yemen Child

জীবন্ত কঙ্কাল

শ্যামাপ্রসাদ ঘোষ

যুদ্ধ বিধ্বস্ত ইয়েমেনের
সাত বছরের আমাল হোসেন
ফেসবুকের জীবন্ত কঙ্কাল ।
তার ছবি দেখল তারাভরা
মানুষের পৃথিবী।
এখান থেকেই প্রশ্নের শুরু।
কেন দেখল?
কে দেখালো, কেনই বা দেখালো?
দেখানো কি উচিত হলো?

এ তো শুধু অন্ধকার,
এর মধ্যে আলো কোথায়? ইতি কোথায়?
এই অন্ধকার দেখে হয়ত
শরৎ শিউলি ঝরানো বন্ধ করবে।
হেমন্তের জসীমউদ্দীন
ধানের ঝম ঝম শ ব্দের মধ্যে
সীতার অলংকারের ঝন ঝন শুনবে না।
পোষ ফাগুনের পালার মধ্যে
রবীন্দ্রনাথ তুলে ধরবে না
চির জীবনের গানের ডালা।
বনে বনে রং ছড়াবে না
নজরুলের আগুনরাঙা
পলাশমাখা বসন্ত।
আশরাফুল ইসলাম শিমুল
লিখবেন না – – জীবন্ত শালিখেরা
ঘাস ফড়িংয়ের জন্য
খুঁজে চলেছে গ্রীষ্মের দুপুর।
মন্দাক্রান্তা ছন্দে
আকাশে উড়বে না কালিদাসের মেঘদূত।

তাহলে…?
কেন এই ছবি দেখবে চোখ?
কী লাভ দেখে?
এমন ভাবনার বৃত্তের মধ্যে যখন রয়েছি
তখন চরাচরের অন্ধকার ভেদ করে যেন
দৈববাণী উঠে এসে বলল,
ইতি আছে, ইতি আছে।
পৃথিবীর সমস্ত সম্পদ দুহাতে নিয়ে
যে কতিপ়য় মানুষ হল্লা করছে
ইয়েমেন তৈরি করছে, সিরিয়া তৈরি করছে,
এই ছবি দেখে তাদের একসময়
কেরলের বন্যার কথা মনে পড়বে,
এই ছবি তাদের দেখাবে
অন্য একটা ভয়ংকর দৃশ্য
যে দৃশ্যে আছে রাশি রাশি মানি
আর রাশি রাশি জল
শুধু কোনো খাদ্য নেই,
শুধু কোনো খাদ্য নেই।