জীবন দর্শন

সমীরণ খাতুন

কুড়িটা বসন্ত প্রেমকে বুকে সযত্নে লালন করেছি;

প্রিয়তম! তোমাকে নিয়ে স্বপ্নের বাসর গড়েছি।

বসন্তের কত শিমূল, পলাশ, কৃষ্ণচূড়ার লালচেলি,

সবুজের চির তারুণ্যে ভরা যৌবন তোমাকে উৎসর্গ করেছি।

ক্ষণিকের অর্থের অহঙ্কারে, দর্পভরে তুমি করেছ অবহেলা,

আমার অকৃত্রিম ভালোবাসা নিয়ে করেছ শুধু খেলা।

তোমার সংসারে উজাড় করে দিয়েছি আমার সর্বস্ব,

তবুও পাইনি মন তোমার, হারিয়েছি আমার নিজস্ব।

মুখোশের অন্তরালে থাকা মানুষদের চিনেছি হায়না রূপে,

চিনেছি ধর্মের ভালোমানুষির আড়ালে থাকা নগ্নতাকে।

সকল বন্ধন ছিন্ন করে মুক্ত করতে চেয়েছি নিজেকে;

ব্যর্থ আমি, আরও নিষ্পাপ জীবন জড়িয়ে আছে আমাকে।

তোমার নিষ্ঠুর রূঢ় ব্যবহারের জাল ছিন্ন করতে পারিনি আমি,

তোমার লোভের রাজত্বকে ধ্বংস করতে ব্যর্থ আমি।

স্বপ্ন দেখলাম, ফেসবুকে নতুন বন্ধু পাবো,

সুখেদুঃখে একাত্ম হয়ে জীবন কাটিয়ে দেবো।

এ কোন মরিচীকা, ফেসবুকের গোলকধাঁধা,

মাতৃসমা হলেও তুমি নারী, কেউ মানেনা বাঁধা।

ফেসবুকে নারী মানে বেশিরভাগ ভাবে যৌনতা,

ছলে-বলে কলে-কৌশলে তোমাকে করবে হেনস্থা!

প্রতিবাদ যদি করতে চাও তোমাকে শুনতে হবে গঞ্জনা।

অনুভব করো ‘নারী’ তুমি, উন্মাদ করছি নাতো তোমাকে স্পর্শে!

যদি বলো, চোখের, কানের, দিলের যেনা হবে,

বলবে তুমি, ছাড়ো এসব পরে ক্ষমা চেয়ে নেবে!

সাগরতটের বেলাভূমিতে সারাদিন মুক্ত খুঁজে ফিরেছি,

বেলা শেষে ঝুলিতে দেখি বৃথা সবই, শুধু নুড়ি পাথর ভরেছি।

আর নয় তব অনেক হল এ সংসারের লীলাখেলা,

পাথেয় কিছু সঞ্চয় করতে হবে, হল যে অনেক বেলা!

অচেনা অজানার ভিড়ে হারাতে দেবোনা আমি নিজেকে,

সকল পঙ্কিলতামুক্ত হয়ে প্রতিষ্ঠিত হতেই হবে তবে আমাকে।