mokter-Hossain-Mondal

টিডিএন বাংলা, কলকাতা: সে অনেক দিন আগের কথা। তখন রাস্তার দুপাশে বড় বড় গাছ থাকত, আর সেই গাছে একান্নবর্তি ফ্যামিলি হয়ে বসবাস করত ভূতেরা। তারপর শিল্প বিপ্লব হল, ভারত ছাড়ো আন্দোলন হল, গান্ধীজি উপরে গেলেন, নোবেলটা কে যেন ঝেড়ে দিল, চামেলি চাঁদে গিয়ে জল খেয়ে এল, মোদি সাব এলেন… ততদিনে ভূত গুলো মরে আবার মানুষ হয়ে গেছে। মানুষ হয়ে জন্ম নিবি, নে। গান্ধী ফ্যামিলি আছে, সৌদি রাজা, বিল গেটস, সু কি আন, ব্রুস ওয়েন, টনি স্টার্ক, নরেন্দ্র মো… থুড়ি, ওনার তো আবার ব…, মত ফ্যামিলিতে রূপোর চামচে না, সোনার চামচ মুখে দিয়ে জন্মা। কিন্তু সেই ঘি সহ্য হবে কি না হবে সেটা ঠিক করার আগেই জন্ম নিল ফিলিস্তীনে, ইরাকে, আফগানিস্তানে… আর ভারতে। ভূত তো, সাহিত্য ক্ষমা করেনি, খোদ রবি ঠাকুর তো যা নয় তাই বললেন। বেম্হদত্তী, পেত্নি ইত্যাদি ইত্যাদি। আর সঙ্গে জন্ডিস রোগে আক্রান্ত মিডিয়া। ব্যাস, জমে ক্ষীর, বিশ্বায়নের তিন হাত!

সেই ভূত, পেত্নি, রোহিঙ্গা, ফিলিস্তিনি, দলিত, চায়ের দোকানের স্কুলছুটদের নিয়ে সম্ভবত এই প্রথম এত গভীরতা এবং ভালবাসা কলমে পুরে সমস্যার ভেতরে গিয়ে দেখেছেন কবি মোকতার হোসেন মন্ডল। পেশায় সাংবাদিক। তাঁর মতে, আমরা বিশ্বের জলন্ত সমস্যা গুলোকে স্বাভাবিক বলে এড়িয়ে যায়। কেন দেখতে পাই না? তার সমাধান কী? তা নিয়ে ‘ঘন্টা খানেক’ না বকে একটা রাস্তা দেখানো হয়েছে আগামী বিশ্বকে সবার বসবাসের জন্য। আর এসবই বইতে পুরে সেটা আগামী ৫ই জুলাই ২০১৮ তে প্রকাশিত হতে যাচ্ছে কলকাতা প্রেস ক্লাবে। উদ্বোধন করবেন কলকাতার বস্তি মেয়ে আয়েশা নূর যে কিনা প্রতিকূলতাকে পিছনে ফেলে বিশ্বকে জয় করেছে তিনবার। কিন্তু সেই বই কতটা আপনার সাহিত্য-রসকে বৃদ্ধি করবে সেটা আপনার রুচির উপর নির্ভর করছে। অনেকটা ফুচকায় কতটা লঙ্কা দিলে সেটা ঝাঁল আকারে ভূষিত হবে, তেমন। তবে তাতে লেখকের কিছু যায় আসে না। বইটি পড়ে যদি কেউ পৃথিবীর ভূত গুলোকে চিনতে শুরু করেন, সেক্ষেত্রে লেখক সহ অনেকেই কৃতজ্ঞ থাকবে।