ঝিঁঝিঁ ডাকা সন্ধে

    শ্যামাপ্রসাদ ঘোষ

গ্রাম থেকে  ফিরে এসে শহরের অর্ক
যাকে দ্যাখে তারি সাথে জুড়ে দেয় তর্ক।
বলে, একেবারে চুপ! চেঁচামেচি করো না,
বলব গ্রামেরই কথা, একটুও নড়ো না।
সিটি না  ভিলেজ আমি এটা নিয়ে আজকে
বক্তৃতা দিয়ে যাব ফেলে রেখে কাজকে।
কাটিয়ে  বন্ধু- বাড়ি গত এক পক্ষে,
মাঠ ঘাট পথ বন দেখলাম চক্ষে।

জলাঙ্গী নদী তীরে পন্ডিতপুরেতে
প্রাণ আছে সবখানে দালানে বা কুঁড়েতে।
ছেলে বুড়ো প্রতিদিন নদীতীরে মাচাতে,
ঝুরি নামা বটতলে বসে দু’পা নাচাতে।
নদীটিও খুব ভালো একেবারে শান্ত,
যেন গ্রামবাসীদের আগে থেকে জানতো।
কারো কারো খোঁজ নিতে উঠে আসে উঠোনে,
বলে, ওরে কাছে আয়, এই মাছ দুটো নে।

গাছ- ভরা বাড়ি আছে,ধুলো আছে রাস্তায়,
বুনোফুল ফুটে আছে দিঘিটার পাশটায়।
স্কুলও আছে ,বইও আছে, খুব বেশি পড়া নেই
ছেলে আছে পিলে আছে, কোনো হামবড়া নেই।
পুবে- রাঙা ভোর আছে, ঝিঁঝিঁ ডাকা সন্ধে,
খেলা আছে, ধুলা আছে, দাদাদের বোনদের।
এই ভাবে গ্রামকথা শেষ যেই অর্কের ,
চেয়ে দেখে পাশে কোনো লোক নেই তর্কের।
কী করেই থাকে বলো, এই যদি গ্রাম হয়
ভালো করে ভেবে দেখো কত তার দাম হয়।
সব্বাই বলে না কি গ্রামকেই চাচ্ছি ?
ঝিঁঝিঁ ডাকা সন্ধেটা খুঁজতেই যাচ্ছি।