যে বই পাঠের তৃপ্তি আনন্দ অন্যকে জানাতে ইচ্ছে করে, সে বই আমরা অন্যকে পড়তে দিই, পড়তে বলি। নিজের ভালো লাগা, এমনকি মন্দ লাগাটাও বর্ণনা করি। নিজের অনুভূতির যথার্থতা যাচাই করতে অন্যকে আহ্বান জানাই। এমন একটি বইয়ের কথা বলছি যে বইটি লিখেছেন বন্ধু প্রতিম কবি মীর রাকেশ রৌশান। তাঁর কবিতা যেগুলি বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে, তার সংকলন গ্রন্থ এটি।

কবি মীর রাকেশ রৌশানের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ ”নস্টালজিয়া”। মোট ৬৩ পৃষ্ঠার গ্রন্থখানিতে রয়েছে চমৎকার এক প্রচ্ছদ। আর এই প্রচ্ছদ অলংকরন করেছেন বিশিষ্ট চিত্র শিল্পী ও বুদ্ধিজীবি সমীর আইচ। গ্রন্থটি পাওয়া যাচ্ছে কলকাতা আন্তর্জাতিক বইমেলার “রুপালি” ৫০৬ নম্বর স্টলে। একটি কবিতা তখনই স্বার্থক হয়ে উঠে যখন সেখানে জীবনের অদেখা অনুভূতিগুলি কবির কল্পনার রং তুলিতে বাস্তব হয়ে ফুটে উঠে। সেই দিক দিয়ে বলতে হলে এই কাব্যগ্রন্থের প্রতিটি কবিতাই সফল ও স্বার্থক। আমার দৃঢ় বিশ্বাস পাঠক এখানে কবিতার নতুন স্বাদ খুঁজে পাবে। সমাজের বৈষম্য, শোষণ, পাওয়া না পাওয়ার কথা গ্রন্থটির প্রতিটা ছত্রে ছত্রে অনুরোনিত হয়েছে। যেমন -‘জমা ইতিহাসে জল ঢাললেই সাড়া দেয় বিশ্বযুদ্ধ’, ‘বিপ্লব আজ পরকীয়া প্রেমে মজেছে’।

বর্তমান ভারতের চিত্র তিনি সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন তাঁর কবিতার ক্যানভাসে-
‘বেঁচে থেকো কালবুর্গি যত,
পড়ে থাকবে গোধরা ক্ষত।’
গ্রন্থে প্রেমের কবিতা গুলি আলাদা করে না বললেই নয়। মানব মানবীর প্রেমের কাহিনীও গ্রন্থখানিকে এক অনন্য মাত্রা দিয়েছে। পরিশেষে এই কাব্যগ্রন্থে কবির নিজস্বতা রয়েছে, যা একজন সফল কবির অন্যতম বৈশিষ্ট। তাঁর এই অনবদ্য কাব্য গ্রন্থখানি পাঠকের মন ছুঁয়ে যাবে বলে দৃঢ় বিশ্বাস।

শেখ মহব্বত
শিক্ষক কান্দি, মুর্শিদাবাদ