশির মঞ্চে প্রদর্শিত হয় দুনিয়া খ্যাত একাধিক ফিল্ম নির্মাতা ইরানের মাজিদ মাজিদির দি উইলো ট্রি। এর আগেই কলকাতায় ‘মুহাম্মদ : দ্য মেসেঞ্জার অফ গড’ দেখে আপ্লুত হয়েছিল ভারত। ১৭৮ মিনিটের এই জনপ্রিয় ছবিটি পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের বক্স অফিস কাঁপিয়েছে। ফলে মাজিদির দি উইলো ট্রি নিয়েও নতুন কিছু পাবার আশায় কলকাতার দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ ছিল। বিকেল থেকে শিশির মঞ্চের বাইরে মানুষ দাঁড়িয়ে ছিল।

অনেকে প্রবেশ পত্র না পেয়ে মন খারাপ করেন। কিন্তু কলকাতা এক অন্য ধরনের অসাধারণ ছবি দেখলো। অপ্রয়োজনীয় চরিত্র এখানে নেই। অশ্লীলতা নেই। নিজস্ব ঐতিহ্য ধরে রেখেই মাজিদি দক্ষতার সাথে ছবি তৈরি করেছেন। নায়ক নায়িকার কোমর দুলানোর নামে সাংস্কৃতিক নোংরামি করে মানুষের চরিত্র নষ্ট করার মতো কোনও উপকরণ ছবিতে নেই। হাস্যরস তৈরি করতে এখানে আনা হয়নি কোনও ভোলা মনের কার্যকলাপের অস্বাভাবিক মানুষকে। মানুষের জীবন যন্ত্রনা নিয়ে ভিন্ন স্বাদের ফিল্মটি তাই সব বয়সের দর্শক উপভোগ করেছেন।

প্রেক্ষগৃহের বাইরে এসে সব্যসাচী, দীপঙ্করদের মতো দর্শকরা বলছেন, যে প্রত্যাশা নিয়ে এসেছিলাম,তার চেয়ে বেশি কিছু পেলাম। মাজিদি মানেতো শিল্পের নতুন কিছু। সব দিক দিয়ে অসম্ভব ছবি।

আর থিয়েটার থেকে বেরিয়ে সাব্বির আহমেদ টিডিএন বাংলাকে নিজের প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে বলেন,”দৃষ্টিশক্তি ঈশ্বরের একটা খুব বড় নেয়ামত। সিনেমায় বোঝানো হয়েছে যে অন্ধত্বও চিন্তাশক্তি দিয়ে খারাবি দুনিয়া থেকে স্বর্গরাজ্য তৈরি করতে পারে, এটাও একধরনের প্রোটেকশন বলা যেতে পারে। সাধারণ জনগণ দৃষ্টিশক্তি দিয়ে যেখানে অজস্র পাপকাজ করে চলেছে। কিন্তু যখন সেই দৃষ্টিশক্তি খারাপ কাজে ব্যয় করি বা ভাল কাজে ব্যয় করিনা, ধ্বংস তখনই নেমে আসে।”

২০০৫ সালের ১১ আগস্ট মুক্তি পায় মাজিদ মাজিদির এই ছবিটি।

এখানে ইউসুউফের কাহিনী বর্ননা করা হয়েছে যিনি আট বছর বয়সে অগ্নিদুর্ঘটনায় অন্ধ হয়েছিলেন। একটি অপারেশনের পরে তিনি তাঁর চোখে দেখতে পান,নতুন করে জীবন শুরু হয়। এই ছবিটির গল্প মাজিদ মাজিদি নিজেই লিখেছেন। ৯৬ মিনিটের এই ছবিটি পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের মতো কলকাতার মানুষের চোখেও জল এনে দেয়। একটি অজানা পোকা যখন ইউসুফের লন্ডভন্ড হয়ে যাওয়া কাগজের উপর দিয়ে জীবনের গতি নিয়ে যাচ্ছিল ঠিক তখনই ভারতের দর্শক করতালি দিয়ে ইরানের এই ছবির প্রতি নিজেদের ভালোলাগা প্রকাশ করলেন।